২:২৯ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার | | ৪ সফর ১৪৪২




বইমেলার পর্দা উঠছে বুধবার

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এসএনএন২৪.কম : বছর ঘুরে দরজায় কড়া নাড়ছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা।  আগামীকাল বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে জাঁকজমক পূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বাংলা ভাষাভাষি মানুষের প্রাণের মেলা অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭।  মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, একই দিনে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০১৬ এর পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দিবেন। 

রাজধানীর বাংলা একাডেমি চত্বর ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাসব্যাপী থাকবে এ আয়োজন।  এবারে একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ১১৪ টি ও সোহরোওয়ার্দী উদ্যানে ৩২৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪৯টি, মোট ৪০৯টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৬৩টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।  ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ও ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা এবং ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে। 

একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরোওয়ার্দীতে বাংলা একাডেমির দুইটি প্যাভিলিয়ন থাকবে।  শিশুকর্নার এর অংশ থাকবে সোহরাওয়ার্দীতেও, শিশুকর্নারে এবার প্রথমবারের মতো যুক্ত হবে মাতৃদুগ্ধ সেবাদান কেন্দ্র।  প্রথমবারের মতো এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ব্যবস্থা। 

১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির তপ্ত প্রহরে পৃথিবীর প্রথম জাতি হিসেবে ভাষার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে, জীবন বিসর্জন দিয়ে বাঙালি তরুণ সমাজের প্রতিনিধি রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার প্রমুখসহ নাম না জানা আরও অনেকে প্রমাণ করে যান মাতৃভাষা মানবজীবনের কোন গৌণ বিষয় নয়।  মায়ের ভাষায় শেখা বুলিই একটি নবজাতক শিশুর পৃথিবীকে চেনার প্রথম মাধ্যম। বাংলা ভাষার জন্য এই মহান আত্মত্যাগ সারাবিশ্বের মানুষকে মাতৃভাষার মাহাত্ম্য উপলব্ধ করতে বাধ্য করে।  বাঙালির মহান ত্যাগকে সারাবিশ্বে স্বীকৃত করার জন্য ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। 

অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৭ এর পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ জানান, ‘এবারের বইমেলা হবে অন্যান্য বছরের তুলনায় ব্যতিক্রম।  কেননা এবার মেলায় থাকবে ভিন্নধর্মী কিছু প্রকাশনীর সংযোজন ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন।  এছাড়া মেলার অংশ হিসেবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গন ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উভয় অংশে থাকছে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের মঞ্চ এবং এবারের বই মেলায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে প্রতিটি স্থানে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় করা হয়েছে।  আশা করি, এবারের বইমেলায় আমরা বেশি সাফল্য পাব।  বইমেলায় ৪০৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ৬৬৩টি স্টল বসানোর ব্যবস্থা গ্রহীত হয়েছে। ’

প্রসঙ্গত, একুশে বইমেলার ইতিহাস স্বাধীন বাংলাদেশের মতোই সমৃদ্ধ।  ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে চিত্তরঞ্জন সাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বর্ধমান হাউজ প্রাঙ্গণের বটতলায় এক টুকরো চটের ওপর কলকাতা থেকে আনা ৩২টি বই সাজিয়ে বইমেলার গোড়াপত্তন করেন।  এই ৩২টি বই ছিলো চিত্তরঞ্জন সাহা প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা সাহিত্য পরিষদ (বর্তমান মুক্তধারা প্রকাশনী) থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশি শরণার্থী লেখকদের লেখা বই।  এই বইগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের প্রথম অবদান।  ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি একাই বইমেলা চালিয়ে যান।  ১৯৭৬ সাল অন্যান্যরা অনুপ্রাণিত হোন। 

১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক আশরাফ সিদ্দিকী বাংলা একাডেমিকে মেলার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত করেন।  ১৯৭৯ সালে মেলার সাথে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা ও প্রকাশক সমিতি; এই সংস্থাটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন চিত্তরঞ্জন সাহা।  ১৯৮৩ সালে কাজী মনজুরে মওলা বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে বাংলা একাডেমিতে প্রথম ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র আয়োজন করেন।  কিন্তু স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষা ভবনের সামনে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিলে ট্রাক তুলে দিলে দুজন ছাত্র নিহত হয়।  ওই মর্মান্তিক ঘটনার পর সেই বছর আর বইমেলা করা সম্ভব হয়নি। 

১৯৮৪ সালে সাড়ম্বরে বর্তমানের অমর একুশে গ্রন্থমেলার সূচনা হয়।  সেই ৩২টি বইয়ের ক্ষুদ্র মেলাকালের পরিক্রমায় বাঙালির সবচেয়ে স্বনামধন্য বইমেলায় পরিণত হয়েছে।  বাংলা একাডেমি চত্বরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে বইমেলা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। 

এন এ কে