৪:০১ এএম, ৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার | | ১১ শা'বান ১৪৪১




ফেইসবুকে বৃদ্ধি পেয়েছে "মহাবীর ও মহাজ্ঞানীর"

১৭ মার্চ ২০২০, ০৫:১১ পিএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: যেকোনো ব্যক্তির প্রসার ঘটে তাঁর প্রচারের মাধ্যমে অথবা অলৌকিক ক্ষমতা গুণে।  এই প্রচারের জন্য রয়েছে  বিভিন্ন ক্ষেত্র বা মাধ্যম। 

যাকে আমরা প্রচারমাধ্যম বলি।  প্রচারমাধ্যম গুলো যেমন : রেডিও-টেলিভিশন-বিভিন্ন পত্রিকা-

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও রয়েছে বর্তমানে বহুল আলোচিত ফেইসবুক-ওয়াটস্অ্যাপ -ভাইবার-টুইটার-ইমু-মেসেন্জার ইত্যাদি ইত্যাদি। 

জনস্বার্থে দেশের কল্যাণে কোনো গুরুত্বপূর্ণ খবর তখন রেডিও,টেলিভিশন ও পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জনগণের নিকট পৌঁছে দেওয়ার উত্তম মাধ্যম ছিলো যা আজো নিরলসভাবে করে যাচ্ছে ।  দেশে  তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে দেশে খবরা-খবর প্রচারের ধরণেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। 

তখনকার সময়ে বিটিভির পাশাপাশি "একুশে"-টেলিভিশনের দারুণ জনপ্রিয়তা ছিলো তার কারণ হলো তাঁরা ঘটনাস্থলের খবর লাইভে দেখাতো আর নতুনত্ব কিছু দেখার কারণে সেটা অর্জন করতে সক্ষম হতো। 

সে খবর দেখার জন্য এখন আর আগের মতো অপেক্ষা করতে হয়না, তখন খবর দেখতে পেত নির্দিষ্ট সময়ে।  আর যারা খবরের কাগজ পড়ে তাঁরাই গুরুত্বপূর্ণ খবর জানিয়ে দিতো বাজারে-চায়ের দোকানে-কোনো আড্ডায়।  সবার নিকট দেশের খবরা-খবর থাকতোনা বিদেশের খবরতো নয়-ই।  কেননা শিক্ষিত লোক গুলোই খবর রাখতো কিংবা টিভিতে দেখতো যারা প্রয়োজন মনে করতো।  বাকিরা টিভির রিমোর্ট নিয়ে বসে থাকতো যাদের নিকট ডিশের কানেকশন রয়েছে তাঁরা বিভিন্ন চ্যানেলে গুরে। 

এখনতো আর সে সময় নেই, গুগলে দুনিয়ার সকল তথ্য মুহূর্তেই পেয়ে যাচ্ছে, আর ইউটিউব সার্চ করে যে ফ্লিম বা সিনেমা-নাটক দেখেনি সেটাও ইচ্ছে করলে দেখে নিতে পারে, যেকোনো খবর তৎক্ষনাৎ ফেইসবুকে ভাইরাল হয় তাও মুহূর্তেই জেনে নিচ্ছে।  যা আমাদের জন্য গ্রহণযোগ্য আর মানানসই সেটাই আমরা গ্রহণ করি আর সঠিক তথ্য ও খবরও ভাইরাল করা নৈতিক দায়িত্ব কেননা একটি - "ফেইকনিউজ" অনেক দূর্ঘটনার কারণ হয় এবং তা বাস্তবে ঘটছেও।  আমাদের সচেতন হতে হবে কোনো তথ্য বা খবর প্রকাশকালে। 

