৫:৫৯ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার | | ১৯ সফর ১৪৪১




নুসরাত হত্যায় সেই ওসি বরখাস্ত

১০ মে ২০১৯, ১০:০১ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : ফেনীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সোনাগাজীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  

বৃহস্পতিবার সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

পুলিশ সদর দফতরের এআইজি মো. সোহেল রানা বিষয়টি জানিয়েছেন।  

তিনি জানান, পুলিশ সদর দফতরের তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। 

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, মাদরাসাছাত্রী রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ১৩ এপ্রিল ডিআইজি এসএম রুহুল আমিনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  তদন্ত কমিটি ২ মে প্রতিবেদন পুলিশ সদর দফতরে জমা দেয়।  

ফেনীর এসপি জাহাঙ্গীর আলম সরকার এবং সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন, এসআই ইকবাল ও এসআই ইউসুফের গাফিলতির কথা উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।  তদন্ত প্রতিবেদনের

সুপারিশ পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।  সংশ্লিষ্ট ইউনিট অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।  ফেনীর পুলিশ সুপারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজির মাদরাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার দায় স্বীকার করে গত ২৮ এপ্রিল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ওই মাদরাসাটির অধ্যক্ষ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজদৌল্লা।  

নুসরাত হত্যা মামলায় এ নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ সহ ৯ জন ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন।  জবানবন্দি দেয়া অপর ৮ জন হলেন- নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদির ও জোবায়ের আহমেদ। 

শ্লীলতাহানির অভিযোগে নুসরাতের মায়ের করা মামলায় গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষ সিরাজদৌল্লাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  এর পর মামলা তুলে নেয়ায় অস্বীকৃতি জানালে গত ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষা চলাকালে মাদরাসা ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে এক নারীসহ মুখোশধারী ৪-৫ জন নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।  

এর পর ৯ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।  ১০ এপ্রিল আদালতে হাজির করে পুলিশ তার ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শরাফ উদ্দিন আহমেদ সিরাজকে ৭ দিনের রিমান্ডে পাঠান। 

এরইমধ্যে টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আইসিইউতে মারা যান মাদরাসাছাত্রী নুসরাত।  

এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামালা করলে পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টটিগেশন (পিবিআই) এখন পর্যন্ত এজহারভুক্ত ৭ আসামিসহ মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করে।  গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ১৫ জনকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।