২:৪৩ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২০, শনিবার | | ৩ শা'বান ১৪৪১




পাকিস্তান যেতে মুশফিকের ওপর চাপ, বাদ দেয়ার হুমকি

০৩ মার্চ ২০২০, ০৯:৪০ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: শুরু থেকেই নিজেকে পাকিস্তান সফর থেকে দূরে রেখেছেন মুশফিক।  পরিবারের অমতে ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের উপর হামলা হওয়া দেশটিতে যাবেন না, বহুবার বলেছেন মুশফিকুর রহিম। 

আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছেন বিসিবিতে।  কিন্তু তারপরও মুশফিককে পাকিস্তান সফরে চাই- ই চাই বিসিবির। 

একটি সূত্র থেকে পাওয়া খবর, এবার তাকে দেয়া হয়েছে দল থেকে বাদ দেয়ার হুঁশিয়ারি।  কিন্তু তারপরও নিজের অবস্থানে অনড় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। 

দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় বাংলাদেশ পাকিস্তান সফর।  বিপিএল চলাকালীন সাংবাদিকরা জাতীয় দলের নিয়মিত অনেক ক্রিকেটারের কাছেই জানতে চান পাকিস্তান সফরে তারা যাবেন কি না।  অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন, অনেকে বল ঠেলে দেন বিসিবির কোর্টে।  তবে একজন মুশফিকুর রহিম একবার নয়, গণমাধ্যমে দুইবার জানান, তার পরিবার চায় না তিনি পাকিস্তান সফরে যান।  এ কারণে তিনি সেই সফর থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।  সুযোগটা করে দিয়েছিলো বিসিবিই।  ক্রিকেট বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপন থেকে শুরু করে একাধিক বোর্ড পরিচালক গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন কোনো ক্রিকেটারকে পাকিস্তান সফরে যেতে চাপ দেবে না বিসিবি। 

কিন্তু পাকিস্তানে একটি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভরাডুবির পর নিজেদের অবস্থান পাল্টায় বিসিবি।  বিভিন্নভাবে চাপ দেয়া শুরু হয় মুশফিককে।  এমনকি গেল সপ্তাহে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে জয়ের পর বিসিবি সভাপতি মুশফিককে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করাও বাদ রাখেননি। 

তিনি বলেন, মুশফিকের পরিবারের অন্য সদস্য যদি পাকিস্তান সফরে যায় তাহলে মুশফিকের যেতে সমস্যা কোথায়।  এ প্রসঙ্গে মুশফিকের পরিবারের সদস্য বলতে তিনি ইঙ্গিত করেন মাহমুদউল্লাহকে।  তবে মুশফিকের ম্যানেজারকে (একই সঙ্গে যিনি সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন) দেয়া সাক্ষাৎকারে আবারও বলেন পাকিস্তানের যাবেন না তিনি। 

এরপর ভিন্ন পন্থায় হাঁটে বিসিবি।  মুশফিককে দেয়া হয় টোপ।  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চলমান ওয়ানডে সিরিজই অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফীর শেষ।  এরপর নতুন অধিনায়ক নির্বাচন হবে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য বোর্ড সভায়।  ২০১৪ সালে যার কাছ থেকে ওয়ানডে নেতৃত্ব কেড়ে নিয়ে মাশরাফীকে দেয়া হয় দায়িত্ব, সেই মুশফিককে ওয়ানডে অধিনায়ক করার আলোচনা হয় বিসিবিতে। 

প্রস্তাব দেয়া হয় সরাসরি মুশফিককেও।  তবে তিনি রাজী হন নি অধিনায়ক হতে।  কোনো উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত তাকে দল থেকে বাদ দেয়ার হুমকি দেয়া হয়।  বোর্ড সভাপতির এই বার্তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে মুশফিককে।  তবে এত কিছুর পরেও নিজের অবস্থান থেকে সড়ে আসেন নি ক’দিন আগেই ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকানো মুশফিক।  তবে সভাপতির সঙ্গে একমত নন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।  জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এখনো সিরিজ জয় নিশ্চিত না হওয়ায় তিনি রাজি নন কোনো ঝুঁকি নিতে।  সিরিজ জয় নিশ্চিত হলে শেষ ওয়ানডেতে দলের বিকল্প খেলোয়াড়দের পরখ করে নেয়ার পক্ষেই মত হেড কোচের।  পাকিস্তানের বিপক্ষে এপ্রিলের ৩ তারিখ করাচিতে অনুষ্ঠিত হবে একমাত্র ওয়ানডে।  এর একদিন পর একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট অনুষ্ঠিত হবার কথা।