৩:১০ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ২ রবিউস সানি ১৪৪০




নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

ফরিদগঞ্জে ভেজাল খাদ্যে বাজার সয়লাব

১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০৮:৩০ পিএম | সাদি


জাকির হোসেন সৈকত, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) : ফরিদগঞ্জ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভেজাল, রং মিশ্রিত, মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বাজারে সয়লাব।  এসব ভেজাল শিশু খাদ্যে ফরমালিন, ট্যালকম পাউডার,পাঁচা তেঁতুল, পাঁচা আম, আমড়া ও ঘন চিনি দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন প্রকারের জুস,পাইপ আউসক্রীম, চুইংগাম, আচার, রকমারি চিপস, বিস্কুট, শনপাপড়ি, কেক, লোভনীয় চকলেট এখন বাজারে।  রকমারী নামিদামী কোম্পানির নাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে তৈরি ভেজাল এসব শিশু খাদ্য খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।  দ্রুত এসব ভেজাল শিশু খাদ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান সহ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে সচেতন মহল। 

বাজারে লিচু ড্রিংক, ফুট ড্রিংক, স্ট্রবেরি, জাম, আম স্বাদের রকমারী চকোলেট, ফুলক্রিম দুধ, বাহারী জুস, চিপসসহ অন্তত ৫০ ধরনের ভেজাল, শরীরের জন্য ক্ষতিকর রং মিশ্রিত শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে।  ১ থেকে ১৫ টাকা মূল্যের শিশুদের মন কাড়ানো এসব শিশু খাদ্য সহজলভ্য হওয়ায় এর চাহিদাও অনেক বেশি, কিন্তু ভেজাল এসব শিশু খাদ্য খেয়ে পেটের পীড়া, অপুষ্টি, কৃমিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কম বয়সী শিশুরা। 

এর মধ্যে আবার গ্রামাঞ্চলের শিশুদের সংখ্যা বেশি।  আবার এসব ভেজাল পণ্য বিক্রেতাদেরও বেশি টার্গেট থাকে গ্রামাঞ্চলের স্কুল গুলোর  দিকে।  স্থানীয় এক  ব্যবসায়ী বলেন কম দামের জিনিসের ৯০ ভাগ গ্রাহক হচ্ছে শিশুরা।  তাই তাদের আকর্ষণ করতে রং মিশ্রিত করে সামান্য সেকেরিন দিয়ে মিষ্টি করে অনেক ধরনের জিনিস বাজারজাত করা হচ্ছে।  তারা নিজেরাও স্বীকার করে এর মধ্যে ৯৫ ভাগ জিনিসই দুই নাম্বার বা ভেজাল, যে লিচিতে সামান্য ফ্লেভার দিয়ে বাকি সব পানি। 

পাউডার দুধ বলে সব পাউডার, জেলীতে সব কৃত্রিম জিনিস, চকোলেটের অবস্থা আরো খারাপ।  জুস ও চিপসতো ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত বারণ করেন।  তবে কি করবো ব্যবসার কারণে বিক্রি করতে হচ্ছে।  তবে গ্রামাঞ্চলে এসব পণ্য বেশি বিক্রি হয় বলেও জানান তারা।                                                                                              

সাফুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, গ্রামের প্রতিটি দোকান এসব ভেজাল বাহারী পণ্য খুব সুন্দরভাবে প্রদর্শনী করে।  আর দামেও সস্তা হওয়ায় গ্রামের শিশুরা এসব পণ্য বেশি খায়।  এজন্য তাদের ডায়রিয়াসহ নানা জটিল রোগ সবসময় লেগে থাকে।  এজন্য তিনি অভিভাবকদের বেশি সচেতন হতে পরামর্শ দেন।  নাস্তার সময় শিশুদের কলা বিস্কিট, ডিম এসব খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। 

তিনি আরও বলেন,অনেকে আদর করে বাচ্চাদের হাতে টাকা দেয় সেটা না দিয়ে তাদের টিফিন দিতেও অভ্যস্ত হতে আহবান জানান।  সর্বোপরি অভিভাবকদের বেশি সচেতন হতে হবে শিশু দোকানের সেইসব খাবারের প্রতি আসক্তি কমাতে হবে।  আর নিয়মিত ডিম, কলা, দুধ, বিস্কিট, আটার তৈরি রুটি খেতে অভ্যস্ত করতে হবে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম শীপন বলেন, এসব খাদ্য খেয়ে শিশু আর স্বাভাবিক খাদ্য খেতে চায় না।  এতে যে বয়সে যত ওজন বাড়ার কথা তত বাড়ে না।  শিশু অপুষ্টি রোগাক্রান্ত হয়ে থাকে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এইচ.এম মাফুজুল রহমান বলেন, আমি এই বিষয়ে স্কুল ম্যনেজিং কমিটির সাথে কথা বলবো।  এবং খুব দ্রুত মোবাইল র্কোড মধ্যে দিয়ে তাদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো।  আমরা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান দের সাথে কথা যোগাযোগ করবো যাতে শিক্ষার্থীদের এই সকল বেজাল পন্য থেকে বিরত থাকে।