২:৪২ পিএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


পত্নীতলায় জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

১২ জুন ২০১৮, ০২:২৪ পিএম | সাদি


দিলিপ চৌহান, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি : জমে উঠেছে পত্নীতলায় এবারের ঈদের কেনাকাটা।  ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই মার্কেট গুলোতে কেনাবেচা জমে উঠছে।  ক্রেতাদের ভিড়ে মার্কেটের দোকান গুলো ঠাসাঠাসি।  এদের মধ্যে নারী ও শিশু ক্রেতার সংখ্যাই বেশী। 

এরই মধ্যে বিপনী বিতান গুলো ক্রেতাদের আকৃষ্ঠ করার জন্য রকমারী পসরায় সাজানো হয়েছে।  রেডিমেট কাপড়ের দোকান গুলোয় ছেলে, মেয়ে ও শিশুদের জন্য এসেছে নানা নামের ও দামের পোষাক।  নারী, শিশু এবং তরুনী ক্রেতারা যেন পোষাকের দোকান গুলো দখল করে নিয়েছে। 

তাদের পছন্দের পোষাক খুঁজে বের করে দিতে দোকানীরা হিমশিম খাচ্ছেন।  এবারের কেনাকাটায় নারী, শিশু এবং বিশেষ করে ফ্যাশন সচেতন তরুনীরাই সবচেয়ে বেশী এগিয়ে রয়েছে।  সেই সঙ্গে পিছিয়ে নেই পুরুষ এবং তরুণরাও।  তরুনীদের পছন্দের পোষাক এবার গাউন, ভজ গবিন্দ, বাহুবলী, বাজিরাও মাস্তানি, রাখী থ্রি পিচ, পাকিজা ড্রীম লন, সহ আরো নানা নামের দেশী বিদেশী থ্রি পিচ।  তরুনদের রঙ্গিন পাঞ্জাবী এবং শিশুদের তানসী ফ্রক সহ রকমারি পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। 

সারেজমিনে বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, এবার ঈদে পত্নীতলায় নতুন আকর্ষণ মেয়েদের হাল ফ্যাশনের গাউন, ভজ-গবিন্দ পোষাক বিক্রি হচ্ছে  ১৫শ থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত।  এছাড়া মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের থ্রি-পিস ১ হাজার থেকে শুরু করে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।  আর শাড়ির দাম ৮’শ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে।  আর ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা ১২’শ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে।  শেরওয়ানি বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। 

ঈদ যতো ঘনিয়ে আসছে রেডিমেট পোষাক, শাড়ির দোকান, পাঞ্জাবীর দোকান, ছিট কাপড়ের দোকান, টেইলার্স, হকার্স মার্কেট, প্রসাধনী সহ জুতার দোকান সব জায়গাতেই আগের তুলনায় যেন ক্রেতাদের ভীড় ততোটাই বাড়ছে।  সাধ আর সাধ্যের মধ্যে না হলেও মানিয়ে নিয়ে চলছে এবারের ঈদের কেনাকাটা। 

এই ঈদে এসেছে বেশ কিছু নতুন নামের শাড়ি।  মনিপুড়ি, ঢাকাই রেশম জামদানী, তোষর জামদানী, কাতান বেনারশী, মনিপুড়ি কাতান, সাজিয়া সাওয়ারী, আজিজা জামদানী, টিসু লোন শাড়ী, ব্লক শাড়ি, নাসা শাড়ী, কুচি জর্জেট, লেহেঙ্গা শাড়ী, রাশি, চন্দ্রি, কুমকুম সহ বাহারি নামের শাড়ি।  আর ঢাকাই জামদানী, টাঙ্গাইল সিল্ক, রাজশাহী সিল্ক, পিওর সিল্ক, জামদানী তসর সিল্ক, পাকিস্তানী জর্জেট তো আছেই।  এসব শাড়ি নাম ও প্রকার ভেদে মূল্য নির্ধারন করে রেখেছেন দোকানীরা। 

আলম ক্লথ ষ্টোরের স্বতাধীকারী শামসুল আলম, সাদেক বস্ত্রালয় এন্ড ঝলক ফ্যাসনের আলহাজ্ব আফতাব হোসেন, রকি ক্লথ ষ্টোরের রকি, ভারতী ক্লথ ষ্টোরের সত্বাধীকারী গৌরাঙ্গ ও প্রদীপ এন্ড ব্রাদার্স, আফতাব ক্লথ ষ্টোরের সত্বাধীকারী আফতাব হোসেন, মহব্বত গার্মেন্টসের সত্বাধীকারী দেওয়ান মুস্ফিকুর রহমান জানান, তাদের দোকানে নতুন আকর্ষণ মেয়েদের হাল ফ্যাশনের গাউন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫’শ থেকে ১০ হাজার, ভজ-গবিন্দ, কিরনমালা থ্রি-পিস ১ থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। 

