৭:৩৪ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




ফোনালাপে আদালত অবমাননা: ইবি ছাত্রলীগ সম্পাদকের শাস্তি দাবি

৩০ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:৫৮ পিএম | নকিব


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সাথে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির ফোনালাপের আরোও একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়েছে। 

২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের অডিওটিতে আদালত নিয়ে নানা আপত্তিকর বক্তব্য উঠে এসেছে। 

মঙ্গলবার রাতে বিভিন্ন ফেসবুক একাউন্ট থেকে অডিও ক্লিপটি প্রকাশ করা হয়।  এরপরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় অডিওটি। 

অডিওতে সম্পাদক রাকিব আদালত ও বিচার ব্যাবস্থা নিয়ে নানা মন্তব্য করেন।  যাকে আদালত অবমাননা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  কথোপকথনে রাকিব হাইকোর্টে এক রিট সম্পর্কে বলেন, 'হাইকোর্টে রিট করে রায় কিনে আনতে হবে।  সেই লাইনও আছে।  টাকা লাগবে।  হাইকোর্টে এমন এমন যায়গায় এমন এমন লাইন আপনি যেভাবে রায় চাইবেন সেভাবেই দিবে।  এসব পথ আমি পাড়ি দিয়ে এসেছি।   রায় সব কেনা যায়। '

অডিওতে আদালত অবমাননার প্রতিবাদে ও শাস্তির দাবিতে বুধবার মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীরা।  বেলা সাড়ে ১২ টায় প্রশাসন ভবনের সামনে তার এ মানববন্ধন করেন।  মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবমাননার দায়ে রাকিবের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন৷ এসময় তাকে  বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ থেকে  বহিষ্কারের দাবিও করেন তারা। 

এরআগে অডিও প্রকাশ হওয়ার পর তাৎক্ষণিক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  রাতে ক্যাম্পাসের জিয়া মোড় এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা।  মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে গিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়৷

সমাবেশে বক্তারা রাকিবের আদালত অবমাননার প্রতিবাদ ও তার বিচারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন।   এছাড়াও শাখা সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ ও সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের কমিটি বাতিল করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে নতুন কমিটি দেওয়ার দাবি করেন। 

প্রসঙ্গত, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের ও ৪০ লাখ টাকার বিনিময়ে নেতা হয়ে আসা নিয়ে ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের দুটি অডিও ভাইরাল হয়।  অডিও প্রকাশ হওয়ার পর শাখা ছাত্রলীগের বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।  এরপর তাকে দলীয় কাজে ক্যাম্পাসে আসতে দেখা যায়নি।  একাডেমিক কাজে কয়েকবার আসলেও কর্মীদের ধাওয়ায় ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।