১১:৩৪ এএম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার | | ১০ রবিউস সানি ১৪৪০




প্রায়ই ভুল বার্তা দেয় নেপালের ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার!

১৩ মার্চ ২০১৮, ০২:২৩ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম: ত্রিভুবন বিমানবন্দরে সোমবার (১২ মার্চ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে নেপালের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের ভুল বার্তা প্রেরণের অভিযোগটি নতুন করে সামনে এসেছে।  বাংলাদেশের বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার নেপথ্যে কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ভুল বার্তা প্রেরণকে দায়ী করেছে বিমান কর্তৃপক্ষ ইউএস-বাংলা।  পাইলট ঠিকমতো বার্তা বুঝতে পারেনি বলে দাবি করছে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। 

তবে নেপালের আবহাওয়া বিভাগ ও এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ভুল বার্তা প্রেরণের অভিযোগটি আগেও উঠেছিল।  পাইলটদের অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৬ সালে এ নিয়ে একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিল নেপালি সংবাদমাধ্যম হিমালয়ান টাইমস। 

বিমান অবতরণের ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাওয়া তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়।  ২০১৬ সালের ২৭ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে হিমালয়ান টাইমস এক পাইলটকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছিল তিনি (ওই পাইলট) প্রায়ই ত্রিভুবন বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে ভুল তথ্য পান।  দৈনিকটির কাছে ওই পাইলট অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘আজ সকালেও টাওয়ার থেকে আমাকে জানানো হয় বিমানবন্দরের দৃষ্টিসীমা ৩ কিলোমিটার।  তবে কাঠমান্ডুর আকাশে কুয়াশা থাকায় আবহাওয়া বিভাগের আপডেট তথ্য দেখাচ্ছিল দৃষ্টিসীমা দেড় কিলোমিটারেরও কম। 

বোয়িং ৭৫৭-২০০ বিমানের চালক ওই পাইলট বলেন, তার বিমান অবতরণের জন্য দৃষ্টিসীমা কমপক্ষে ২.৮ কিলোমিটার থাকা প্রয়োজন।  শুধু ত্রিভুবন বিমানবন্দর নয়, লুকলাভিত্তিক তেনজিং হিলারি বিমানবন্দরেও একই পরিস্থিতিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছিলেন পাইলটরা।  লুকনার এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকেও ভুল তথ্য দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন ওই পাইলট।  তিনি বলেন, ‘লুকলা টাওয়ার থেকে দেওয়া তথ্য পর্যাপ্ত নয়।  আর প্রায়ই তা বিভ্রান্তিকর ও ভুলভাবে হিসেব করা। ’

সে সময় ওই পাইলট নেপালের বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে লুকলা কন্ট্রোল টাওয়ারে কর্মরতদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করার তাগিদ দেন।  তিনি বলেন, লুকনা টাওয়ারের কর্মীরা মানসম্পন্ন কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত। 

এছাড়া একজন সিনিয়র ক্যাপ্টেনও হিমালয়ান টাইমসকে বলেন, বাতাসের গতি, বাতাসের প্রবাহের দিক, তাপমাত্রা, আদ্রতা, রানওয়ের দৃষ্টিসীমা ও অন্যান্য আবহাওয়া সংক্রান্ত বিষয়ে কন্ট্রোল টাওয়ার ও আবহাওয়া বিভাগ যে সমস্ত তথ্য দেয় তা প্রায়ই পরস্পরবিরোধী হয়। 

তবে নেপালের আবহাওয়া দফতরের মহাপরিচালক রিশি রাম শর্মা তখন দাবি করেছিলেন, সীমিত সম্পদ সত্ত্বেও তারা উচ্চ মানসম্পন্ন তথ্য সরবরাহের চেষ্টা করে থাকেন।  তবে তিনি তখন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বেশিরভাগ পাইলট ফ্লাইট পরিচালনার আগে আবহাওয়া বিভাগের ব্রিফিংয়ে অংশ নেন না।