৬:১৩ এএম, ২৬ এপ্রিল ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

South Asian College

পরকিয়ার ঘটনা ধামা-চাপা দিতে চাইছে চেয়ারম্যান

১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০২:২৭ পিএম | সাদি


সৈয়দ ফয়েজ আলী, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার ৯নং টিলাগাঁও ইউনিয়নের যুবলীগের সভাপতি ইসলাম উদ্দিন-কে (১২) জানুয়ারী গভীর রাতে নারী-সহ আটক করছে গ্রামবাসী।  স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, কামাল পুর গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের মেয়ে আছমিনা বেগমের সাথে একই গ্রামের আব্দুল লতিব মিয়ার ছেলে আল আমিনের সাথে।  র্দীঘ কয়েক বছর প্রেম করার পর (২৭মে) ২০১৪ইং মৌলভীবাজার নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়।  প্রেমোময় সংসার চলছিল বেশ সুখে এসেছিল এক ফুট ফুটে কন্যা সন্তান। 

এদিকে যুবলীগ সভাপতি দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে প্রেম করার জন্য জুর জবর ধস্তি করে আসছিল আছলিমার সাথে।  কিন্তু মান সম্মানের দিকে তাকিয়ে তার পিতার কাছে শালিষ দিয়েছিলেন, ভাসুর শামীম মিয়া।  কিন্তু ছেলেকে শাষনের আওতায় আনতে পারেননি বাবা।  পরের বউয়ের লোভ শামলাতে পারেনী ইসলাম।  তাই  গভীর রাতে চলে যায় আছমিনা বেগমের কাছে।  মুঠোফোনে অনেক কল ও (এসএমএস) দিলে আছমিনা  বলে আমি পরের স্ত্রী আমার ইজ্জত সম্মান রয়েছে আর আমার দেড় বছরের ছোট্ট একটা মেয়ে রয়েছে।  কিন্তু ইসলাম উদ্দিন বলে, আমি যুবলীগের সভাপতি এসব কিছু হলে, আমি বিষয়টা দেখব।  তা নিয়ে তুমি চিন্তা করো না।  তুমি আমার কথায় রাজি হয়ে যাও। 

আছমিনা অনেক বাঁধা দিলে ইসলাম তার বাঁধা না মেনে দরজায় ঢুংকি দিলে আছমিনা প্রথমে ভয়ে দরজা খুলেনি।  অনেক কল দিয়ে হুমকি ধামকি দিলে তর মেয়ে-ঘর সহ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিব।  ঠিক এইসময় আছমিনা তার ভাসুরের শব্দ শুনতে পায়।  তার ভিতরে একটু সাহসের জন্ম নিলে দরজাটা খুলে দেখে ভাসুর কোথায় আছেন।  বিষয়টা ভাসুরকে বলবে কিন্তু দরজা খুলতে দেখে ইসলাম চট করে ঘরে প্রবেশ করে তার মুখে চাপ দিয়ে রাখে বলে চুপ একটা কথাও বলবিনা।  আছলিমা হঠাৎ কি করবে কিছুই বুঝতে পারছেনা।  এদিকে ভাসুর কিছুটা টের পেয়ে একটু অপেক্ষা করতেছেন কে এত রাতে প্রবেশ  করল।  ডান পাশের কক্ষে বড় ভাসুর বাম পাশের কক্ষে শ্বশুর  বিষয়টি বুঝতে পেরে র্দীঘ সময় ধরে অপেক্ষা করেন। 

গড়ির কাটা টিক যখন, তিনটা সেই সময় দরজায় তালা দিয়ে রাখেন।  সেই দিন রাতে দিন মজুর আল আমিন রাজমিস্ত্রী  জিবিকার তাগিতে একটি অঞ্চলে  কাজের জন্য থাকতে হয়।  এই সুবাধে ইসলাম উদ্দিন তার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে আছলিমার ঘরে প্রবেশ করে।  গভীর রাতে সব কিছু চুপ চাপ কনকন শীতের কুয়াশা ভরা চারি দিক।  নিজের চাহিদা মিটাতে চলে যান যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসলাম উদ্দিন।  আছমিনের চিল্লা চিৎকার শুনে আশ পাশের ঘরের লোকেরা থাকে হাতে নাতে ধরলে ইসলামকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে ইউ,পি চেয়ারম্যানের আব্দুল মালিকের কাছে তুলে দেন। 

এ খবর জানা জানি হলে এলাকায় আলো রং সৃষ্টি হয়।  চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক ইসলামকে তার বড় ভাইয়ের জিম্মায় দিয়ে আর আছলিমাকে তার মায়ের জিম্মায় দিতে চাইলে মা বলেন, আমি কেনো মেয়ে নিয়ে যাব তার শ্বশুর আছে তাদের কাছে রেখে দেন এটা আমার বিষয় নয়। 

চেয়ারম্যান বলেন, মাত্র দুইটা দিন তোমার কাছে রাখো আগামি শনিবার সন্ধ্যায় গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে আমি বিষয়টা  শেষ করে দিব।  কিন্তু শনিবার সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বিচারের কোনো বৈঠক হয়নি ।  আছলিমার মা বলেন, আমাকে বিচারের কথা বলে চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন।  আসলে বিচার হবে কি না বুঝতে পারছিনা।  আমি আমার মেয়ে নিয়ে চিন্তায় আছি কখন কি করে ফেলে সেই ভয়ে শনিবার রাত (৯টায়) চেয়ারম্যানের বাড়িতে যাই।  চেয়ারম্যান আমার মেয়েকে তার কাছে রাখতে রাজি নয়্ বলেন আরো কয়েকটা দিন অপেক্ষা কর, আমি সমাধান দিচ্ছি।  তখনো বিচারের কোনো তারিখ উল্লেখ্য করেননি চেয়ারম্যান।  

সরেজমিনে চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি।  মুঠোফোনে একাদিক বার কল দিলে তিনি বলেন, আমি একটা বিচারে আছি।  অতচ চেয়ারম্যান ইসলামের বড় ভাইয়ের দোকানে চায়ের আড্ডায় রয়েছিলেন।  আবারো একাদিক বার যোগাযোগ করলে কোনো সারা পাওয়া যায়নি।  সাংবাদিকের একাদিক কল দেখে চেয়ারম্যান তার মুঠোফোন বন্ধ করে রেখে দেন। 

আছলিমার স্বামী আল-আমিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি দিন মজুর মানুষ, আমার মান সম্মান যে আজ মাঠির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার চাই।  আমি ইসলামের  বাবার কাছে অনেক বিচার দিয়েছি কিন্তু অনেক দিন আমার বাবাকে চুরি দিয়ে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।  এই ঘটনার কি সঠিক বিচার হবে, এই নিয়ে চলছে এলাকায় নানা আলোচনা সমালোচনা।  চায়ের দোকান থেকে পানের দোকানদার বলছে আমাদের চেয়ারম্যানের লোক ইসলাম তার কিছু হবে না।  আর সে ২০১৩ সালে বিএনপি-জামাতের অনেক নেতাকে রামদা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছিল, সেই ভয়ে কেউ মুখ খুলবে না।  এখন তো তাদের দল ক্ষমতায় তার কিছু হবে না। 

কুলাউড়া থানার  ওসির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে জানি না আর কেউ মামলাও করেনি করলে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

Abu-Dhabi


21-February

keya