৪:০৮ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার | | ১১ সফর ১৪৪০


‘বিএনপি যদি নির্বাচন করতে চায় আওয়ামীলীগ প্রতিযোগিতা করবে’

০৫ এপ্রিল ২০১৮, ০৮:৩০ পিএম | জাহিদ


আখলাছ আহমেদ প্রিয়, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :  আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন,  বিএনপি যদি নির্বাচন করতে চায় তাহলে আওয়ামীলীগ তাদের সাথে প্রতিযোগীতা করবে।  আর যদি তারা ধংশের রাজনীতি করতে চায় তাহলে আওয়ামীলীগ এর প্রতিরোধ করবে।  আওয়ামীলীগ যখন দেশের উন্নয়নের ঐক্যবদ্ধ বিএনপি তখন তা ধংশের পায়তারার লিপ্ত রয়েছে।  জনগন এখন আর বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। 

তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়ার জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।  কিন্তু দুদক সেখানে খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করে।  আপিল বিভাগের পূর্ণ বেঞ্চ জামিন স্থগিত করেন।  এ খানে সরকারের কিছু করার নেই।  মন্ত্রী আরও বলেন, জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধকরণ আইনটি বর্তমানে মন্ত্রী পরিষদ সভায় উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।  মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদন হলে তা সংসদে উত্থাপন করা হবে।  তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের জালাল স্টেডিয়ামে হবিগঞ্জ-লাখাই আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট মোঃ আবু জাহিরকে নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

স্বাধীনতার পর থেকে বরাবরই অবহেলিত ছিল হবিগঞ্জ।  এ জেলায় লাগেনি তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়া।  শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ সব ক্ষেত্রেই অবহেলা।  আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের নামে বার বার লুটপাট হয়েছে।  কিন্তু তা আলোর মুখ দেখেনি।  অবশেষে বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর এ আসনে নির্বাচিত এমপি মো. আবু জাহির ‘অবহেলিত হবিগঞ্জ’ এ দুর্নাম ঘুচানের উদ্যোগ নেন। 

নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন সংগঠনসহ পেশাজীবীদের সাথে মতবিনিময় করে সমস্যা চিহ্নিত করেন।  এরপর থেকে একে একে সব কাজ সমাধানে ঝাপিয়ে পড়েন।  নির্মাণ করেন আধুনিক স্টেডিয়াম, সদর আধুনিক হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ স্থাপন, ঐতিহ্যবাহী বৃন্দাবন সরকারি কলেজে অনার্স ও মাস্টার্স কোর্স চালু, হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বিকেজিসি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুই শিফট চালু, শায়েস্তাগঞ্জকে পৌরসভা ও পরবর্তীতে উপজেলায় উন্নীত করা, লাখাইয়ে বলভদ্র সেতু নির্মাণ, সদর ও লাখাই উপজেলার দুর্গম গ্রামগুলোতে বিদ্যুতায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছিল তার উলে­খযোগ্য কাজ। 

এমন কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ হবিগঞ্জ নাগরিক সমাজ এমপি আবু জাহিরকে সংবর্ধনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়।  আয়োজিত বিশাল এ সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহব্বায়ক ভাষা সৈনিক অ্যাডভোকেট সৈয়দ আফরোজ বখত।  শাবিপ্রবি’র শিক্ষক ড. জহিরুল হক শাকিল ও রুমা মোদকের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমদুল হক, সাবেক সচিব বিডি মিত্র, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সুবীর নন্দী, মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর (অবঃ) তাহের উদ্দিন আখঞ্জি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জুনা চৌধুরী প্রমূখ। 

অনুষ্ঠানে সর্বস্তরের হাজারও মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হন সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির।  শুরুতেই শতাধিক সংগঠন তাকে এবং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আইন মন্ত্রী আনিসুল হককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়।  এ সময় মানুষের ভালবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এমপি মো. আবু জাহির।  বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করেও মানুষের ঢল নামে অনুষ্ঠানস্থলে। 

নাগরিক সংবর্ধনা শেষে সন্ধ্যায় খ্যাতিমান শিল্পীদের পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  এতে সঙ্গীত পরিবেশন করেন, দেশের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী, হবিগঞ্জের কৃতি সন্তান সুবীর নন্দী, ‘ক্লোজআপ ওয়ান’-এর নন্দিত তারকা সালমা, হবিগঞ্জের আরেক কৃতি সন্তান, চ্যানেল আই সেরাকন্ঠ খ্যাত আশিক ও তন্বীসহ খ্যাতিমান শিল্পীরা। 


keya