২:১৯ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০, বুধবার | | ৯ রবিউস সানি ১৪৪২




পবিত্র "রমজানে"-দরিদ্রের চাপাকান্না দূর হোক

১৯ এপ্রিল ২০২০, ০১:০৮ পিএম |


এম.শাহীদুল আলমঃ আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী যে, আমাদের জন্ম দুনিয়ার সবচেয়ে গরীব দেশ " কঙ্গো"-তে হয়নি।  

যে দেশটিতে অনাহারে নিত্যদিন মানুষ মারা যায়।  

কঙ্গোর রাস্তায় রাস্তায় অনাহারের কারণে ২০শতাংশ আর ৪০শতাংশ মানুষ আধাবেলা খেয়ে বাঁচে সে তুলনায় আমরা অনেক অনেক ভালো অবস্থানে আছি।  

আমাদের সেই অনাহারী আর কঙ্কালের মতো হাড্ডিসার দেহ যা দেখলে দ্বিতীয়বার দেখতে ইচ্ছে করবেনা আর আফসোস হবে এমন পরিস্থিতিতে অন্তত আমাদের রাখেনি।  

হাজার হাজার লোক রয়েছে যারা সামান্য কষ্ট দেখলে সাহায্যের হাত বাড়ায় এর চাইতে সুখের আর কি আছে? অভাব সবার থাকে, কারো অভাব সাময়িক আর কারো অভাব প্রতিদিন।  

অভাবের তাড়নায় হলো যতো অপকর্মের মূলকারণ যাকে আমরা দারিদ্র বলি।  

আর বিশ্বব্যাংকের মতে দারিদ্র হলো.....যার দৈনিক আয় ১৪৮ টাকার কম অর্থাৎ ১দশমিক ৯০ডলার।  এই ১৪৮ টাকার কম যারা দৈনিক আয় করে থাকেন তাদেরকে দারিদ্র্য বলে গণ্য করা হয়।  

কিন্তু আমাদের এই দেশে দৈনিক আয় করে তার অধিক এমন লোকের সংখ্যা অনেক তবে কর্মক্ষেত্র অপ্রতুলতার কারণে, কর্ম না করেও বেঁচে থাকতে অভ্যস্ত এমন লোকও কম নয়।  

আমাদের স্বভাবের পরিবর্তন করতে পারলে অভাব-দারিদ্রতা বহুলাংশে কমে আসবে।  একদিন আয় বেশি আবার একদিন কম তাই বলে সবি খেয়ে শেষ করে দিব এমনতো হয়না। ভবিষ্যতের জন্য আর কোনো সংকটময় মুহূর্তের জন্যও তো কিছু সঞ্চয় করতে হয়।  

শুধু অপরের উপর নির্ভর করলেওতো হবেনা। অনেকের এমন ধারনাটি পোষণ করে আর পরনির্ভর জীবনে রাজার মতো চলার স্বপ্ন দেখে,কথা বলার ধরণও ভিন্ন।  

মনেহয় না তার অভাব আছে আর থাকলেও মাথাব্যথা নেই এমন লোকগুলো এইভাবেই থাকবে পরিবর্তন হবেনা কিন্তু সবকিছু ভুলে একমাত্র চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার পরিবার নিয়ে।  

মনেহয় সেটাকে দূর্বলতা ভেবে চলাফেরার ভাবটা এমন হয়।  

এতোকিছুর পরেও সবভুলে মানুষ নামের সত্ত্বাকে সমাজের মানুষকে বুঝাতে ঐসব লোকদের সাহায্য করতে মনে কার্পণ্য থাকেনা তাঁরাইতো সত্যিকারের মানুষ।  

বিশ্বখ্যাত হিল্টন হোটেল চেইনের প্রতিষ্ঠাতা "কনরাড হিল্টন  বলেন, "সফল মানুষেরা কাজ করে যায়। তারা ভুল করে, ভুল শোধরায় কিন্তু তাঁরা হার মানেনা"। 

 তারা তাদের মতো করে নিজস্ব বিবেকবুদ্ধি দিয়ে জীবনের গতি সঞ্চার করে, ভালোমন্দের বিচার করে কারো প্ররোচনায় না পরে সুষম বন্টনের মাধ্যমে এগিয়ে চলে।  সে চলার পথের পাথেয় হয়ে সবাইকে সাথে নিয়ে নিজের উদ্যোগকে সফল করতে সবাই ঝাপিয়ে পড়ে।  

মহৎকর্মকে সবাই স্বাগত জানাই আর সেই  সৎকর্মে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত থাকে।  

দারিদ্রতার কারণে মানুষের মাঝে হতাশার চাপ বেড়ে চলে, না পারে কাউকে শেয়ার করতে আবার লোকলজ্জার কারণে মুখফেটেও বলেনা। আর একটা ধারণা পোষণ করে যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের কাছে চলার মতো সামর্থ্য থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত অন্যের দারস্থ হওয়ার মনমানসিকতা থাকেনা, অপারগ অবস্থায় দারস্থ হতে বাধ্য হয়।  

আয়ের উৎস যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন শতো মিষ্টি কথাও তিতা লাগে।  আজ ঘরবন্দী মানুষগুলো কেমন কিভাবে কাটাচ্ছে জানা নেই, শুধু জানা আছে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে সচেতন হয়ে চলতে। 

 হাড়িতে অন্নদাতা অন্ন পৌঁছাতে সদা জাগ্রত তাসত্ত্বেও সবার নিকট আদৌ যাচ্ছে কি? যাঁরা এই থেকে বঞ্চিত তাদের দুঃখ প্রকাশ কার কাছে করবে? তাদের কথা শুনে সহায়তা পৌঁছে দেবার লোক খুবই নগন্য শুধু আশার অসার বাণী ছুড়ে চলে আসবে।  

যদি যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুনজরে না পড়ে তাহলে যে করোনায় মারা যাওয়ার আগে হাজার হাজার লোক চাপাকান্না করতে করতে অনাহারে মরবেনা? সেটা কখনো না হোক, আর সামনের দিনগুলো আরো ভয়ানক পরিস্থিতিতে পার করতে হবে কারণ আকাশের বৈরী আবহাওয়া আর কালবৈশাখীর ছোবল দেখা দিবে এই মাস গুলোতে বড় অসহায়ত্ব জীবন অতিবাহিত করা খুবই যন্ত্রণাদায়ক বটে। 

স্বার্থের মধ্যে সকলের সহযোগিতায় হয়তো অন্তত থেকে দোয়া আর জীবন বাঁচবে আল্লাহর মকবুল বান্দার, যারা সর্বদা নামাজ-কালাম আর সৎ পথে চলে কোনো অসৎ কর্মে লিপ্ত নহে। 

 হয়তো অনেক দরিদ্র পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি নিত্যদিনের ভরনপোষণ করা সম্ভব হয়ে উঠে না তাদের রমজান যেন কাটুক একটু সাচ্ছন্দ্যে যেন অভাব তাদের তাড়া না করে।  তাইতো বলতে ইচ্ছে করে,,,,,,

"একদিন মোদের কবর হবে ধনীর বাড়ির আঙ্গিনায়, 
খাদ্য অভাবে যাবে জাত ঘৃণায় কাটবে করোনায়"। 

লেখক:কলামিস্টঃচিত্রশিল্পী,মুহাম্দ   শাহীদুল আলম।     
            সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।