৮:০৮ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৮, বুধবার | | ১০ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


পোশাক-গহনা-প্রসাধনীর পাশাপাশি ঈদে বাড়তি চাহিদা ঘর সাজানোর উপকরণ

০৬ জুন ২০১৮, ১১:০৬ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : পোশাক-গহনা-প্রসাধনীর পাশাপাশি ঈদে বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি করে ঘর সাজানোর উপকরণ।  বিশেষ দিনটি উপলক্ষে ঘরদোর আর একটু পরিপাটি করে তুলতে নারীদের আনাগোনা বেড়েছে কৃত্রিম ফুল ও গৃহস্থালি সজ্জাসামগ্রীর দোকানে। 

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, পোশাকের দোকানের মতোই বেশ জমজমাট ঘর সাজানোর উপকরণ বিক্রির দোকানগুলো।  একই চিত্র রাজধানী জুড়ে বসা ঈদ মেলাগুলোতে।  কোথাও প্রয়োজনের জিনিস পেয়ে খুশি ক্রেতারা, কোথাওবা বাড়তি দামের অভিযোগ। 

রাজধানীর নিউমার্কেট-সংলগ্ন চন্দ্রিমা সুপার মার্কেটের নিচতলায় রয়েছে গৃহস্থালি সজ্জাসামগ্রীর বেশ কিছু দোকান।  দোকানগুলো রাস্তা থেকে একটু ভেতরের দিকে হলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি বিক্রিবাট্টায়।  ক্রেতার আনাগোনা বেশ ভালো বলেই জানালেন ব্যবসায়ীরা। 

ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু ঈদ নয় এসব জিনিসের চাহিদা সারা বছর থাকে।  ঈদের আগে চাহিদা বাড়ে।  আর ক্রেতাদের বেশির ভাগই নারী। 

আছে বাড়তি দাম নেয়ার অভিযোগ।  তবে তা মানতে রাজি নন এখানকার ব্যবসায়ীরা।  বিক্রেতা সাব্বির বলেন, ‘সারা বছর যে দামে বিক্রি হয়, এখনো সেই দামেই।  দাম বাড়ে নাই।  কিছু কাস্টমার আছে সিজনাল।  তারা তো আর সারা বছর কেনে না।  তাই তারা দাম জানে না।  মিডিয়া দেখলে সবাই কয়, দাম বেশি দাম বেশি। ’

এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে ঘর সাজানোর জন্য কাঠ, বাঁশ, বেতের তৈরি নানা অবয়ব, ধাতব ও কাঠ দিয়ে তৈরি রিক্সা, সাইকেল, মোটরসাইকেল, গরুর গাড়িসহ বাংলার পরিচয় বহনকারী বিভিন্ন জিনিস।  আছে কাঠের ফ্রেমে কারুকাজ করা আয়না।  চাহিদায় সবচেয়ে এগিয়ে বাতির ফ্রেম।  এ ছাড়া এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে নানা রঙ-ঢংয়ের হস্তশিল্প। 

একই ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে রাজধানী জুড়ে ঈদ উপলক্ষে বসা মেলাগুলোতে।  মেলায় বাড়তি চাহিদার জন্ম দিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরি ফুল।  চাহিদা আছে বাতির ফ্রেমের।  এ ছাড়া ট্যারাকোটা বা পোড়ামাটির তৈরি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রাণীর অবয়ব বিক্রি হচ্ছে এসব মেলায়।  পাওয়া যাচ্ছে ফুলদানি, কলমদানি ও ফুলের টব। 

মোহাম্মদপুর শ্যামলী ক্লাব মাঠে ঈদ উপলক্ষে চলছে মাসব্যাপী মেলা।  মেলায় স্থান পেয়েছে গৃহস্থালি সজ্জাসামগ্রীর একাধিক দোকান।  হস্তশিল্পের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে গৃহস্থালি প্রয়োজনীয় পণ্য।  কোনো কোনো দোকানে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ঘড়ি, দরজার পাপোষ, শোফার কুশনসহ নানা কিছু। 

ঈদের পোশাকের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মোটেও পিছিয়ে নেই এসব পণ্য।  মেলাগুলোতে দামের বিষয়ে তেমন কোনো আপত্তি পাওয়া গেল না।  দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ দোকানে।  সবগুলো পণ্যই বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা হারে।  বেচাকেনা নিয়ে সন্তুষ্ট মেলার বিক্রেতারা। 

বিক্রেতা দুলাল মিয়া বলেন, ‘এক দামে জিনিস বিক্রি করা ভালো।  কোনো দামাদামি নাই।  সব একই দামের মাল।  যাই নেক, ১৩০ টাকা। ’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বাহিরে দোকান আছে।  আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রায় সারা বছর মেলা করি।  ঈদের টাইমে এসব আইটেম অনেক চলে।  পাপোষ সবার বাসায় আছে।  ছিঁড়াটারে সারা বছর অনেকে চালায়, কিন্তু ঈদের টাইম আসলে ঠিকই পাল্টায়।  আবার অনেকে এক মাসের জিনিসটাও ঈদের আগে পাল্টায়। ’

সন্তুষ্ট ক্রেতারাও।  সুমি আক্তার ও তার বান্ধবীরা ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছেন শ্যামলী ঈদ মেলায়।  কেনাকাটার তালিকায় পোশাক-গহনা-কসমেটিকসের পাশাপাশি রয়েছে ঘর সাজানোর বিভিন্ন জিনিসের নাম। 

সুমি বলেন, ‘ঈদে বাড়িতে অনেকে আসে।  যারা সারা বছর আসে না।  তাই সাজগোজটাও একটু বেশি।  আমরা যেমন সাজি, নিজেদের ড্রেস কসমেটিকস নেয়া হয়, একইভাবে ঘরের জন্যও নেয়া হয়।  পাশোষ, দরজা-জানালার পর্দা সব চেঞ্জ।  কিছু প্লাস্টিকের ফুল ও ফুলদানি নিয়েছি।  এগুলোও কাজে আগাবো। 

এসব বিষয়ে পুরুষের মাথাব্যথা না থাকলেও ঘরণী বেশ ব্যতিব্যস্ত তার ঘর সাজাতে।  ঈদে ঘরটা আর একটু পরিপাটি করে নিতে ঘর সাজানোর আলাদা বাজেট করেছেন অনেক গৃহিণী।  প্রয়োজন ও শখের জায়গা থেকে অনেকে কিনছেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক ‘হ্যান্ডিক্রাফট’ বা ঘর সাজানোর উপকরণ।