১১:৫৭ পিএম, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউস সানি ১৪৪০




পেনাখালী গ্রামে বাল্যবিবাহের হীরিক ৭ মাসে ১০ স্কুল পড়ুয়া মেয়ের বিবাবহ

২৯ জুলাই ২০১৮, ০৪:৪২ পিএম | জাহিদ


দেলোয়ার হোসাইন, পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার পেনাখালী গ্রামের বাল্যবিবাহর হীরিক  পড়েছে।  গত ৭ মাসে ১০ স্কুল পড়ুয়া মেয়ের বাল্যবিাবহ সম্পন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।  জানা গেছে উপজেলার ২নং মালিখালী ইউনিয়নের পেনাখালী গ্রাম ও মধুখালী গ্রামে বাল্য বিবাহের ঘটনা গুলো ঘটেছে। 

স্থানীয় একাধীক সূত্রে জানা যায়,  বাল্যবিবাহের শিকার কনেরা স্থানীয়  আলহাজ্জ তাহের উদ্দীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী।  ২০১৮  এর জানুয়ারী হতে জুলাই পর্যন্ত ৭ মাসে  স্কুলে পড়ুয়া পেনাখালী গ্রামের হাফিজ সেখ এর কন্যা জান্নাতি, শামসু সেখ এর কন্যা আমেনা, কাওছার সেখ এর কন্যা কাজলী, হেলাল এর কন্যা সুমাইয়া, ছত্তারের কন্যা হামিদা, তোফাজ্জলের কন্যা আমেনা, ছত্তার কবিরাজ এর কন্যা সুমাইয়া, মান্নান এর মেয়ে মিম ও তার ছোট বোন এবং একই স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী রুনা বলে জানা যায়। 

স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুবাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং বলেন বিবাহিত ওই সকল মেয়েদের অবিভাবকরা  মেয়েদের গোপনে বিবাহ দিয়েছে।  আমাদের কাছে সংবাদ আসলে আমার তৎখনিক ওই সকল মেয়েদের স্কুল থেকে বহিস্কার করে দেই এবং স্কুলের উপবৃত্তির তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দেই।   অপরদিকে ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুমন মন্ডল মিঠুর সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি এরিয়ে যান, এবং বলেন অবিভাবকরা যদি সঠতামি করে  বাল্য বিবাহ দেন তাহলে প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। 

এ দিকে উপজেলা মহিলা বিয়ষক কর্মকর্তার সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান স্থানীয় প্রশাসন চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা এ বিষয়ে যদি আমাদেরকে সহায়তা না করে সময় মত আমাদের সংবাদ না দেয় আমরা কি ভাবে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খবর পাব, তিনি আরো বলেন এলাকার কিছু প্রভাবশালী অসাধু লোকজন এ বাল্যবিবাহ দিয়ে ছেলেমেয়েদের অকালে জীবন ধ্বংশ করছে। 

নাজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব নজরুল ইসলাম খানের সাথে এ বিষয়ে নিয়ে কথা বললে তিনি  জানান নাজিরপুর উপজেলাকে ২৬/০৪/২০১৭ ইং তারিখ জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম শেখ বাল্য বিবাহ মুক্ত ঘোষণা করেছেন কিন্তু এলাকায় কিছু অসাধু লোক কর্তৃক এ বাল্য বিাবহ হচ্ছে উপজেলায় প্রশাসনে যারা নিয়োজিত আছেন তারা যদি সরকারের এ আদেশকে এড়িয়ে যান তাহলে এ বাল্য বিাবহ প্রতিরোধ হবে না। 

যারা প্রশাসনে নিয়োজিত আছেন তাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।  তাহলেই প্রতিরোধ হবে বলে মনে করেন।