৩:৪৯ এএম, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | | ২৬ জমাদিউস সানি ১৪৪১




প্রহরী ও মেকানিকের দাপটে চলে অফিস, অসহায় কর্মকর্তা

২৫ জানুয়ারী ২০২০, ১২:৩৯ পিএম | নকিব


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে নৈশ প্রহরী পদে কদম আলী ও নলকুপ মেকানিক পদে ফিরোজ হোসেন কর্মরত রয়েছেন।  ওই দুই জনের দাপটে চলে পুরো অফিস।  তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছায় যেন এ অফিসের নিয়ম-কানুন। 

উপ-সহকারীসহ এ অফিসে ১০ জন  কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত থাকলেও সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করেন কদম আলী ও ফিরোজ হোসেন।  প্রায় ২৪ বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত নৈশ প্রহরী কদম আলীর বদলী হয় না অদৃশ্য শক্তির কারণে।  আর নলকুপ মেকানিক পদে ফিরোজ হোসেন এ অফিসে কর্মরত রয়েছে দীর্ঘ ৯ বছর ধরে । 

জানা গেছে, সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহল গুলোতে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় নানা উন্নয়ন মুলক কর্মসুচী বাস্তবায়ন হচ্ছে।  এ কর্মসুচীর আওতায় লালমনিরহাটের বিলুপ্ত ছিটমহল গুলোতে শতভাগ স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।  এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠে।  ওই সিন্ডিকেটের হোতা হলেন, নৈশ্য প্রহরী কদম আলী ও নলকুপ মেকানিক ফিরোজ হোসেন। 

তারা দুই জনে মিলে পুরো অফিস নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।  তাদের দাপটের কাছে খোদ উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তিও অসহায়।  নৈশ্য প্রহরী কদম আলী এ অফিসে ১৯৯৬ সালের ১৮ জুন যোগদান করলেও দীর্ঘ ২৪ বছরেও তার বদলী হয়নি।  মাঝ খানে কিছু দিনের জন্য লালমনিরহাট সদরে কাগজ কলমে বদলী হলেও অফিস করেছেন হাতীবান্ধায়।  কদম আলী উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নৈশ প্রহরী হলে দিনের বেশি ভাগ সময় ব্যস্ত থাকেন উপজেলার অন্য এক অফিসের বিল ভাউচার তৈরীর কাজে। 

সম্প্রতি উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে একটি তথ্য প্রাপ্তি ফরম জমা দিতে গেলে দেখা যায়, নৈশ্য প্রহরী কদম আলীর অনুমতি ছাড়া তথ্য ফরমটিও জমা নিতে রাজি হয়নি ওই অফিসের অফিস সহকারী।  কদম আলী ফরম নিতে অনুমতি দিলে তারপর ওই অফিস সহকারী ফরমটি জমা নেয়। 

অন্য দিকে ফিরোজ হোসেন এ অফিসে নলকুপ মেকানিক পদে কর্মরত থাকলেও পুরো সময় ব্যস্ত থাকেন ঠিকাদারী নিয়ে।  ওই কার্যালয়ের যত ঠিকাদারী কাজ রয়েছে সেই কাজের ঠিকাদারদের বিভিন্ন ভাবে চাপ দিয়ে ফিরোজ হোসেন কাজ গুলো ক্রয় করে নিজে ঠিকাদারী করেন।  নিজে ঠিকাদার ও  কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকায় নয়-ছয় কাজ করে বিল উত্তোলন করেন তিনি। 

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে,  নৈশ্য প্রহরী কদম আলীর বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায় হলেও হাতীবান্ধার এক নেতার সাথে রয়েছে তার বিশেষ সখ্যতা।  ওই নেতার আর্শীবাদে দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে হাতীবান্ধায় কর্মরত।  তাকে দেখে নৈশ্য প্রহরী মনে হয় না।  অনেকেই তাকে উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী বলে জানেন।  আর ফিরোজ হোসেন নলকুপ মেকানিক পদে কর্মরত থাকলে তাকে অনেকেই ঠিকাদার বলেই জানেন। 

তবে এসব অভিযোগ অস্বাীকার করে নৈশ প্রহরী কদম আলী ও নলকুপ মেকানিক ফিরোজ হোসেন বলেন, আমরা চাকুরীর বাহিরে কোনো কাজে সাথে জড়িত নই।  অনেকেই আমাদের বিরুদ্ধে যড়ষন্ত্র করছেন। 

হাতীবান্ধা উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রকাশ কান্তি রায় বলেন, নৈশ প্রহরী পদে কদম আলীকে বদলীর জন্য একাধিক বার উপরে কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি।  এতে সফলতা আসেনি।  আর ফিরোজ হোসেন ঠিকাদারী করেন না।  আমি যতদুর জানি ঠিকাদার না আসায় তার পক্ষে কাজ গুলো একটু দেখ ভাল করেন। 

লালমনিরহাট জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন বলেন, নৈশ প্রহরী কদম আলী দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে একই স্থানে চাকুরী করে চাকুরী বিধি লংঘন করেছেন।  আমি এ জেলায় নতুন এসেছে, উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। 


keya