২:৩৬ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার | | ৩ সফর ১৪৪২




পর্যটনের অপার সম্ভাবনা.."হালদা নদীর পাড়

০৪ আগস্ট ২০২০, ০৩:৪৩ পিএম | নকিব


এম. শাহীদুল আলম
নদীর নাম "হালদা", কর্ণফুলী নদীর মোহনা।  ৬৬ মাইলের দৈর্ঘ্য (১০৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য) যার গড় প্রস্থ ১৩৪ মিটার যা দুটো জেলা খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার নদী। 

মানিকছড়ি উপজেলার বাটানতলী ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় হলো যার উৎস বা উৎপত্তিস্থল।  কেননা বাটানতলী ইউনিয়নের পাহাড়ি গ্রামের নাম ছিলো " সালদা"।  এই সালদার পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে নেমে আসা ছড়া সালদা থেকেই হালদার নামকরণ করা হয়। 

এই হালদা নদী লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন জীবিকার কর্মস্থল।  জাতীয় অর্থনীতিতে হালদা নদীর ব্যপক  অবদান রয়েছে সেই প্রাচীনকাল থেকে।  পানি সম্পদের উৎস, এপার-ওপার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম, বিশেষ করে কৃষি জমির জন্য, মৎস্য সম্পদ, রুই,কাতলা,মৃগেল মাছের পোনার জন্য এই হালদা নদীর আলদা সুনাম রয়েছে। 

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেমন আশপাশের এলাকার যাবতীয় নোংরা আবর্জনা কারখানার বর্জ্য সবকিছুই হালদা নদী গ্রাস করে নিচ্ছে এই প্রাপ্তি বড় প্রাপ্তি।  আবার  কতো পরিবারের বসতভিটা এই হালদার গর্ভে বিলিন হয়েছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই।  নদীর এপাড় ভেঙে ওপাড় গড়ে এইতো নদীর রীতি, বন্যার সময় হালদার পাড় কোনোদিকে ভাঙ্গলে সেদিকে বন্যায় সয়লাব হয়ে যায়। 

এই নদীর বৈশিষ্ট্য সর্পিলাকার যা দেখতে সাপের মতো।  হালদার পাড়ে বসবাসরত হাজার হাজার পরিবার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেঁচে আছে কারণ একটাই এই নদীর ভাঙনে সব কিছু হারায়।  সে পাড় রক্ষা করতে সরকারের কোটি কোটি ব্যয়ে নির্মিত হলো "হালদা নদীর পাড়" যদিও কয়েক কিলোমিটার দৃশ্যমান যা সত্যিই অসাধারণ স্পটে পরিণত হয়েছে।  যতোই পাড়ের কাজ অগ্রগতি হবে ততই সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।  পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে যদি পর্যটনশিল্প এইদিক দিয়ে নজর রাখেন নতুবা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এটিকে পর্যটনে রুপ দিতে পারে।  ফলে সরকারের রাজকোষে একটি অংশ যাবে অপরদিকে দূরদূরান্তের মানুষ যাঁরা শতো ব্যস্ততার কারণে একটু নিরিবিলি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের সুযোগ হয়না তাদের একটি বিনোদনের মাধ্যম হবে।  সাথে সাথে নদীর পাড়ের জীবন যাত্রা উপলব্ধি করতে পারে এমনকি জীবন জীবিকাও পরিবর্তন হয়ে উন্নতির দিকে অগ্রসর হবে।  সরজমিনে যেয়ে দেখলাম এটি চট্টগ্রামের সী-বীচে পরিণত হয়েছে অসংখ্য মানুষ প্রতিদিন আসছে যাচ্ছে তবে এখনো কিছু অস্থায়ী চা/ঝাল বিতানের দোকান ছাড়া তেমন কিছুই নেই। 

বর্ষা মৌসুমে এই পাড়ের সৌন্দর্য হারাবে তাই শীত-গ্রীষ্ম মৌসুমকে কেন্দ্র করে ঝিনুক মার্কেট, ছোট বাচ্চাদের জন্য রঙবেরঙের বেলুন বিক্রি, চটপটি-ফুসকার দোকান, পাড়ে বসার জন্য দুরত্ব বজায় রেখে রেখে সিড়ি ব্যবস্থা, নদীতে কয়কেটি স্পীড বোট, রঙিন নৌকার ব্যবস্থা, যানবাহনের জন্য পার্কিং ব্যবস্থা, কয়েকটি ঘরোয়া পরিবেশে খাবার ব্যবস্থার দোকান স্থাপনে মুটামুটি পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্যতো বটেই, সর্বোপরি এই হালদার পাড়ের সৌন্দর্য উপভোগের প্রচারণায় প্রসারিত হবে অতি দূর-বহুদুর। 

এই পাড়ের নামকরণ [এলমি বীচ] শুনে একটু কৌতূহল জাগলো আমার এক রোসাংগীরি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি'৯৯ এর বন্ধুর দেখা মেলে, নামকরণের কথা জিজ্ঞেস করতেই সে বলে (এলমি=এল, দিয়ে লিয়াকত, এম দিয়ে-মিঞা= লিয়াকত মিঞা কি আলতাফ মিঞা বলেছিলো) এতটুকুই জানলাম কিন্তু লিয়াকত মিঞা কে? কারন? আর বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি।  যে কিছুক্ষণ সময় হালদার পাড়ে অর্থাৎ "এলমি বীচে" অতিবাহিত করেছি তার উপলব্ধি থেকে আমার আজকের কলামে লিপিবদ্ধ করার স্বপ্নীল প্রয়াস। 

অবশ্যই এই সৌন্দর্য বর্ধনে যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল, জনলোকে সমাদৃত এলাকার উন্নয়নে মডেল ইউনিয়নের রূপকার জননন্দিত, গরীব দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে থেকে ফটিকছড়ি উপজেলায় সুনাম অর্জনকারী সফল চেয়ারম্যান জনাব হারুনুর রশিদ ইমন সাহেব। 

সাথে সাথে যাঁর অবদানও অস্বীকার করার নয় তিনি হলেন, রোসাংগিরী ইউনিয়নের সুযোগ্য চেয়ারম্যান জনাব সোয়েব আস্ সালেহীন।  একদিন এই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিবে হয়তো আজ নয় কাল।  সে কালের আশা যেন নিরাশার না হয়।  "ভয়ের বন্যাকে ঠেকাতে আমাদের সাহসের বাঁধ তৈরী করতে হবে"। " হালদার রূপ সৌন্দর্য একদিন ছড়িয়ে যাবে যা পুরনো হালদা থকে সম্পূর্ণ নবসাজে আলাদা। 

লেখক: কলামিস্ট, চিত্রশিল্পী
সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা।