১১:০৮ এএম, ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৬ রমজান ১৪৪০




বাগেরহাটে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে দিশেহারা খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ

১৬ মে ২০১৯, ০৩:৩৮ পিএম | জাহিদ


এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : বাগেরহাটে পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়তে থাকলেও ১০ রমজানে এসেও দ্রব্য মূল্যে উর্দ্ধগতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলার খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ।  পবিত্র রজমানের ১০দিন পার হলেও কোন মতেই কমছে না নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজার দর। 

যার কারনে নিত্য প্রয়োজনীয় পেয়াজ, রসুন, বেগুন, চিনিসহ প্রায় সকল পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় সব শ্রেনীর মানুষ।  যদিও বাজার নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসন ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন সরকারের বেধে দেয়া মূল্য তালিকার বাইরে গিয়ে অধিক মুনাফার চেষ্টা করলে নেয়া হবে আইনি ব্যবস্থা।  তবে বাজার নিয়স্ত্রনে প্রশাসনের আইনের প্রয়োগ মাঠ পর্যায়ে বাস্তাবয়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।  

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরোজমিনে বাগেরহাটের বাজারে ঘুড়ে দেখা দেছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের লাগামছাড়া বৃদ্ধিতে হতাশ ক্রেতারা।  ক্রেতাদের অভিযোগ, মূলত প্রতিবছর রমজান মাস আসলেই কিছু মুনাফাখোর অসাধু ব্যবসায়ীরা পন্য মজুদ করে অধিক মুনাফার আশায় দ্রব্য মূল্যের দাম বাড়ায়।  এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা সরকারেরর বেধে দেয়া বাজার মূল্যের কোন তোয়াক্যা করে না।  এবারও পবিত্র রমজানের শুরুতেই এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, সবজি, মাছ মাংসসহ চিড়া মুড়ির দাম বাড়িয়েছে।  

বর্তমানে বাগেরহাট বাজারে প্রতি কেজি শশা ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  যা গত এক সপ্তাহ আগে ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি।  প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা।  যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা।  লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রতি হালি (৪টি) ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।  গত সপ্তাহে ছিল ১৬ থেকে ২০ টাকা।  এছাড়া, আলু প্রতি কেজি ১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৮ টাকা, পিয়াজ ২৪ টাকা থেকে বেড়ে ২৬ টাকা, রসুন ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা, ছোলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মুসুড়ির ডাল ৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৫৫ টাকা, দেশি মুসুড়ির ৯০ থেকে বেড়ে ১শ’ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেড়স ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা, চিড়া ৪০ টাকা, মুড়ি ৮০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ও প্রতি ডজন কলা (১২টি) বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১শ’ ২০ টাকায়, তাল মিসরীর কেজি ৮০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১শ’ টাকা।  

এদিকে, মাছের বাজারে চলছে ব্যাপক সঙ্কট।  মাছের মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে গেছে।  কেজি সাইজের রুই মাছ ২৭০ থেকে ৩শ’ টাকা, কাতলা মাছ ২শ’ থেকে আড়াইশ’ টাকা, ইলিশ মাছ ৬শ’ থেকে ১৫শ’ টাকা, চিংড়ি মাছ সাড়ে ৪শ’ থেকে সাড়ে ৬শ’ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।  এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ১২শ’ টাকা।  গরুর মাংস প্রতি কেজি ৫শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৫শ’ ২০ টাকা, খাসির মাংস ৭শ’ টাকা থেকে বেড়ে ৭শ’৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  

বাজার করতে আসা ক্রেতা খান সুমন বলেন, রমজানের শুরু থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়তে থাকে, কিন্তু ১০ রমজান পার হলেও দাম কমার কোন লক্ষন দেখছি না।  যে কারনে আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষেরা সমস্যার মধ্যে আছি। 

সরকারী চাকুরীজীবী হেদায়েত হোসেন বলেন, প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেশী আমরা যারা সীমিত বেতনে চাকরি করি তাদের মাস চালানো কষ্ট হচ্ছে।  সবজিসহ পেয়াজ ও রসুন দাম বেশী।  মাছ ও মাংসের অগ্নি মূল্যে চিন্তার মধ্যে আছি।   

সবজি বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, আড়তে মাল কম তাই প্রায় সব সবজীতেই কেজি প্রতি ৫ থেকে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। 

মাংস বিক্রেতা জুম্মন শেখ বলেন, বাজারে গরুর যে চাহিদা সে অনুযায়ী গরু পাওয়া যাচ্ছে না।  আবার ইন্ডিয়ান গরুও আসে না।  তাই কেজি প্রতি দাম একটু বেড়েছে।  

বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্টির সভাপতি মোঃ লিয়াকত হোসেন লিটন বলেন, রমজানের শুরু থেকেই আমরা বাজার তদারকি শুরু করেছি।  নির্ধারিত মূল্যের বেশী বিক্রি না করার ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সর্তক করেছি।  এর বাইরে কেউ বিক্রি করলে তার দায় ভার তাকেই নিতে হবে।  

এ ব্যপারে জেলা বাজার কর্মকর্তা জিএম মহিউদ্দীন বলেন, বাজার মূল্য তদারকি করা হচ্ছে।  বাজার দরের থেকে বেশী দামে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যাতে বিক্রি না হয় তা নিশ্চিত করা হয়েছে।  কোন ব্যবসায়ী যতি বেশী দামে পন্য বিক্রি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আমরা আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।