৭:০১ পিএম, ২৩ নভেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

পাহাড় ধ্বস! কারণ ও প্রতিকার

১৮ আগস্ট ২০১৭, ১১:১৮ এএম | নিশি


পুষ্প মোহন চাকমা: প্রকৃতির বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটে চলছে! পৃথিবীতে প্রাণি জগতের অস্থিত্ব টিকে থাকা একটি হুমকি ও চ্যালেঞ্জিং ইশারা পাওয়া যাচ্ছে।  তাপমাত্রা এখন শরীরে অসহ্য মাত্রায়।  ক্রমাগত বৃষ্টি বর্ষণেও তাপমাত্রার কমতি নেই।  ছড়া-ছড়ি ও ঝিড়িতে কেবল বর্ষা মৌসুম ছাড়া পানির অস্থিত্ব মিলছে না।  এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ববছরের জুনমাসে আর একটি নতুন বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় আশ্রয় নিল।  সারা পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা পাহাড়ে দেখা দিল অকল্পনীয় ও অভ‚তপূর্ব ভয়াবহ পাহাড় ধ্বস! এতে চলে গেল অগণিত মানুষের প্রান।  ক্ষয়-ক্ষতি হলো অনির্ণেয় পরিমাণ নাগরিকের তথা দেশের সম্পদ।  রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, ব্রীজ-কালভাট, স্কুল ও শিক্ষা উপকরণ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ফসল, ফলদ বাগান, আবাদি জমি, গৃহপালিত প্রাণি ইত্যাদি অগণিত সম্পদ।  ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও জনজীবন এখন অনেকেই নির্বাক! যেহেতু তারা অনেকে হারিয়েছেন সর্বস্ব।  কারো পিতা-মাতা, কারো ভাই-বোন, কারো চাচা-চাচি-জেঠা-জেঠি, নাতি-নাতনি এমন।  ঘর-বাড়ি ও গৃহস্থালি সম্পত্তিতো গেছেই।  এমন অনেকে আছেন যারা এখন তাদের পৃথিবীতে বেঁচে থেকে লাভের মূল্য খুঁজে পাচ্ছেন না। 
যাহোক, যা হবার তো হয়েই গেছে।  সরকারও চেষ্টা চালাচ্ছে এদের কিভাবে একটু সহায়তা দেওয়া যায়।  আমরাও সরকারের প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা রাখি অবশ্যই এ অপূরণীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের কল্যাণে একটু বিশদ চিন্তা-ভাবনা করবেন এবং তাদের অনাস্থা করবেন না। 
এখন যাওয়া যাক ভবিষ্যতের দিকে।  প্রকৃতির এ দশা ও অবনতি কেন, কি কারণে হতে চলছে।  যা পূর্বে কখনও এমন ঘটেনি।  যার জন্য আমরা কেউ তা কখনও কল্পনা করি নাই পূর্বে।  আর এমন পরিণতি ঘটে থাকলে মানুষ ভবিষ্যতে কিভাবে ভ‚-গর্ভে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখবে।  সুতরাং বেঁচে থাকতে হলে এর উত্তরণ ও প্রতিকার কি হতে পারে এখন এ গবেষণা এবং পদক্ষেপ নেওয়াটাই হচ্ছে আমাদের সকলের জন্য জরুরী বিষয় এবং সমন্বিত মৌলিক প্রচেষ্টা।  যদিও গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি পাহাড় ধ্বস নিয়ে অনেকে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করেছেন।  কেউ বলছেন জুমচাষ করার জন্য এমন ক্ষতি হচ্ছে।  আর অনেকে বলেন অতিরিক্ত গাছ-গাছালি নিধন করার কারণে এমন হচ্ছে।  কেউ বা বলেন পাহাড় কাটা এবং বজ্রপাতের কারণে এমন ভ‚মি ধ্বস হয়েছে।  আসলে সবার ধ্যান-ধারণা অমূলক নয়।  যদিও পুরোপুরি এসবের কারণে নাও হতে পারে তবে অনেকাংশে হলেও ঐ কারণগুলোই দায়ী। 