ছোটাদের পোষাক বিক্রি হচ্ছে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং বড়দের আরো বেশি।  সুতি লন জিপসী ১৫শ টাকা থেকে ৮ হাজার টাকা, লেহাঙ্গা শাড়ি ২ থেকে ১৫ হাজার টাকা, মহিনী কাতান ২ থেকে ৫ হাজার টাকা, টিসু কাতান ১২শ’ থেকে ৪ হাজার টাকা।  এবারে মেয়েদের পাখি থ্রি প্রিস বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার দামে।  টপস্ লেহেঙ্গা, বড়দের দেশী থ্রি পিচ, পাকিস্তানি থ্রি পীচ প্রকার ভেদে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  ছেলেদের শর্ট ও লং পাঞ্জাবী ১৫’শ টাকায়, শর্ট ও লং শার্ট ৭’শ থেকে ১৮’শ টাকায়।  টি শার্ট ৭’শ থেকে ১৫’শ টাকায়, শিশুদের পাঞ্জাবী ২শ থেকে ২হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  এবারে খাকি প্যান্ট, চায়না, কাতুয়া প্যান্ট বেশি বিক্রি হচ্ছে।  এসব প্যান্টের মূল্য ৫শ টাকা থেকে ২ হাজার ৫শ টাকা, জিন্স প্যান্ট ১হাজার থেকে ২হাজার টাকায়। 

দোকানীরা জানান গতবারের চেয়ে এবারে কাপড়ের দাম তুলনামূলক একটু বেশী।  আর তাই এবারে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পছন্দের পোষাক ক্রয় করা একটু কষ্ট সাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। 

প্রসাধণী ও জুতার দোকানেও শুরু হয়েছে ক্রেতাদের ভীড়।  সারাবছর চাহদিা থাকলওে ঈদে নয়া জুতার ব্যাপারে সবাই একটু বেশিই সচেতন থাকেন।  আর তাই ঈদের সাজে পোশাকরে সাথে চাই মানানসই জুতা।  বিভিন্ন ডিজাইনের নতুন পোশাকরে সঙ্গে মিল রেখে জুতা কিনতে দোকান গুলোতে এখন উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।  দিন যত এগুবে জুতা বিক্রি ততোই বাড়বে বলে মনে করছনে বিক্রেতারা। 

অন্যদিকে প্রসাধণীর দোকান গুলোতে মেয়েদের মেহেদী ও নানা রকম কসমেটিকস কেনার উপচে পড়া ভীড়।  পাশাপাশি টুপি ও আতরের দোকানেও রয়েছে ক্রেতাদের ভীড়।  টেইলার্স গুলোতে অর্ডার নেয়া শেষ।  তবে ডিপার্মেন্টাল ষ্টোর সহ মুদীর দোকান গুলোতে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্য সহ সেমাই-চিনি, খেজুর, নুডলস কেনার ভীড় একটু বেশী লক্ষ করা গেছে। 

দরিদ্র মানুষের একমাত্র অবলম্বন হকার্স মার্কেট ও ছোট বিপনি বিতান গুলো।  তবে এবার অন্যবারের তুলনায় এসব দোকান গুলাতে বিক্রি একটু কম।  কারন হিসাবে কয়েকজন দোকানি বলেন ধানের দাম কিছুটা কম হওয়ায় এবারে কৃষি নির্ভরশীল এই এলাকার মানুষদের ঈদের বাজার কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে।  তবুও ঈদের আনন্দ থেকে মানুষ যেন পিছিয়ে নেই।  সকলেই তাদের সাধ্য অনুযায়ী ঈদকে সামনে রেখে পরিবারের জন্য বাজারে নেমে পড়েছে। 

এদিকে দোকানীরা বলছেন, ১০ রমজানের পর থেকেই বেচাকেনা জমে উঠেছে।  এখন শুধু মহিলা, শিশু এবং তরুন-তরুনীদেরই ভিড় বেশী।  তাদের মতে, ব্যবসা এবার ভাল হবে।