২:১৬ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ সফর ১৪৪০


বাগেরহাটে আলোক ফাঁদে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন

১০ অক্টোবর ২০১৮, ০৬:৫১ পিএম | সাদি


এম.পলাম শরীফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট ও মোল্লারহাট উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমে পোকামকড়ের আক্রমণে  ফসলের ক্ষতি রোধে কীটনাশকের পরিবর্তে আলোক ফাঁদ অধিক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। 

এ পদ্ধতি অবলম্বন করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি একই জমিতে ধান, মাছ ও মৎস্য ঘেরের পাড়ে সবজি চাষে খরচ কম হচ্ছে বলে জানান চাষিরা।  স্থানীয় মৎস্য চাষি ও কৃষক আরব আলী, প্রমিলা পাল, অনন্ত হালদার, শুকুর আলী বলেন, চলতি আমন মৌসুমে বৃষ্টি কম হওয়ায় বৈরি আবহাওয়ায় পোকামকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নিরূপণ করতে কৃষি বিভাগের পরামর্শে সন্ধ্যায় ধান ক্ষেতে আলোক ফাঁদ পাতা হয়।  পার্চিং পদ্ধতিতে ধান ক্ষেতে গাছের ডাল পুঁতে পাখির সহায়তায় পোকা মাকড় দমনের পাশাপাশি নিম মেহগনি তেলসহ বিভিন্ন ভেষজ উপকরণ প্রয়োগ করে ফসলের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। 

মৎস্য ঘেরের সমন্বিত পদ্ধতিতে কৃষি খামারে পোকামাকড় দমনে নিয়মিত আলোক ফাঁদ পাতা হচ্ছে।  এর ফলে মাছের খাবার বৃদ্ধি ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা পাচ্ছে।  ধান মাছ ও ঘেরের পাড়ে সবজি উৎপাদনে এ পদ্ধতিতে খরচ অনেক কম হচ্ছে।  অন্যদিকে, স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সহজ হয়েছে বলে জানান স্থানীয় চাষিরা। 

উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, বৈরি আবহাওয়ায়  ফসল উৎপাদন বিঘ্নিত হলেও আশার আলো জাগিয়েছে সমন্বিত কৃষি খামার।  আলোক ফাঁদে পোকা দমনসহ চলতি মৌশুমে উঁচু জমিতে পানি সেচ দিয়ে ধান উৎপাদন করছে চাষিরা। 

যে সব স্থানে পোকামাকড়ের আক্রমণ বৃদ্ধি ও রোগবালাই দেখা দিয়েছে সেসব স্থানে সমস্যা নিরূপণ করে ব্যবস্থা নিতে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।  ফকিরহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাছরুত মিল্লাত বলেন, চলতি আমন মৌসুমে চার হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ ও প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হচ্ছে। 

এ উপজেলার  কৃষক এখন কীটনাশকের পরিবর্তে আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পাদ্ধতিতে পোকা দমন করছে।  এ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়ন হওয়ায় পানি সেচের মাধ্যমে বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষে করে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ব্যপক সফলতা এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। 


keya