সে যাই হোক না কেন, এসব পাহাড় ধ্বসের উপযুক্ত কারণ অথবা এসবের কোন ভিত্তিতেই নয়, তথাপি সম্প্রতি পাহাড় ধ্বস নিয়ে আমাদের সবারই নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মতামত দেওয়া দরকার।  কেন না, এ বিষয়ে আমাদের গবেষণা চালাতে হবে।  আর গবেষণা করতে গেলে এ ধরণের মন্তব্য একান্তই দরকার।  কারণ সকলের অভিজ্ঞতা ও মতামত নিয়েই বেড়িয়ে আসতে পারে ইহার মূল কারণ ও উত্তরণের উপায়।  তাই সংগত কারণেই আমি আমার জন্মলগ্ন বা শিশুকাল থেকে পাহাড়ে বসবাস ও পাহাড়ের মাটি পানি নিয়ে বেড়ে ওঠা তথা শিক্ষা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা থেকে ভিন্ন আরও কিছু অভিজ্ঞতা যোগ করতে চায়। 
মূলতঃ গাছপালা নিধন, পাহাড় কাটা এবং পদ্ধতিহীন জুমচাষ অবশ্যই প্রকৃতি বিরোধাত্মক।  বিশেষ করে পাহাড় কাটা আর গাছপালা নিধন ইহার কারণ।  জুমচাষ আর বজ্রপাত ইহার মূল কারণ না হলেও তবে এদু’টিরও আংশিক কারণ আছে।  আংশিক কারণ এ কারণে বলব, জুমচাষ একটি সনাতন চাষপদ্ধতি।  এটি আবহমান কাল হতে চলে আসছে।  এর কারণে যদি পাহাড় ধ্বস হতো তাহলে সে অনেক কাল আগেও এমন হতে পারত।  যেহেতু ভারী বর্ষণ, অতি বষর্ণ, নিবিড় বর্ষণ এর আগে গত জুনের পাহাড় ধ্বস দুর্যোগের চেয়েও অনেক বেশি মাত্রায় দেখা গেছে।  কিন্তু তখনও এমন হয়নি।  অথচ তখন কি হতে পারত না? এছাড়া বর্তমানে পাহাড়ে যে সব জায়গায় বড় বড় এবং দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়াগায় বার বার জুমচাষ করতে দেখা গেছে সেখানে কিন্তু এ দুর্যোগে ভ‚মি ধ্বস হয়নি।  অপরদিকে বজ্রপাতও আগের তুলনায় এ বছর তেমন কিছুই হয়নি।  এর আগেও অনেক বেশি এবং দীর্ঘ সময় বজ্রপাতের অবস্থা দেখা গেছে।  কিন্তু তখনও এমন ঘটেনি।  সুতরাং পাহাড় ধ্বসে জুমচাষ এবং বজ্রপাতের কিছুতা আংশিক কারণ আছে বটে; তথাপি এদু’টি তেমন দায়বদ্ধ নয় বলে আমার ধারণা।  তবে সময়ের পরিক্রমায় ঋতু ও আবহাওয়সহ সবকিছুরই পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে।  তাই জুমচাষেও কিছু পদ্ধতিগত সীমাবদ্ধতা এবং নিয়ম-নীতি আরোপ করা দরকার। 

