৭:১৬ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২০, সোমবার | | ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২




পরিবার ভাঙ্গনের সূত্রপাত ও পরবর্তী সংঘাত

০৮ মার্চ ২০২০, ১১:১৯ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: সুন্দর ও সুখী জীবন-যাপনের জন্য প্রতিটি মানুষ স্বপ্ন দেখে পরিবারের উপর ভিত্তি করে। 

যে পরিবারের আর্থিক ও বংশমর্যাদা যতো, সে পরিবারের চাওয়া-পাওয়া, আচার-ব্যবহার, সামাজিক মর্যাদা,আত্মীয় স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় স্ব-স্ব পরিবারের চিন্তা ভাবনা, মনমানসিকতা সবি আলাদাভাবে প্রকাশ পায়। 

আর তখনই সমাজে বসবাস করা প্রতিটি পরিবার  বংশমর্যাদার আভিজাত্যকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে এক একটি পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা-ভাবনার জন্ম নে।  যখনই পারিবারিকভাবে কোনো "বিবাহবন্ধনের" ব্যাপার আসে তখনই কোনো সচেতন পিতা  মনে করে তাঁর মেয়েটি কোন পরিবারে "বিয়ে"-দিতে যাচ্ছে? ঐ পরিবারের সদস্যরা কেমন হতে পারে? যে পরিবারে যাবে সে পরিবারের আত্মীয়-স্বজন কেমন আর কোন কোন পরিবারের সাথে সমন্ধ করেছে? যাবতীয় খুটিনাটি বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে যখনই বিবাহের দিনক্ষণ পাকাপোক্ত হয় তখন কিন্তু  এমনও হয় পারিবারিক অবস্থান কিংবা কারো প্ররোচনায় নতুবা কোনো হুমকিতে সেই বিবাহ ভেঙেও যায়। 

একপর্যায়ে সকল বাধা-বিপত্তিকে জয় করে পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নতুন একটি সংসারে এসে নিজেকে খাপ খাওয়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। 

কারণ যে মেয়ে পিতা-মাতার সংসারে দীর্ঘ আঠারো বছর সুখে-দুঃখে কাটিয়ে, ভাই-বোনের সাথে আদর-আহ্লাদে বেড়ে উঠেছে সে মেয়ে সম্পূর্ণ অন্য একটি নতুন পরিবেশ, নতুন কিছু মুখের দেখা, স্বামীর সেবা, নতুন পিতা-মাতা অর্থাৎ শ্বশুড়-শাশুড়ি এদের খাওয়া-দাওয়া-পরিচর্যা যা আগে তাঁর কোনো অভিজ্ঞতায় নেই তখনতো নিজেকে খাপ খাওয়াতে সময় লাগবেই। 

স্বামী-স্ত্রী যদি দু'জন দুজনকে না বুঝে তাহলে নতুন সংসারে অজস্র কথা হবে যা স্বামীর চেয়ে স্ত্রীকে বেশি শুনতে হয়।  তার অন্যতম কারণ স্ত্রী বাসায় থাকে আর স্বামীকে জীবিকার তাগিদে কর্মস্থলে চলে যেতে বাধ্য হয় আবার অনেকে বিদেশ পাড়ি দে।  পরিবার যদি ছোট হয় তাহলে সংসারটাও সুন্দর হবে।  তবে পিতার মাতার ভূমিকা বেশি থাকে সন্তানের উপর দেখভাল করতে। 

যৌথ পরিবারে ননদ-দেবর-ভাবী-নাতি-পতি সবি মিলে হৈ-হুল্লোড়ে কাটিয়ে দিতে পারে সকলের সুন্দর মনমানসিকতার ভিত্তিতে আর পিতা-মাতার দক্ষ অবস্থানের কারণে যদি পিতার বয়সের কারণে, আয়ের উৎস বন্ধের কারণে অভিভাবকত্বের ভার  সন্তানের উপর চলে যায় তখনই সৃষ্টি হয় প্রাথমিক দ্বন্ধ। 

