৮:৩০ এএম, ১৯ আগস্ট ২০১৮, রোববার | | ৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


ফেসবুকের ৪০ ভাগ ‘লাইক’ কিনে বাংলাদেশীরাই

১৮ এপ্রিল ২০১৮, ০২:৪৮ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : ফেসবুকে ‘লাইক’র ছড়াছড়ি।  পছন্দের কিছু দেখলেই আপনি লাইক দেন।  এটা ভৌতিক সিনেমা কিংবা প্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান যে কোনো কিছুই হতে পারে।  কিন্তু এর বাইরেও লাইক দেয়া হয়।  টাকা দিয়েও কেনা হয় লাইক।  কারা সবচেয়ে বেশি লাইক কেনে? উত্তরটা বেশ বিস্ময়কর।  বাংলাদেশ!

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুক থেকে যত লাইক কেনা হয়, তার মধ্যে ৪০ ভাগই কেনেন বাংলাদেশিরা। 

‘লাইক’ নামে প্রামাণ্যচিত্র করতে গিয়ে নিউ ইয়র্কভিত্তিক বিকল্পধারার চলচ্চিত্র নির্মাতা গ্যারেট ব্র্যাডলি ফেসবুকের এই মিলিয়ন ডলারের ‘লাইক ব্যবসা’ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন।  এতে তিনি যা পেয়েছেন তাতে নিজেই চমকে গেছেন।  ব্রাডলি জনসচেতনতা তৈরি লক্ষ্যে প্রামাণ্য তথ্যচিত্র তৈরি করেন। 

গ্যারেট ব্র্যাডলি বলেন, ‘আমি লাইককে দেখেছি সস্তাশ্রমের দৃষ্টিকোণ থেকে, এটা একটা বিষয় যা সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষই জানে না… এবং কিন্তু ঢাকায় গিয়ে দেখলাম পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ’

এতে দেখানো হয়. ফেসবুকে বিশ্বের কেনা লাইকের ৪০ শতাংশের ক্রেতাই বাংলাদেশ।  গ্যারেট ব্র্যাডলি দেখতে পান, লাইক কিনতে বাংলাদেশের মানুষ কোনো কার্পণ্যই করছে না।  বাংলাদেশে যেখানে ভাল চাকরির যথেষ্ট অভাব রয়েছে, এমন একটি দেশে ফেসবুকে লাইক দিয়ে বেশ ভালো অঙ্কের অর্থ উপার্জনও করা যাচ্ছে।  এর মাধ্যমে মানুষ খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পাচ্ছে এবং এ কাজে যথেষ্ট স্বাধীনতাও আছে। 
 
ব্রাডলি বলেন, ‘আমার মতে সমগ্র বিশ্বের সাথে সংযুক্ত থাকার সঙ্গে আরো অনেক বিষয় জড়িয়ে আছে।  আমাদের চেনাজানা অনেকেই ফেসবুক ও ইন্টারনেটের কারণে নিজ শহরের বাইরের বিষয়ের সঙ্গেও একাত্মবোধ করেন।   
 
ফেসবুক পেজে লাইক দেয়া যতটা জটিল মনে হয় বিষয়টা আসলে ততটা নয়।  সাধারণত ব্যক্তি নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে লাইক করে থাকে।  আরেকটা হলো অন্যের কোনো পোস্টে লাইক দেয়া। 
 
এটার জন্যই কী বাংলাদেশ বিশ্বের কেনা লাইকের ৪০ শতাংশ কেনে? ব্র্যাডলি বলেন, বাংলাদেশ একটি উৎসাহী দেশ।  আর প্রচুর মানুষ বিশেষ করে যারা ঢাকায় থাকে তাদের ইন্টারনেট সুবিধা আছে, এবং তারা বেশ প্রযুক্তিপাগল।  আর দেশটির জনসংখ্যাও অনেক বেশি।  তাই আমি মনে করি এই সব বিষয়কে বিবেচনায় আনলে দেখা যাবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ বিষয়টি হয়তো অপরিহার্য বলে বাংলাদেশীরা বিবেচনা করেন।   

অবশ্য প্রচুর লাইক এখনো ভক্ত, বন্ধু, সাধারণ জনগণ, এবং পরিবার থেকেও আসে। 

গ্যারেটের ডকুমেন্টারিটি অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে।  জুনে অনুষ্ঠিতব্য লস এঞ্জেলেস চলচ্চিত্র উৎসবেও এটি প্রদর্শিত হবে।  সূত্র: পাবলিক রেডিও ইন্টারন্যাশনাল