ভ‚মি ধ্বস রক্ষায় আমরা শুধু গাছ লাগাতে এবং গাছ নিধন না করতে পরামর্শ দিয়ে থাকি।  আসলে গাছ মাটি রক্ষা করে ঠিক কিন্তু পুরোপুরি রক্ষা করার ক্ষমতা গাছের নেই।  গাছ এবং মাটি একে অপরকে ধরে রাখে।  গাছের দ্বারা মাটি এবং মাটি দ্বারা গাছ ধারণ করে।  কিন্তু যখন মাটি কোনভাবে ধ্বসে পড়তে থাকে বা মাটি পানিদ্বারা অতিরিক্ত নরম হতে থাকে তখন গাছ আর খাড়া থাকতে পারে না।  এ কারণে অনেক গাছ উপড়ে পড়তে আমরা দেখি।  তাছাড়া মাটি ভেদ করে গাছের শেখড় মাটিতে প্রবেশ করে।  ফলে গাছের শেখড়ের সরণীর মাটি ফেটে ওঠে মাটি লুজ হয়ে যায়।  বিশেষ করে সেগুন গাছের ক্ষেত্রে আরও মারাত্মক।  কারণ সেগুন গাছ মাটির পানি বা আর্দ্রতা সম্পূর্ণ চুষে নেয়।  যার কারণে সেগুন গাছের শেখড় যেদিকে যায় সে মাটি ভেতরে ফেটে ওঠে এবং একেবারেই লুজ ও ঝরঝরে হয়ে হয়ে যায়।  মাটির আঠালো প্রকৃতি আর থাকে না।  ফলে মাটির অস্থিত্ব ও জীবন একেবারেই নাশ হয়ে যায়।  তবে গাছের মাটি ধরে রাখার তেমন ক্ষমতা না থাকলেও শীতল আবহাওয়া প্রদান বা তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করা এবং অক্সিজেন প্রদানের ভ‚মিকা গাছই অধিকাংশ বহন করে। 

মাটির জীবন রক্ষা করে মূলতঃ শন, বাঁশ, কেচ্যে, ঝাড়–ফুল গাছ আর বিভিন্ন প্রজাতির লতা।  কেচ্যে’কে আবার কেহ কেহ (আঞ্চলিক ভাষায়) তিক্কা এবং তিচ্যেও বলে থাকে।  এই শন, বাঁশ, ঝাড়–ফুল গাছ আর কেচ্যে বনে কোন মাটি ধ্বস হতে দেখা যায় নি পূর্বে।  হয়তো বা বর্তমান সময়ে বাঁশ বনে এসব দেখা দিতে পারে।  কারণ এখন নিবিড় বাঁশ বন কোথাও নেই।  তাছাড়া বছর খানেক আগে বাঁশে ফুল ও ফল হওয়ায় অনেকে বীজ হতে নতুন বাঁশ বাগান সৃজন করেছেন।  তাই সে বাগান এখনও পরিপক্ক নয়।  বাঁশের মাটি ধরে রাখার দু’টি দিক রয়েছে।  একটি হলো বাঁশের মূল।  এ মূল বাঁশের গোড়া হতে শাখা প্রশাখার মাধ্যমে নতুন বাঁশ গজে উঠে।  এভাবে পুরো বাগানের বাঁশের মাটির অভ্যন্তরে মৌলের একটি বৃহৎ সম্পর্ক ও নেটওয়ার্ক থাকে।  আর অপরটি হলো ঐ মৌল হতে শক্ত ধরনের ছোট ছোট শেখড় থাকে।  এ শেখড় খুবই শক্ত এবং একে অপরের সাথে জালের মত সম্পর্ক গড়ে ওঠায় মাটি একেবারে শক্ত হয়ে থাকে।  যা মাটি ধ্বসে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকেনা আর।  সুতরাং মাটি বা পাহাড় ধ্বস রক্ষায় বাঁশ বাগানের কোন বিকল্প নেই। 
কেচ্যে ও ঝাড়– ফুল গাছঃ এদু’টি প্রজাতির উদ্ভিদ প্রায় একই গোত্রিয়ের।  কেচ্যে’র পাতা মসৃন আর ঝাড়– ফুল গাছের পাতা খুবই ধারালো।  শরীরে কোথাও লাগলেই কাটা যাবে নিশ্চিত।  এদু’টি উদ্ভিদও মাটি রক্ষায় অনেক ভ‚মিকা রাখে।  ইহাদের শেখর ঘন ও জালিয়াতিযুক্ত ফলে এরাও মাটি মজবুত করে ধরে রাখে।  যার কারণে মাটি ধ্বস হওয়ার কোন সুযোগ থাকে না।  বর্তমানে ঝাড়–ফল উদ্ভিদ থাকলেও কেচ্যে প্রজাতির উদ্ভিদ এখন বিলুপ্ত প্রায়।  পূর্বে যেখানে বাঁশ বন নেই সেখানে সমস্তই থাকত কেচ্যে বন ।  কেচ্যে গরু, ছাগলের আকর্ষণীয় ও আদর্শ খাবারও বটে। 
