৬:১৫ এএম, ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | | ৮ শা'বান ১৪৪১




প্রতারকের প্রতারণা, ভুক্তভোগীর যন্ত্রণা

১১ মার্চ ২০২০, ১২:১৯ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: প্রতারণার স্বীকারে হাজার হাজার লোক আজ পথে বসেছে।  এমন কোনো গ্রাম-শহর-জেলা নেই  যেখান প্রতারণার স্বীকার হচ্ছে না। 

গাড়িতে-বাড়িতে-ব্যাংকে-রাস্তায়-ফুটপাতে-রেল স্টেশনে-নগরে-বন্দরে-মোবাইলে-আত্নীয়তার বন্ধনে প্রতারকের অভিনব কৌশলে প্রতারণার স্বীকার সাধারণ জনমনে। 

এই ফাঁদে যাঁরা পড়েছে কেউ অজান্তে, কেউ অতিলোভে, তারাই জানে যা কিছু  হারিয়েছে আর যা কিছু হারাতে যাচ্ছে তাদের ভীষণ যন্ত্রণা।  প্রতারক সজাগ থাকে কাকে টার্গেট করবে, কীভাবে কৌশলে বোকা বানিয়ে তার সমস্ত দামী জিনিস ছিনিয়ে নেবে। 

প্রতারক চক্রের সদস্য দলগতভাবে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় অবস্থান করে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে।  আমরা সবাই সচেতন থাকার পরও কেন জানি এই ফাঁদে পড়ে যায়। 

গাড়িতে অপরিচিত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে খাদ্য দ্রবাদি -চকলেট ইত্যাদি নেওয়া-খাওয়া নিষেধ।  এরপরও  যাত্রীদের মধ্যে টার্গেটকৃত ব্যক্তিকে কীভাবে যে অজ্ঞান করে টাকা-পয়সা,দামী জিনিসপত্র মুহূর্তের মধ্যে নিয়ে উধাও হয়ে যায় বুঝতেই পারে না।  বিভিন্ন খাবারের সাথে,যেমন-ডাবের পানিতে  নেশা জাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে অজ্ঞান করে কতো পরিশ্রমের উপার্জন নিমিষেই শেষ করে দে, সবচেয়ে বেশি স্বীকার হচ্ছে মোবাইল ফোনে। 

তাও আবার অল্পবয়েসী মেয়েদের ব্যবহার করে এই ফাঁদে জড়িয়ে ফেলে, বিশেষ করে সম্পর্কে জড়িয়ে বড় অংকের টাকা দাবি করে নাহয় অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলার ভয় দেখিয়ে, গোপন কোনো ছবি তুলে, সেই ভিডিও বাসায় দেখার হুমকি দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে। 

এই চক্র পুলিশকেও ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে, কারণ কেউ যদি অর্থ প্রদানে রাজি না হয় তাহলে নারী কেলেঙ্কারিতে পুলিশ ডাকে।  কোনো উপায়ন্তর না দেখে বিকাশের মাধ্যমে হলেও টাকা প্রদান করে কোনোমতে জীবন বাঁচায় আর মানসম্মান রক্ষা করে।  সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থের স্বীকার হয়েছে মোবাইল ফোনে রাত দুইটা -তিনটায় "জ্বীনের বাদশা" বলে ফোন করে, আর রাতারাতি ধনী বানিয়ে দেওয়ার মিথ্যা বানোয়াট কল্পকাহিনিতে বিশ্বাস করে শত শত পরিবার  স্বামীর কষ্টার্জিত স্বর্ণালংকার,টাকা-পয়সা ভাগিয়ে নিয়েছে পরবর্তীতে যখন বুঝতে পেরেছে সে প্রতারণার স্বীকার তখন না পারছে পরিবারের কাউকে বলতে,নাকি বিদেশে অবস্থানরত স্বামীকে। 

আবার দেখা যায় পরিবারের কোনো সদস্য বিপদে পড়েছে বলে বাসায় ফোন করে এই নাম্বারে দ্রুত টাকা বিকাশ করতে বলে নিঃস্ব করে ফেলে।  এমনো হাজারো ঘটনা রয়েছে যে, অভাবের তাড়নায়, কিংবা মেয়ের বিয়ে দিতে টাকার দারস্থ হয় বিনিময়ে জমি-জমার দলিল বন্ধকী রাখে আর প্রতিশ্রুতি দে যদি যথাসময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হই দুই/এক শতক জমি আপনার নামে দিয়ে দিব।  এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমস্ত ভিটার দলিলের স্বাক্ষর নিয়ে নে। 

যুবক-যুবতী ছেলে মেয়েকে ভালো চাকরি দিবে বলে,বিদেশ পাঠানোর মিথ্যা আশা দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায় করে নে আর নারীদের চাকরির বদলে দালালদের কাছে বিক্রি করে দে, শেষ পর্যন্ত ঠিকানা মেলে কোনো পতিতালয়ে।  দেশে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে জাল নোট।  কোনো পরিবারের  সচেতন লোক যারা তাদেরকেও প্রতারণার মাধ্যমে জাল নোট ঢুকিয়ে দে, শেষ পর্যন্ত তারাই হয়রানির স্বীকার হচ্ছে।  ফুটপাতে  হাতে অনেক "হাতঘড়ি" নিয়ে কিছু লোক  ব্যবসার নামে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নে, তাদের কাছে এতো ঘড়ি থাকতে জিজ্ঞেস করে পথচারীদের ভাই আপনার ঘড়িতে এখন কয়টা বাজে? এটা বলেই আটকিয়ে ফেলে আর বলে কি আমার এই ঘড়ি বিদেশি, দাম পাঁচ হাজার টাকা একজনে অর্ডার করেছে কিন্তু তার দেখা নেই, এমন সময় তাদেরই একজন এসে বলে আমি তিন হাজার দিবো বলেছিলাম দিবেন দিবেন? বলে চলে যায়।  নানান অযুহাত দেখিয়ে প্রতারকরা প্রতারণা করেই চলছে ওরা থেমে নেই। 

অহরহ ঘটনা হয়তো আমাদের অজানা, দেশে কতো রকমের লোকের সাথে ঘটে যাচ্ছে অজস্র প্রতারণা।  কেউ করছে আমি জানি তোমার ভবিষ্যতে জায়গার প্রয়োজন তাই বলছি কোথাও যেতে হবেনা আমি ব্যবস্থা করে দিবো খুব ভালো পজিশনে জায়গার খবর আছে, তবে তাকে আগে কিছু টাকা দিয়ে রাখতে হবে অথচ জায়গার মালিক জানেও না আর উনি জায়গাও কোনো বিক্রি করবেনা। 

প্রতারণার ধরণ দেখলে মাথা ঘুরে যায়।  চিন্তা করা যায়! যারা ভুক্তভোগী তাদের কিযে যন্ত্রণা! কে কতো অর্থ-সম্পদ হারিয়েছে হয়তো জানা নেই কিন্তু ঐসব লোকের স্থান হোক নিকৃষ্ট জায়গায়, পরবর্তীতে এই বাজে কাজ ছেড়ে যেন ফিরে প্রিয় নিরালায়। 


লেখক: কলামিস্টঃ মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
               সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।