৪:৪২ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ৪ সফর ১৪৪০


নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে ঈদ করবেন রিজভী

০৭ জুন ২০১৮, ০৪:৪৮ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : আসন্ন ঈদুল ফিতরেও নয়াপল্টনের কার্যালয় ছেড়ে বাসায় ফিরবেন না বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী।  কার্যালয়েই ঈদ করবেন তিনি।  গ্রেফতার এড়াতে এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিনে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত রিজভী দলীয় কার্যালয়ে থাকবেন বলে জানা গেছে। 

গত ২৮ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে ফেরার পথে গ্রেফতার হন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।  ওই বৈঠকে রুহুল কবির রিজভীও ছিলেন।  গয়েশ্বরের গ্রেফতারের খবর শুনে নয়াপল্টন কার্যালয়ে গিয়ে ওঠেন রিজভী।  এরপর আর কার্যালয় থেকে বের হননি তিনি। 

কার্যালয়ে থাকা প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেত্রী খালেদা জিয়া কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে রয়েছেন।  তাকে ছাড়া আমাদের ঈদ আছে নাকি! ইনশআল্লাহ, নেত্রীকে মুক্ত করে ঘরে ফিরবো। ’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সরকার জাল নথি তৈরি করে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে তাকে আটকে রেখেছে।  নেত্রীকে বন্দি রেখে আমি আত্মগোপনে থাকতে পারি না।  তাই গ্রেফতার হলে এখান থেকেই হবো। ’

রিজভী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের আমলে কোনও রাজনীতিবিদ তার স্বাভাবিক জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন না।  প্রতিনিয়ত হামলা-মামলার শিকার হচ্ছেন।  আমিও আমার স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পাচ্ছি না। ’

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে প্রায় ৪ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেও আরও তিন মামলায় গ্রেফতার থাকায় এখনও মুক্তি পাননি তিনি।  এরমধ্যে কুমিল্লার হত্যা ও নাশকতার দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।  ফলে ঈদের আগে আর মুক্তি মিলছে না খালেদা জিয়ার।  গত ৩০ মে ছিল উচ্চ আদালতের শেষ কার্যদিবস।  ঈদের ছুটির পর খুলবে ২৪ জুন। 

রিজভীর স্ত্রী আনজুমান আরা আইভি পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবরে।  সরকারি চাকরিজীবী আইভি প্রায়ই সাপ্তাহিক ছুটির দিনে নয়াপল্টনে গিয়ে স্বামীর সঙ্গে দেখা করেন।  রিজভী বাসায় না ফিরলে ঈদের দিনও আইভি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নয়াপল্টনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করবেন। 

পরিবার সম্পর্কে রিজভী বলেন, ‘আমার রাজনৈতিক সংগ্রামকে তারা (পরিবার) কখনও নিরুৎসাহিত করেন না।  এ নিয়ে তারা হতাশও নন।  বরং তারা আমাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করেন।  যেহেতু আমার স্ত্রী চাকরি করেন, তাই ছুটির দিনগুলোতে সময় পেলে এখানে এসে দেখা করে যান। ’

রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে থাকেন কয়েকজন কর্মচারী।  তারা জানান, কার্যালয়ের ভেতরেই নিয়মিত রান্না করা হয়।  তবে ইফতারি বাইরে থেকে আনা হয়।  এছাড়াও রিজভীর স্ত্রী ও অন্য নেতারা বাসা থেকে খাবার রান্না করে নিয়ে আসেন। 

এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘কার্যালয়ে খাবার রান্না করা হয়।  মাঝে মাঝে আমার স্ত্রী বাসা থেকে খাবার নিয়ে আসেন।  মন চাইলে অন্য নেতারাও অনেক সময় বাসা থেকে খাবার আনেন। ’

কার্যালয়ে কীভাবে সময় কাটে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং কার্যালয়ে আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়েই সময় কেটে যায়।  আর রাতে নেতাকর্মীরা চলে গেলে উপন্যাস আর রাজনৈতিক বই পড়ে সময় কাটাই। ’

রিজভী কার্যালয়ের বাইরে না গেলেও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে তার। 

পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে দলের মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতে অংশ না নিলেও কার্যালয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন এবং গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠাচ্ছেন দলের দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা রিজভী।  এ সময়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়াপল্টনকেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। 

২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের সময়েও রুহুল কবির রিজভী প্রায় দুই মাস নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেছিলেন।  পরে তাকে কার্যালয় থেকেই গ্রেফতার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।