শনঃ শন বসত বাড়ির চাল নির্মাণে খুবই প্রসিদ্ধ।  এক সময় যখন ঢেউটিন আবিস্কার হয়নি।  তখন এ শন দিয়েই ঘরের চাল ঢাকা হতো।  শন দিয়ে চাল নির্মাণ করা হলে ঘরে তাপমাত্রা খুবই ঠান্ডা থাকে।  বর্তমানে এ শনের চালা ঘর আর চোখের নজরে পড়ে না।  এখন সব ঢেউটিন।  আর এ কারণেই হয়তো বা এখন অতিরিক্ত তাপমাত্রা অনুভ‚ত হয় মানুষের।  তবে শনের ঘরে আগুনের ঝুঁকি শতভাগ থাকে।  কিন্তু এ শন মাটি রক্ষায় অধিকাংশ ভ‚মিকা রাখে।  কারণ শন ঘন প্রজাতির একটি উদ্ভিদ।  এ উদ্ভিদের শেখড় সারা মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে মাটির নিচে জাল তৈরি করে।  একটি দালানে রড যেমন কাজ করে মাটিতে ঠিক তেমনই কাজ শনের শেখড়।  যারফলে মাটি হয়ে ওঠে শক্ত ও মজবুত।  শনের বাগানের মাটি এত শক্ত যে, কোদাল দিয়ে কাটলেও কোদাল মাটিতে তেমন পুটে না।  এ শন এক সময় পাহাড়ের সমস্ত বুকজুরে ছিল।  শুধুমাত্র নিবিড় বাঁশ বন ছাড়া সকল স্থানে এ শন জন্মাতে থাকে।  যার কারণে ইতিপূর্বে কোথাও কোন এ ধরণের বর্ষায়ও মাটি ধ্বসের অবস্থা দেখা যায়নি।  যা আজ এ মহামূল্যবান শন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।  আমার ধারণা এ কারণেই মাটি তার অস্থিত্ব হারিয়ে ফেলেছে।   
প্রসঙ্গতঃ এমন এক সময় এ শন ছিল পাহাড়ে অন্যতম প্রধান অর্থকরী সম্পদও। 
শন গাছবন, কেচ্যেবনসহ পাহাড়ের সমস্ত ভ‚-পৃষ্ঠজুড়ে ছিল।  যার কারণে সে সময় বজ্রপাতসহ অতিরিক্ত বৃষ্টি বর্ষণেও আজকের মত এমন প্রাকৃতিক ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারেনি।  শন বিলুপ্তির পেছনে দায়ী হলো জঙ্গর পোড়ানো বা বনে আগুন দেওয়া।  বার বার বন আগুনে পুড়তে পুড়তে পরিণামে প্রকৃতির এ মহামূল্যবান উদ্ভিদ শন বিলুপ্ত আজ। 
এসব প্রাকৃতিক সম্পদগুলি বিলুপ্তির পেছনে আমরা নিজেরাই দায়ী।  যেমন বর্তমানে চাষাবাদে আগাছা নাশক যে রাসায়নিক শক্তি ও পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে সেটি বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদকে আরও বিলুপ্ত করে দিচ্ছে।  প্রকৃতি রক্ষা করতে হলে এসবের ব্যবহার প্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে আগে। 

মাটিঃ মাটির উপরিভাগে সাধারণত কয়েকটি স্তর রয়েছে।  তার মধ্যে সবচেয়ে উপরি অংশ বা স্তর অনেকটা চামড়ার মত একটি আবরণ।  এমনকি এটাকে মাটির চামড়াও বলা যেতে পারে।  মাটির এ অংশটি ১ থেকে দেড় ফুট চওড়া হতে পারে।  মাটির এ চামড়ার অংশটাকে রক্ষা করতে না পারলে মাটির অস্থিত্ব আর থাকে না।  কারণ মাটির এ চামড়ার নিচের অংশ অর্থাৎ গর্ভস্তর খুবই নরম এবং ঝর ঝরে।  যেখানে পানি ঢুকতে পারলে সম্পূর্ণ মাটি দালান নির্মাণের মসলার মত তরল হতে পারে।  আর এ মসলা জাতীয় তরল মাটি তখন বসে থাকতে পারে না।  সেটা ধ্বসে যায় সেই মসলার মত তরল হয়ে। 