পিতার চোখে সন্তান কখনো কেউ বড়,কেউ ছোট তফাৎ দেখে না।  সব সন্তানকে সমান দৃষ্টিতে দেখে।  বড়-ছোট বয়সে নির্ণয় করে মাত্র। পরিবারে কোনো সদস্য কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে ঘরে বসে বসে দিনযাপন করে তখন অন্য সদস্যের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।  ননদী যদি ভাবিকে নানান উপদেশ দে কিংবা এটা করেন সেটা করেন, বাচ্চাদেরকে দেখেন আবার পিতা যদি পুত্রকে বলে "বউমা" তুর বোনকে এই বলছে সংসারে কতো ছোটখাটো ব্যাপার আছে যেগুলো নিয়ে অযথা ঝগড়ার সূত্রপাত তৈরি করে। 

কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবারে একের অধিক পুত্রবধূ থাকলে কিছু হতে পারেনা,,, আমি এখন বাপের বাড়ি চলে যাবো আর এক মুহূর্তও থাকবোনা, কান্নাকাটি শুরু করে দে স্বামী কিছু বুঝে উঠার আগেই বলে সবি তোমার কারণে হচ্ছে, আজ তুমি শক্ত থাকলে আমাকে এমন করতে পারতোনা, আমাকে মুক্ত করো এই জঞ্জাল থেকে।  প্রয়োজনে আলাদা হয়ে যাবো আরো কতো কি বলে কাঁদতে কাঁদতে। 

তুচ্ছ ঘটনা নিয়েও অনেক বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যায় তখন প্রশ্ন আসে পরিবারের জন্য কে কি করেছে সবি জানি, একজন বলে এটা আমি করেছি, আরেকজন বলে আমি মাসে মাসে বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছি এইভাবে ঝামেলা বেড়ে চলে মনের ভিতর অশান্তি বিরাজ করে।  হয়তো কেউ অন্য রুম থেকে বলে উঠে "জাতের মেয়ে কালো ভালো, নদীর পানি ঘোলা ভালো "। 

তখন সংসারে আর শান্তি থাকেনা শুরু হয় ভাঙ্গন, আরেক রুম থেকে হয় বলে আমাকে এই ঘরে কেন বিয়ে দিলো? এখন,, যে,,, আজ থেকে ৫/৬ বছর কিংবা তার অধিক বিয়ের মধ্যস্থতা/উকালতি করেছে তার চৌদ্দগোষ্ঠীকে গালি দেয়।  যেইমাত্র একজন আরেকজনের প্রতি মনোমালিন্য হয়, তুচ্ছ ব্যাপার নিয়েও দেখা যায় যার সাথে/যেটার জন্য ঝগড়া সেটাকে অন্য কোনো উপায়ন্তর না দেখে " বাচ্চা" কে পিটিয়ে রাগ নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বাবার বাড়িতে কান্না করে বলে আমি এক মুহূর্ত এখানে থাকবোনা আমাকে নিয়ে যান।  জগতের সকল পিতার চোখে তখন মনে হয় আকাশ ভেঙে তাঁর মাথার উপর পড়েছে। 

স্ত্রীকে স্বামী বুঝায় দেখা যাক কি হয়, যদি স্বামীর সাথে হয় তখন পিতার চোখে জল আর ভাবে কেমন পরিবারে আমি সমন্ধ করলাম? এবার নতুন করে ঝামেলার  সূত্রপাত হয় জমিজমা নিয়ে, একপক্ষ বলে আমি আর তোমাদের মাঝে নেই আমি আমার ভাগে যা পাবো আমাকে দিয়ে দাও, অন্যপক্ষ বলে আমি পারবোনা পারলে নিয়ে নে। 

এক বউ আরেক বউকে চেচিয়ে বলে এটা স্বামীর কেনা, অন্য জন বলে সারাবছর আমার স্বামীর খেয়েছো আজ ভাগের বেলায় এসে তোমার? শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি, মারামারি, মামলা থেকে রক্তপাত তারপরও শেষ হয়না চরম আকার ধারণকারী এই "সংঘাত"। 

লেখক: কলামিস্টঃ মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
               সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।