২:৪৬ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৯ মুহররম ১৪৪০


পিরোজপুরে কলেজ শিক্ষকের লাশ উদ্ধার

০৪ জুলাই ২০১৮, ০৬:০৩ পিএম | সাদি


মুহাঃ দেলোয়ার হোসাইন, পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের সহকারি অধ্যাপক আবদুস সালামের (৫৯)  ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

বুধবার দুপুরে শহরের রাজার হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।  আবদুস সালামের  বরগুনা শহরের ক্রোক এলাকার আইনুদ্দিনের ছেলে।  তিনি এক ছেলে ও  দুই ২ মেয়ের জনক।  পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের  সহকারি অধ্যাপক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আবদুস সালাম পিরোজপুর শহরের রাজার হাট এলাকায় একটি বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়ায় থাকতেন।  তার  ছেলে ঢাকায় চাকুরী করতো। 

এক সময় স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে তিনি  পিরোজপুরে থাকতেন।  মেয়েরা পিরোজপুরে বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করার পর পিরোজপুর সরকারি মহিলা  কলেজে পড়াশুনা শেষে এক মেয়ে এবার  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন।  আরেক মেয়ে বরিশাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছেন।  সেখানে তারা পড়াশুনা করছেন। 

মেয়েরা অন্যত্র লেখাপড়ার কারনে আবদুস সালামের স্ত্রী  বরগুনা শহরের বাড়িতে থাকা শুরু করেন।   মাঝে মধ্যে তিনি পিরোজপুরে আসতেন।  অধ্যাপক ছালামের শ্যালক জিয়া উদ্দিন জানান গত ঈদের সময় আমার বোন বরগুনার বাড়িতে গিয়েছেন।  দুলা ভাই একাই বাসায় থাকতেন। 

তার সহকর্মী  অধ্যাপক কাজী জাহাঙ্গীর আরো জানান, আবদুস সালাম শান্ত স্বভারের মানুষ ছিলেন।  চলতি বছরের ডিসেম্বরে তার অবসর কালীন ছুটিতে যাওয়ার কথাছিলো। 

বুধবার সকাল ৯টায় কলেজে তার (আবদুস সালামের) ক্লাশ ছিল।  সকাল  ৯টায় সে কলেজে না আসায় আমরা শিক্ষকরা তার মোবাইল ফোনো  ফোন দেই।  ফোন রিসিভ না করায় আমরা বিষয়টি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ দেলোয়ার হোসেনকে জানাই। 

এরপরে অধ্যক্ষ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোঃ শুকুর আলী ও ওই বিভাগের প্রভাষক শহীদুল ইসলাম কে তার  বাসায় পাঠান।  তারা  বাসায় গিয়ে দেখতে পান দরজা ভিতর থেকে আটকানো।  এরপর শিক্ষকরা তারা দরজা ভেঙ্গে রুমে ঢুকে দেখেন মশারী টানানো আর আবদুস সালাম রান্না ঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস দেয়া। 

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ জানান, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় আবদুস সালামের লাশ  উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।  তিনি বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।