৮:২৩ এএম, ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




পেরেক ছাড়াই কাঠের তৈরি পিরোজপুরের শতবর্ষী মমিন মসজিদ আজো দাঁড়িয়ে আছে

২৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:৫৬ পিএম | নকিব


দেলোয়ার হোসাইন,পিরোজপুরঃ- উপকূলীয় জেলা পিরোজপুরের একটি নিভৃত পল্লী মঠবাড়িয়া উপজেলার  উত্তর সীমান্তে  অবস্থিত ধানীসাফা ইউনিয়নের উদয়তারা বুড়িরচর গ্রাম। 

এ গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পোনা নদী।  এ নদীর উত্তর পাড়ে ভান্ডারিয়া উপজেলার জুনিয়া গ্রাম। 

উদয়তারা বুড়িরচর গ্রামের সম্ভ্রান্ত আকন বাড়ি।  এ বাড়ির মরহুম মৌলভী ইব্রাহিম আকনের পুত্র মৌলভী মমিনউদ্দিন আকন ছিলেন ধর্ম পড়ায়ন আকন বাড়ির কৃতি সন্তান।  তিনি ১৯১৩ সালে নিজ বসত বাড়ির সামনে (পুর্ব দিকে) একটি মসজিদ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। 

মসজিদটির প্রধান নির্মাণ উপকরণ কাঠ।  এ উপকরণে নির্মিত মসজিদের দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের অপর কোনো প্রান্তে নেই।  একটি মাত্র প্রবেশদ্বার যুক্ত মসজিদটি ১৬ হাত দৈর্ঘ, ১২ হাত প্রস্থ আর ১৫ হাত উচ্চতা। 

এ ছোট্ট মসজিদটি তৈরির কাজ শেষ হয় ১৯২০ সালে।  অল্প বয়সে পিতৃহারা হয়ে বিখ্যাত কাঠের মসজিদ নির্মাতা মমিনউদ্দিন আকন মায়ের তত্বাবধানে আরবী ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ওঠেন।  পূর্বপুরুষদের সম্পদ কাজে লাগিয়ে নিজ মেধাশক্তি যুক্ত করে মমিনউদ্দিন বাসস্থান সংলগ্ন এলাকায় মসজিদের স্থান নির্ধারণ করেন।  মসজিদটি একটি বাড়ি সংলগ্ন হলেও অতি চমৎকার ও আকর্ষণীয়।  চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও স্বরূপকাঠী থেকে দুষ্প্রাপ্য ও টেকসই লোহাকাঠ, বার্মাটিক ও সেগুন কাঠ সংগ্রহ করে এ মসজিদ নির্মাতা নিজ আগ্রহের এক জলন্ত স্বাক্ষর রেখে গেছেন।  মসজিদ নির্মাণ করতে কাঠের সাথে কাঠের জোড়া লাগাতে কোন লোহা বা পেরেক ব্যবহার করা হয়নি। 

মসজিদের প্রবেশ উপর বাংলা অক্ষরে খোদাই করা লিখিত তথ্যে জানা যায় এটা ১৯১৩ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে নির্মিত মসজিদের প্রবেশ পথে একটি চতুস্কোন কাঠের মাঝখানে লেখা আছে “ বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম”, লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”।  প্রবেশদ্বারের বাঁদিকে কাঠের দরজার চারকোনার একটি খন্ডের মাঝ খানে হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (স ঃ) লেখা আছে।  চার কোনায় লেখা আছে হযরত আবুবকর (রাঃ) হযরত ওমর (রাঃ) হযরত ওসমান (রাঃ) ও হযরত আলী (রাঃ) এর নাম।  এ লিখনিতে চমৎকার নৈপূন্য এটাই যে মধ্য অংশে নবীজীর (সঃ) নাম, চার কোনে ত্রিভুজকার করা স্থান গুলোতে চার খলিফার নাম খোদিত।  চার পাশের বেড়া তিনটি অংশে বিভক্ত। 

উপরে ও নিচে কাঠের কারুকাজ দিয়ে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে করে আলো বাতাস সহজে প্রবেশ করতে পারে।  মাঝখানের অংশটি তৈরি করা হয়েছে দুটি পার্ট দিয়ে ডাবল বেড়া দিয়ে।  তৎকালিন বাখেরগঞ্জ জেলার (বর্তমান পিরোজপুর) স্বরূপকাঠী এলাকার ১২ জন খ্যাতিমান কাঠমিস্ত্রি দ্বারা সাত বছর ধরে এ মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। 

বর্তমানে মসজিটি মমিন মসজিদ নামে পরিচিত।  প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী মমিনউদ্দিন আকন ১৯৫৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন। 

এ মসজিদের পাশেই তাঁর কবর।  বিশেষায়িত এ মসজিদ ও প্রতœতাত্বিক ঐতিহ্যটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।  ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে মমিন মসজিদে সংস্কার-সংরক্ষণ কাজ পরিচালিত হয়েছিলো।