৭:০৮ এএম, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৬ শাওয়াল ১৪৪০




ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষায় অর্থ আদায়

১৯ মে ২০১৯, ১০:৫৪ পিএম | জাহিদ


মো.মেহেদী হাসান, বরগুনা : বরগুনার বেতাগী সরকারি কলেজের এইচএসসি পরিক্ষাকে কেন্দ্র করে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে ব্যবহারিক পরিক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠি উপেক্ষা করে প্রতি বিষয়ে ২৫ টাকার বদলে ২০০-৪০০ টাকা আদায় করছেন কলেজ অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমীন ও কেরানি। 

বৃদ্ধ এক অভিভাবক ভীতকণ্ঠে বলেন, মোর (আমার) মাইয়া (মেয়ে) সাইন্সে পড়ে মুই (আমি) মোর মাইয়্যার প্রাট্টিকাল (ব্যবহারিক) পরিক্ষায় শুধু ফেল করবে হেই (সেই) ভয়ে তিন বিষয়ে ১২০০টাহা দিছি। 

জানা গেছে, বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছিল ২৫ টাকা সেখানে কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রতি বিষয় বাবদ ২০০থেকে ৪০০টাকা পর্যন্ত আদায় করে নিয়েছে।  একইসাথে যদি ব্যবহারিক পরিক্ষার ফি না দেয় তবে পরিক্ষার্থীদের ফেল করানোর ভয় দেখিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ ও বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ। 

কলেজ থেকে পাওয়া তথ্যনুসারে, এবারে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষায় বেতাগী সরকারি কলেজ থেকে ৬৮২জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন।  একই সাথে জানা যায়,বিগত সময়ে উক্ত পরিক্ষার ফরম পূরণের সময়ে শিক্ষার্থী প্রতি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি বাবদ বিজ্ঞান বিভাগে ৭৫৫ টাকা এবং মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা বিভাগে ৪০০ টাকা আদায় করে নেওয়া হয়। 

পরিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে ও গোপন সূত্রে তথ্য নিলে জানা যায়, অনুষ্ঠিতব্য মূল বিষয়ের লিখিত পরিক্ষার পরে ব্যবারিক পরিক্ষার খাতায় স্ব-স্ব বিভাগের শিক্ষকগন, কলেজ কেরানী দিপকের মাধ্যমে কোন ধরনের রিসিভ ছারাই বিষয় ও জন প্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে ফেল করানোর ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন । 

এর মধ্যে আইসিটি বিষয় ৬৮২ জন পরিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০০টাকা করে ১লাখ ৩৬হাজার ৪শত টাকা, ভূগোল বিষয়ে ১৮০ জনের কাছ থেকে জন প্রতি ২০০ টাকা করে ৩৬ হাজার টাকা, কৃষি ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানে ২৯৫ জনের কাছ থেকে দুই বিষয় বাবদ ৬০০ টাকা করে ১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা, রসায়ন (প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র) ২০০ জনের কাছ জন প্রতি ৪শত টাকা করে থেকে ৮০হাজার এবং জীববিজ্ঞান (প্রথম পত্র ও দ্বিতীয় পত্র) ২০২ জনের কাছ থেকে জন প্রতি ৪০০ টাকা করে ৮০ হাজার ৮শত টাকা।  যার মোট হিসাব অনুযায়ী ৫লাখ ৯ হাজার ৪শত টাকা আদায় করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।  যদি সঠিকভাবে বোর্ডের নির্দেশ মেনে আদায় করা হতো তবে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫০টাকা আদায় করা যেত।  সেখানে ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৫০ টাকাই এক ব্যবহারিক পরিক্ষাকে কেন্দ্র করে বেশি আদায় করেছে বেতাগী সরকারি কলেজ কর্তৃপক্ষ। 

বেতাগী সরকারি কলেজে পড়ুয়া এইচএসসি পরিক্ষায় অংশগ্রহনকারী একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ফরম পূরণের সময়ে ব্যবহারিক পরিক্ষার ফি কলেজের কেরানী দিপক আদায় করেছেন।  একই পরিক্ষার ফি কয়বার আদায় করবে আমারা বুঝিনা।  আবার কিছু বলেতে গেলেই স্যাররা বলেন, ব্যবহারিক এর নম্বর আমাদের হাতে একদম ফেল করাইয়া দিবো। 

নাম না প্রকাশের শর্তে বেতাগী সদর ইউনিয়নের একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, বেতাগী সরকারি কলেজের দূর্নীতি নতুন নয়।  সরকারের কলেজ এখন অধ্যক্ষ নুরুল আমিন ও কেরানী দিপক এর দখলে।  এমন কোন পরিক্ষা নেই যে পরিক্ষায় ফরম পূরণ থেকে শুরু করে অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় না করছে।  আমিও ভয়ের কারনে নাম প্রকাম করতে পারছিনা।  কারন, আমার ছেলেরও ব্যবহারিক পরিক্ষা রয়েছে।  প্রশাসনের নজর নেই বললেই চলে। 

এ বিষয় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. নুরুল আমীন বলেন, আমরা বোর্ডের নিয়মনীতি মেনেই পরিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।  পরিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, ব্যবহারিক পরিক্ষা টাকা আদায়ের ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।