বিশেষ করে যে খবরগুলো প্রকাশের সে খবরও মাঝে মাঝে অপ্রকাশিত হয় যেটার জন্য সংবাদ মাধ্যমকে দায়ী করা হয়।  কখনো কখনো সে খবর প্রচার করতে গিয়ে হুমকির স্বীকার হচ্ছে নতুবা একপক্ষের কাছে ভয়ের আরেক পক্ষের কাছে রয়েছে জীবনের ঝুঁকি তাহলে কেমনে  স্বাধীনভাবে প্রচারমাধ্যম এগিয়ে যাবে? না আছে তাদের কোনো পুলিশ প্রটেকশন,না আছে কোনো নিরাপত্তা? যাঁরা সত্যকে উন্মোচন করে তাদের পিছনে শত্রুতা জন্ম নে সেটা স্বাভাবিক তবে তাঁকে হত্যা কিংবা আহত করা তাদের বিবেকে কি এইটুকু বাঁধা দে'না আসলে তারা সত্যকে মাটিচাপা দিচ্ছে! এইরকম পরিস্থিতি বর্তমানে বিরাজমান নানান ক্ষেত্রে,,,,,রাজনীতিতে দেখেন যারা বস্তুত একটি আদর্শকে বুকে ধারণ করে,ত্যাগ স্বীকার করে নেতার আসনে আসীন তাঁরা কিন্তু প্রচারবিমূখ বা তেমন আগ্রহ প্রকাশ করেনা, নেতা যা বলেনা,নির্দেশ দে'না, যা করা উচিৎ নয়, কর্মীরা তা করে বসে ফলে নেতাকে লজ্জায় ফেলে। 

কাউকে ডেকে আনতে বললে বেঁধে নিয়ে আসে, নেতা যা বক্তব্যে বলেনা তার চাইতে বেশি প্রচার করে তাও আবার আবেগের বশবর্তী হয়ে নেতাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যায় তার সমকক্ষ কেউ নেই, ফেইসবুকে নেতার পিছনে দাড়িয়ে ছবি আপলোড করে আর হুংকার দে,,কেউ নেগেটিভ করে বসলে তো কথায় নেই অথচ নেতারা কি তা জানে? বেশিরভাগ নেতারা ফেইসবুকও ব্যবহার করে না অথচ বেনামে নেতার  ছবি ব্যবহার করে নানান অপকর্মে জড়িয়ে থাকে।  নিজেকে নেতার একনিষ্ঠ কর্মী দাবী করে, দেখা যায় খুব একটা ভাব নিয়ে চলাফেরা করে, তখন নেতাকে মনে হয় কর্মী। 

শহীদ বীরশ্রেষ্ঠদের পরে "বীর" থাকলেতো "বঙ্গবীর"-উপাধি পাওয়া বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী সাহেব আছে।  সুতরাং নিজেকে আকাশচুম্বীতে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, যতটুকু নিজের মধ্যে বিদ্যমান ঠিক ততটুকুই থাকা সমীচীন।  আর ফেইসবুক সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো ভালো কিন্তু আমরা তার বিপরীতে খারাপটাকেই বেশি গ্রহণ করছি।  যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, যতই আধুনিক মৃত্যুর ধরণ,নির্যাতনের ধরণ,নারীঘটিত ঘটনা সবি যেন এক মঞ্চে আগে থেকে মঞ্চায়ন করেছে। 

এই সাইটের মাধ্যমে যেমন একজন নিরক্ষর শিখেছে অক্ষর, আবার বেড়েছে বুদ্ধিও, শিখে নিয়েছে খুটিনাটি বিষয় যা আমাদের জন্য আশীর্বাদ।  সেও এখন অ্যাপসগুলো ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নিতে পারে।  প্রতিটি মুহূর্তে মুহুর্তে জ্ঞানের কথা, বিধিনিষেধ,চিকিৎসা সেবা,ইসলামের কথা,নামাজের কথা,বিভিন্ন বিভিন্নরকম স্ট্যাটাস যা একজন ইউজারের জন্য জ্ঞানের ভান্ডার তাই বলে এমন জ্ঞানের স্ট্যাটাস আপলোড করার প্রয়োজন নেই যেটার ফলে ফিৎনা, অগ্রহণযোগ্য হবে,সমালোচনা হবে বেশি, জনে জনে ছড়িয়ে যাবে একসময় বড় দূর্ঘটনায় রুপ নিবে। 

তাই আমরা নয় বীর, নয় জ্ঞানী এই ধারণা থেকে বেড়িয়ে পড়ি, নিজেকে প্রকৃত শিক্ষায় আলোকিত করি, ভালোকে মূল্যায়ন করি আর দেশের সেবায় ছড়িয়ে পড়ি। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।