৯:০৮ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১৪ মুহররম ১৪৪০


ফরিদগঞ্জ বিষপূরণ মতো ছড়িয়ে পড়ছে পলিব্যাগ

১৩ মার্চ ২০১৮, ০৭:৫২ পিএম | সাদি


জাকির হোসেন সৈকত, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলা জুড়ে আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন।  হাট-বাজার ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে  এসব পলিথিনে।  প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন-শপিংব্যাগ।  প্রতিদিন ঢাকা থেকে আনা হচ্ছে শত শত কেজি পলিথিন।  নিষিদ্ধ পলিথিন শপিংব্যাগে উপজেলা সদরসহ গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার এখন ব্যাপক হারে বেড়ে গেলেও উপজেলা প্রশাসন রয়েছে নীরব দর্শকের ভূমিকায়।  ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নাকের ডগায় প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে এসব পলিথিন-শপিংব্যাগ। 

উপজেলার সদর থেকে শুরু করে আশেপাশের সকল বাজারে গ্রামেও প্রকাশ্যে বিক্রি ও ব্যবহার হচ্ছে বেআইনি এসব পলিথিন।  এতে চরম ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশ ও প্রাণীকুলের।  কোথায় নেই পলিথিন? কাঁচা বাজার থেকে শুরু করে মাছ-মাংস, অন্যান্য খাবার এমনকি প্রসাধনীসহ কিছু কিনলেই পলিথিনের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিচ্ছে দোকানিরা।  আর অবাধ পলিথিনের ব্যবহারের কারণে এখন আর কেউ চট বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহারই করছে না।  এর প্রভাবে পাটশিল্প দিনে দিনে ধ্বংস হচ্ছে, পাটের দাম না পাওয়ার ফলে পাটচাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে কৃষক।  এছাড়া সরকারিভাবেও এখন আর পলিথিনের ক্ষতিকর দিক নিয়ে নেই কোনো প্রচার-প্রচারণা। 

যেসকল বাজার গুলোতে বেশির ভাগ ব্যবহার নিষিদ্ব  পলিথিন যেসন, ফরিদগঞ্জ বাজার, গৃদকালিনন্দিয়া বাজার,নয়াহাট বাজার,কালির বাজার, রুপসা বাজার, ধানুয়া বাজার, খাজুরিয়া বাজার, শোল্লা বাজার, গাজীপুর বাজার, রামপুর বাজার, ফিরোজপুর বাজার, চান্দ্রা বাজারসহ আরো ছোনট খাটো সকল শপিং সেন্টার। 

পলিথিন বিক্রির ব্যাপারে মুদি দোকানদারদের সাথে কথা বললে তারা জানান, পৌরসভার চরবসন্ত গ্রামের আনোয়ার হোসেন, উপজেলার চাঁন্দ্রবাজারের লিটন মোল্লাসহ আরো অনেকে, রাজধানী শহর ঢাকা থেকে সপ্তাহে হাজার হাজার কেজি পলিথিন গুদামজাত রেখে আমাদের দোকানে বিক্রি করে যায়, তাই আমরা গ্রাহকদের নিকট বিক্রি করি।  সে তো বলে আমার পলিথিনের বৈধ লাইসেন্স আছে আমরা কি করব বলেন? তারা বলেন, আমাদের দোকানে মোবাইলকোর্ট আসে অন্য ব্যাপারে হাজার হাজার টাকা ফাইন করেন কিন্তু প্রকাশ্যে পলিথিন বিক্রি করলেও নিষেধ করেন না। 

এদিকে দেখা যায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি, বেসরকারি, এনজিওদের অনুষ্ঠানের খাবারও প্যাকেট করা হচ্ছে পলিথিনের ব্যাগে।  জানা যায়, ১৯৮২ সালের দিকে শুরু হয় পলিথিন শপিং ব্যাগের প্রচলন।  ব্যবহারে সুবিধা এবং স্বল্পমূল্যের কারণে দ্রুত ঘরে ঘরে পৌঁছে যায় পলিথিন ব্যাগ।  ওই সময় পলিথিনকে মানুষ ভালো মনে করলেও এখন এটাকে মারাত্মক ক্ষতিকারক হিসেবে দেখছেন।  ব্যবহার যেমন বাড়তে থাকে তেমনি ধীরে ধীরে পলিথিন যে পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর, তা প্রকাশও হতে থাকে। 

এভাবেই সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়।  এটাকে আইন করে নিষিদ্ধ করা হলেও বর্তমানে দিন দিন ব্যবহার বাড়ছে ফলে পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রভাবতো পড়ছেই, গোটা ড্রেনেজ সিস্টেমকে বন্ধ করে দিচ্ছে, বাড়ছে জলাবদ্ধতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপরও সৃষ্টি হচ্ছে মারাত্মক হুমকি।  দ্রুত কমে যাচ্ছে জমির হিউমাস নষ্ট হয়ে উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং কমছে ফসলের উৎপাদন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ. এইচ এম মাহাফুজুর  রহমান বলেন, আমরা খুব দ্রুত মোবাইল কোর্ট মাধ্যেমে এই বিষয়ে ব্যবস্তা গ্রহন করিবো।  সচেতন মহল অবাধে পলিথিন ব্যাগ বিক্রি বন্ধে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 


keya