৮:৫৪ পিএম, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

প্রভিশন ঘাটতি ৮ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা ৭ ব্যাংকের

২৩ নভেম্বর ২০১৭, ১১:১৪ এএম | রাহুল


এসএনএন২৪.কম : ব্যাংকিং খাতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে খেলাপি ঋণ।  ফলে বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়ছে ব্যাংক ঋণ। 

এ ঋণ ঝুঁকি কমাতে ব্যাংকগুলোকে খেলাপি ঋণের বিপরীতে প্রভিশন বা নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণ করতে হয়।  আর ব্যাংকের আয় থেকেই এই প্রভিশন সংরক্ষণ করা হয়।  কিন্তু সাতটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে অর্জিত মুনাফা দিয়েও তা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।  এর ফলে বড় অংকের প্রভিশন ঘাটতির মুখে পড়েছে এই ব্যাংকগুলো। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের ৭টি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ৮ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা।  এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত তিন ব্যাংকেরই সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার বেশি প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে। 

ব্যাংক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকগুলোর প্রভিশন সংরক্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত আয় ছিল না বলেই ঘাটতিতে পড়েছে এসব ব্যাংক।  প্রভিশন ঘাটতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারে না।  এতে নিরুৎসাহিত হন বিনিয়োগকারীরা।  এ ছাড়া যেসব ব্যাংক প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়, তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। 

তাদের মতে, ব্যাংক খাতে সামগ্রিক প্রভিশন ও মূলধন ঘাটতির অন্যতম প্রধান কারণ খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়া।  আর খেলাপি ঋণ বাড়ার মূলে রয়েছে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ঝুঁকি পর্যালোচনা না করা।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঋণ ঝুঁকি নীতিমালার অপব্যবহারও করছে ব্যাংকগুলো।  এ কারণে অস্বাভাবিক হারে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।  তারা বলেন, পরিস্থিতি উত্তরণে ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।  অন্যথায় ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যাবে। 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির কারণেই প্রভিশন ঘাটতি বেড়েছে।  আর ব্যাংকগুলোকে আয়ের খাত থেকে অর্থ এনে এই প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।  এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বঞ্চিত হন।  এ ছাড়া যেসব ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ আমানত গ্রহণ করে তার একটি অংশ ব্যাংকগুলোকে সংরক্ষণ করতে হয়, যাকে ব্যাংকিং ভাষায় এসএলআর বলে।  আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এ অর্থ রাখা হয়।  বাকি অর্থ ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ করে থাকে।  কিন্তু ব্যাংক যাদের কাছে বিনিয়োগ করে তারা ঋণ ফেরত না দিলে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য খেলাপি ঋণের প্রকার ভেদে বিভিন্ন হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।  আর এ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয় ব্যাংকের মুনাফা থেকে।  কোনো ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি হলে ওই ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি দেখা দেয়।  আর মূলধন ঘাটতি হলে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ওই ব্যাংক বছর শেষে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দিতে পারে না।  নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণত কোনো ঋণ মন্দ ঋণে পরিণত হলে ওই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়।  আর সন্দেহজনক খেলাপি হলে ৫০ ভাগ ও নিম্নমানের খেলাপি হলে ২০ ভাগ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, সেপ্টেম্বর শেষে ৭ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ৮ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা।  যা গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ৬ ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ৬ হাজার ৫৪০ কোটি ২২ লাখ টাকা।  সে হিসাবে নয় মাসে ব্যাংকের সংখ্যা একটি বাড়লেও প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ বেড়েছে ১১ হাজার ২০৩ কোটি টাকা।  রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী, রূপালী ও বেসিক এই তিন ব্যাংকেরই প্রভিশন ঘাটতি হয়েছে ৭ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা।  এর মধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঘাটতি রয়েছে ৩ হাজার ৪২১ কোটি টাকা।  একইভাবে সোনালী ব্যাংকের ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা আর রূপালী ব্যাংকের এক হাজার ২৪৫ কোটি টাকার প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে।  রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বাইরেও তিনটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।  ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের ১৯৮ কোটি টাকা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের ১৫৯ কোটি টাকা এবং ন্যাশনাল ব্যাংকের ৮৬১ কোটি টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ৮৯ কোটি টাকা প্রভিশন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। 

পরিসংখ্যানে আরো দেখা যায়, সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার কোটি টাকা।  আলোচ্য সময়ে খেলাপি ঋণের পাশাপাশি মন্দ ঋণও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।  ফলে ব্যাংকগুলো কাক্সিক্ষত হারে প্রভিশন সংরক্ষণ করতে পারছে না।  ফলে প্রভিশন ঘাটতির মুখে পড়েছে ব্যাংকগুলো।  আলোচ্য সময়ে কয়েকটি ব্যাংক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি প্রভিশন সংরক্ষণ করায় ব্যাংক খাতে সামগ্রিক প্রভিশন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকা। 

Abu-Dhabi


21-February

keya