৭:৫৫ এএম, ১ জুন ২০২০, সোমবার | | ৯ শাওয়াল ১৪৪১




প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও নির্মলতায় বাঁচুক সবার প্রাণ

৩১ মার্চ ২০২০, ১০:১২ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: 

"আমার প্রিয় দেশ, সোনার বাংলাদেশ,
আমার প্রিয় ভাষা বাংলাভাষা"। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি এই বাংলাদেশ,চিরসবুজে ঘেরা বন-বনায়ন, আর বৃক্ষের অপরূপ সমারোহ, পাখিদের কিচিরমিচির শব্দে আকাশপানে দিকবিদিক ছুটে চলা। 

নদ-নদীতে ভরা গ্রাম্য বস্ত্রবিহীন ছোট্ট ছেলেদের অবাধ্য " সাঁতার।  ষড়ঋতুর বৈচিত্র্যময় ক্ষণ গুলি প্রতিটি বাংলার মানুষের মাঝে মিশে আছে "মায়ার বন্ধনে"। 

শিশুকাল থেকে বেড়ে ওঠা প্রকৃতির নির্মলবায়ু -আলোবাতাস যে শরীরে প্রবাহমান, যে মায়ের কোলে ঘুমপাড়ানি গানের সুরে, মনের মাধুরি মিশিয়ে মুখের ভাষা শুনিয়েছে " মা"। 

আজ বয়সের তারতম্যে দিব্যি ঘুরে বেড়ায় অবলীলায় দেশ হতে দেশান্তরে, মন যখন ছুটে চলে আর যে পথে কোনো বাঁধা নেই সে পথে রয়েছে মায়ের প্রার্থনা। বৈরী আবহাওয়ায় যে সন্তানদের আগলে ধরে রাখে, কোনো বিপদ মুহূর্তে ছুটে আসা "মা"-এই দেশতো তোমারই।  তাইতো গীতিকারের গীত অসাধারণ সুরের মূর্চ্ছনায় তুলে,," যখন রাত্রি নিঝুম নেই চোখে ঘুম, একলা শূন্য ঘরে, তোমায় মনে পড়ে মাগো তোমায় মনে পড়ে"।  আমাদের প্রিয় এই জন্মভূমিতে কাটিয়ে দিয়েছি জীবন যৌবন,কি মায়া লাগিয়েছে ধরনীর বুকে।  সুখী দেশের মানুষ মোরা প্রকৃত সুখী নই, "ফোর্বস ম্যাগাজিনের"-তালিকায়-খেয়ে দেয়ে শান্তিতে ঘুমায়, এই সুখে আমরা জেগে রই।  মাছে ভাতে বাঙালি এই আমার দেশ, দু-বেলা দুমুঠো ভাতের সংগ্রামে বিজয়গাঁথার প্রিয় মোদের স্বদেশ। 

সূর্যের আলোয় সময় নির্ণয় আর মোরগের ডাকে ভোর, সকালের নামাজ শেষে কৃষাণীর জমিতে দে-কর্মী নিয়ে দৌড়। 

স্মৃতির পাতায় রয়ে যায় সে কৃষাণী পুত্রের টিফিনবাক্সে পান্থা ভরা আর তাহার উপরে লবণ-লালমরিচে খাওয়া তৃপ্তির ঢেকুর।  ছোট্ট বেলায় পিতার আঙুল ধরে, মাথায় সিঁতি আর স্নো পাউডার লাগিয়ে বাজারে যাওয়া, আর নানান জিনিসের বায়না ধরা সেই সোনালী দিনগুলো আর ফিরে আসবে কি কখনো? অতিমাত্রায় বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট  বন্যায় একদিনের জেলে হওয়ার সেই দিন বহুজনের প্রিয়, তবুও প্রিয় সেই আগেকার কাঁদায় জড়ানো রাগে অভিমানে বাহিরে কাটানো দিন। 

বাসায় পিতার অনুমতি ছাড়া প্রবেশের সুযোগ ছিলোনা মাতার আদেশে ফেরা আর খাবারের পর বকুনি এইতো সেদিনের কথা।  খাবারে ছিলোনা ভেজাল, কথায় ছিলোনা মিথ্যার আশ্রয় যা সত্য তা প্রকাশ করাই ছিলো একমাত্র শিক্ষা, যার ফলে বেঁচে যাওয়া বহু ছোট্ট অপরাধে আর নিজেদের মনে তখন প্রকাশ পায় প্রশান্তির ছাপ। 

বিকালের সেই নির্মল আবহাওয়ায় বাহিরে ঘুরিয়ে আসার সময় এখন আর মেলেনা বাস্তবতা আর সময়-পরিবেশের কারণে, সন্ধ্যায় বাহিরে বসে বসে আল্লাহর জিকির করে পড়তে বসার সেই সময়ও নেই, হারিয়ে গেল কালের গর্বে তারপরও খুঁজে ফিরি সেই সোনালী অতীত।  আজ বহুকাল পেরিয়ে যখন প্রকৃতি আমাদের চলার তারতম্যে, অত্যাচারে বিপরীতে ঠিক তখনই লাখ-কোটি বিশ্বের কোমলমতি শিশু সৃষ্টির প্রকৃতিকে দেখার বিভোর হয়ে আছে কিন্তু সে যে বাঁধার নিয়মে পড়ে আছে, কে দেবে কান্নার সান্ত্বনা? কোনো অবুঝ শিশুর আহাজারি হে প্রভু তুমি শুনে ক্ষমা মার্জনা করো। 

তোমার পৃথিবীতে বাসযোগ্য করে দিও অবুঝ শিশুকে, বিশ্ববাসী তোমার পানে চেয়ে আছে তোমার লাগি দুচোখের পানি আর আর্তচিৎকারে স্বজন। 

এই বাংলায় দিওনা তুমি যে মৃত্যুর হয়না উপস্থিত প্রিয় আত্নীয়-স্বজন।  দাও গো হে মরণ মোদের যে পথে আমরা পায় দাফন-কাফন সে পথে রাখিও স্বজনেরি মরণ। 

তোমার ধরনীতে তোমার মোনাজাত,তোমার কলরব এই ভবে, পূণ্যভূমি রক্ষাকারী তুমিই  মহান এই মোরা জপে।  বাঁচুক সবার প্রাণ তোমার ইশারায়, নিও গো তুমি যাকে তাঁকে এই ধরায় তাতে সন্তুষ্টি, তাতে শান্তি সবি তোমায় কৃপায়। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম।    
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।