১:১৩ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০


বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে ছাত্রলীগ নেতা মিজান-এর “স্বপ্নের বিদ্যালয়”

০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০২:০২ পিএম | জাহিদ


আখলাছ আহমেদ প্রিয়, হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : দিন শুরু হয় সূর্য উদয়নের মধ্য দিয়ে, আর শেষ হয় সূর্যাস্তে।  এর মধ্যে অতিবাহিত হয় সেকেন্ড-মিনিট -ঘন্টা। 

শেষ ঘন্টার মধ্যে দিয়ে দিনের সমাপ্তি ঘটলেও আবার রাতের পর শুরু হয় দিন।  বাড়তে থাকে সময়সূচি।  রূপ নেয় দিন মাস বছরে।  যাহার শেষ প্রান্তি নাই।  স্বপ্ন অনেকেই দেখেন।  কেউ ছোট আবার কেউ বড়।  অনেকেই স্বপ্ন পূরণের আনন্দ লাভ করেন।  আবার অনেকের স্বপ্ন-স্বপ্নই থেকে যায়।  তা পুরণ করতে না পেরে হতাশায় ভেঙ্গে পড়েন। 

আবার তাদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা তাদের স্বপ্নকে সীমানায় পৌছানোর প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে যান।  তেমনিভাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ উপহার দিতে স্বপ্ন দেখেছেন  বৃন্দাবন সরকারী কলেজের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মিজানুর রহমান আরিফ।  আমাদের সমাজে অবহেলিত সুবিধা- বঞ্চিত পথ শিশুদের নিরক্ষরতা  দূরীকরণে এবং তাদেরকে রাষ্ট্রের সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলার লক্ষে মিজানের পরিচালনায় কিছু সংখ্যক তরুণ-তরুণীদের কে নিয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে ৪ জন শিক্ষার্থী নিয়ে স্বপ্নের বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করেন  ছাত্রলীগ নেতা মিজান।  নিজের প্রচেষ্টায় তিলে তিলে মিজান গড়ে তুলেছেন তার ‘স্বপ্নের বিদ্যালয়’। 

আজ বিদ্যালয়টি সয়ংসম্পুর্ণ হতে চলেছে।  চলছে তার পাঠদান।  মোট ১১ জন শিক্ষার্থী নিয়ে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার টানা ৫ দিন শহরের নিমতলায় ক্লাস চলে।  এসব ক্লাসে তাকে সহযোগিতা করেন সাইফুর রহমান সোহাগ ও আলমগীর মিয়া। 

এ বিষয়ে মিজানুর রহমান আরিফ-এর সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, “দেখুন আমি একজন ছাত্র আর ছাত্র বলেই মন থেকে তাগিদ অনুভব করেছি অসহায় ঝড়েপড়া শিশুদের মানসিক অবস্থার কথা, তাদের সামাজিক অবস্থার কথা।  আমি চাই আমার মতো সকল ছাত্র-ছাত্রীরা এভাবে এগিয়ে আসলে অসহায় গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের সামান্য হলেও উপকার হবে।  সেই তাগিদ থেকেই কিছু করা সমাজের জন্য নিজের জন্য’। 

তিনি জানান, ২০১২-২০১৬ সাল পর্যন্ত বৃন্দাবন কলেজে আওয়ামী ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।   পরে ২০১৬ থেকে হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগ এর রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন।   মিজান বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে চান।  তিনি সমাজের সচেতন ও সুশীল সমাজের সহযোগিতা নিয়ে দেশের জন্য, মানুষের জন্য, নিজের জেলার জন্য, এলাকার জন্য কাজ করে যেতে চান।  সমাজ পরিবর্তনে তার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান। 

এছাড়াও মিজান ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স (NCTF)-এর সাবেক সভাপতি, ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্ক ফোর্স (NCTF)-এর হবিগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক চাইল্ড পার্লামেন্ট মেম্বার, ‘স্বপ্নযাত্রা সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, ‘হযরত হোসাইন (রহ:) সুন্নি যুব সংঘ’র  সভাপতি।  তারুণ্য সোসাইটি, হবিগঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক IFC, পরিচালক ও অভিনেতা নাটক লাল পাঞ্জাবী এবং মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক চলচ্চিত্র (একাত্তর-৭১) নির্মাণ করেন তিনি।  মিজান অবহেলা কে পছন্দ করেন না।  তিনি যে সব কাজ করেন দায়িত্ব নিয়ে করেন।  আমি মনে করি তার স্বার্থহীন এসব কাজ ভূয়সী প্রসংসার দাবীদার। 

শুধু মিজান নয় ঘরে ঘরে এমন সামাজিক কর্মী গড়ে উঠুক এই প্রত্যাশা শুধু পাঠক, সুশীল ও সচেতন সমাজের নয়, সর্বমহলের।  মিজানের স্বপ্ন পূরন হউক, আলোকিত একজন মানুষ হিসেবে সে সমাজে গড়ে উঠুক, সাফল্য অর্জন করুক তার স্বপ্নের বিদ্যালয়।  হবিগঞ্জবাসীর জন্য  তার ‘স্বপ্নের বিদ্যালয়” ভবিষ্যতে সুফল ভয়ে আনবে সেই আশায় এখন দিন গুনছেন ছাত্রলীগ নেতা মিজান।