এখন কথা হলো আমাদের মাটির চামড়ার অস্থিত্ব আর নেই।  কারণ মাটির চামড়াকে শক্ত করে ধরে রাখার অনেক উদ্ভিদ আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি।  যেগুলোর অস্থিত্ব এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না।  এখন মাটির চামড়া কিছুটা শক্ত থাকলেও দীর্ঘ সময় নিবিড় বৃষ্টি বর্ষণে এ চামড়া ভেদ করে নি¤œস্তরের বা গর্ভস্তরের নরম মাটিতে পানি প্রবেশ করতে পারে।  ফলে মাটি সম্পূর্ণ মসলা ও তরল হয়ে যায়।  তখন আর মাটির ধারণ ক্ষমতা থাকে না।  তাই ধ্বসে যেতে বাধ্য হয়।  প্রবল বর্ষণে কিন্তু পানি দ্রæত নিষ্কাশন হয়ে যায়।  পানি ডাঙায় বা তার চামড়ায় থেমে থাকতে পারে না।  অপরদিকে প্রবল বর্ষন দীর্ঘস্থায়ীও হয় না।  সেটি হয় এক ফসলা।  কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে নিবিড় ঝরে দ্রæত পানি নিষ্কাশন হতে পারে না।  ফলে মাটি ধীরে ধীরে পানি শোষণ করে নেয়।  বিগত দুর্যোগপূর্ণ জুন মাসের বৃষ্টিকে আমরা সবাই প্রবল বর্ষণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলাম।  আদপে সেটি প্রবল বৃষ্টি ছিলনা।  সেটি ছিল একই ধারায় দীর্ঘ সময়ের নিবিড় বৃষ্টি।  যার ফলশ্রæতিতে মাটি তার চামড়া ভেদ করে অভ্যন্তরে পানি শোষণ করতে পেরেছে এবং চামড়ার নি¤œস্তরের নরম মাটি তখন মসলাযুক্ত ও তরলে পরিণত হতে পেরেছে।  এমতাবস্থায় মাটি আর নি¤œস্তরের তরল ডায়রিয়া (মাটি) কে তার চামড়া দ্বারা আবৃত রাখতে পারে নি।  যার পরিণাম হলো ভ‚মি ধ্বস!
অপর পক্ষে পাহাড় কাটলে ভ‚মি ধ্বসের কারণ হলো; মাটি কাটলে তার আবরণী চামড়া কাটা যায়।  ফলে মাটি ইচ্ছেমত পানি চুষে নেয় বা ঝরঝরে নরম মাটিতে ইচ্ছমত পানি প্রবেশ করতে পারে।  তাই পাহাড় কাটায় ভ‚মি ধ্বস অবধারিত। 
 
সুতরাং ভ‚মি ধ্বস রক্ষায় আমাদের মাটির অস্থিত্ব তথা চামড়ার আবরণীকে রক্ষা করতে হবে।  এ ক্ষেত্রে যেসব উদ্ভিদসমূহ ভ‚মিকা রক্ষা করে সে সব উদ্ভিদগুলোর সংরক্ষণ, প্রজন্ম সৃষ্টি ও বাড়াতে হবে।  তার মধ্যে শন ও বাঁশ অগ্রগণ্য।  এর পাশাপাশি কেচ্যে ও ঝাড়– ফুলের গাছ ইত্যাদি সংরক্ষণে আমাদের সচেষ্ট হতে হবে।  তবে তার পূর্বে আর একটি বিষয় সামাজিক ও প্রশাসনিকভবে গুরুত্ব দিতে হবে।  সেটা হলো আগাছা নাশক এসিড বা পদার্থ।  যেটি বর্তমানে কৃষকদের সাড়া জাগিয়েছে এবং যা ছাড়া কোন কৃষক চাষ করছে না তা বাজার থেকে বিলুপ্ত করতে হবে।  প্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।  তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে ভ‚-পৃষ্ঠে আর কোন উদ্ভিদই থাকবে না এবং জন্মাতে পারবে না।  তখনকার মানুষের দুর্গতি ও পরিস্থিতি কিরূপ হতে পারে সেটা বলাই বাহুল্য। 
এতএব মানব সভ্যতার কল্যাণে সময়ের কাজ যথা সময়ে সম্পাদন হিসেবে এখনই এ আগাছা নাশক এসিড বা পদার্থকে বাজারে বিক্রয় এবং এর ব্যবহার প্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হোক!

পুষ্প মোহন চাকমা
গণমাধ্যমকর্মী
বিলাইছড়ি, রাঙামাটি।