৬:২৩ পিএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ মুহররম ১৪৪০


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পুরুষ শূণ্য ক্যাঙ্গারু পরিবার

১৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৬:২২ পিএম | সাদি


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) : গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ক্যাঙ্গারু পরিবারে নতুন শাবকের জন্মের মধ্য দিয়ে তৃতীয় ক্যাঙ্গারুর আবির্ভাব ঘটল।  এ শাবকটি প্রকাশ্য হওয়ার আগে গত অক্টোবরে মারা যায় এ পার্কের একমাত্র পুরুষ ক্যাঙ্গারুটি।  এতে পার্কটি পুরুষ ক্যাঙ্গারু শূন্য হয়ে পড়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।  জরুরী ভাবে সাফারী পার্কে পুরুষ ক্যাঙ্গারু আনা না হলে নতুন প্রজন্মের বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাবে। 

সম্প্রতি সাফারী পার্কে মা ক্যাঙ্গারু একটি মেয়ে শাবকের জন্ম দিয়েছে।  এনিয়ে এ পার্কে দ্বিতীয় বারের মতো ক্যাঙ্গারু উন্মুক্ত পরিবেশে বাচ্চা প্রসব করলো।  এর আগে গত বছর মে মাসে বাংলাদেশে প্রথম বারের মতো ক্যাঙ্গারু শাবক জন্ম দিয়েছিল।  এবার জন্ম নেয়া মা ও বাচ্চা উভয়ই ভালো আছে। 

২০১৩ সালের আগস্টে ফ্যালকন ট্রেডার্সের মাধ্যমে সুদূর আফ্রিকা থেকে কিনে আনা হয় একটি পুরুষ ও দুইটি স্ত্রী ক্যাঙ্গারু।  পরে এদের বিচরণের জন্য সাফারি পার্কের বেষ্টনীর ভিতর ছেড়ে দেওয়া হয়।  প্রায় দুই বছর পর ২০১৫ সালে প্রথম শাবক জন্ম নেয়ার পর সেটি মারা যায়।  পরে ২০১৬ সালে জন্মের কয়েক মাস পর দ্বিতীয় শাবকটিও মারা যায়।  কিন্তু ২০১৭সালের অক্টোবর মাসে পার্কের একমাত্র পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ ক্যাঙ্গারুটি মারা গেছে।  মারা যাওয়া পুরুষ ক্যাঙ্গারুর  ঔরসে সর্বশেষ মাদি শাবকটি জন্ম নিলেও গত মঙ্গলবার (১২ডিসেম্বর) সেটিকে প্রকাশ্য হতে দেখা গেছে। 

পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার সরোয়ার হোসেন খান জানান, এক পরিসংখানে দেখা গেছে, জননের (সঙ্গমের) কমপক্ষে ৩৩ দিনের মধ্যে ক্যাঙ্গারু অপরিণত লম্বা শাবকটি যোনি বেয়ে থলিতে ডেলিভারি হয় এবং সেখানে থাকা নিপল থেকে দুধ পান করে শাবকটি বড় হতে থাকে।  তখন শাবকের চোখ ফুটেনা।  শরীরে কোনো লোমও থাকে না।  বাচ্চাটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থলেটিও বড় হতে থাকে।  শাবকটির বয়স ৩-৪মাস হলে থলেতে থাকা অবস্থায় এটি কখনও মাথা কিংবা কখনও পা বের করলে আমরা শাবকটি দেখতে পাই।  কিন্তু এসময়ে বাচ্চাটি মাটিতে নামে না।  ৬মাস বয়স হওয়ার পর বাচ্চাটি মাটিতে নামে এবং আবার থলেতে অবস্থান নিয়ে জীবন যাপন করে। 

প্রায় ৮মাস বয়সে ক্যাঙ্গারু শাবক অনেকটাই স্বাধীনভাবে খাবার খেতে ও চলাচল করতে শেখে এবং তখন তা আর থলিতে ঢুকে না।  তবে এক বছর পর্যন্ত বাচ্চাটি মাঝেমধ্যে মাতৃদুগ্ধ পান করে এবং  মায়ের আশে পাশেই অবস্থান করে।  পুরুষ ক্যাঙ্গারু সাধরণত ২০-২৪ মাসে এবং মাদি ক্যাঙ্গারু সাধারণত ২০-২২ মাসে যৌবন প্রাপ্ত হয়।  তবে পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ওই সময়ের তারতম্য হতে পারে। 

বণ্যপ্রানী পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান জানান, মারসুপিয়াল গোত্রের এক প্রকারের তৃণভোজী স্তণ্যপায়ী প্রাণী ক্যাঙ্গারু।  এ প্রাণী কেবল অস্ট্রেলিয়া, নিউগিনি, তাসমানিয়ার আশপাশের দ্বীপাঞ্চলগুলোয় বেশি পাওয়া যায়।  ক্যাঙ্গারুর আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়া হলেও সাফারী পার্কে আনা হয় সুদূর আফ্রিকা থেকে।  তিনি বলেন, আমাদের দেশে ভিন্ন পরিবেশ হলেও পার্কে উপযুক্ত পরিবেশ পেয়ে রেড (হলদে লাল) পুরুষ আর ধূসর বর্ণের নারী দম্পতি প্রায় দুই বছর পর একটি এবং এর প্রায় দেড় বছর পর আরেকটি ধূসর বর্ণের মেয়ে শাবকের জন্ম দিয়েছে।  আর এক বছর পর পরিবার থেকে আলাদা হয়ে যায়।  এরা প্রাকৃতিক পরিবেশে ১২ থেকে ১৬ বছর বেঁচে থাকে।  তবে সাফারি বাউন্ডে (আবদ্ধ জোন) ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।  বড় ক্যাঙ্গারুগুলো ম্যাক্রোপোডিড পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।  এরা দুই বছরে ৩ বার বাচ্চা দেয়।  লাল ও ধূসর ক্যাঙ্গারু আকারে বড় হয়।  এদের ২ মিটার দৈর্ঘ্য আর ৮৫  কেজি পর্যন্ত ওজন হয়ে থাকে।  পৃথিবীতে প্রায় ৫০ প্রকার ক্যাঙ্গারু থাকলেও বাংলাদেশে একটি মাত্র প্রজাতির ক্যাঙ্গারু আনা হয়েছে। 

সাফারী পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, সাফারি পার্কে কোনো প্রাণী শাবক প্রসব করলে তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণদের জানানো হয় না।  জন্ম নেয়া শাবকগুলোর একটি নির্দিষ্ট বয়স হওয়ার পর তা জনসম্মূখে আনা হয়।  বিভিন্ন প্রকার রোগ-বালাই, সংক্রামক ব্যাধি এবং আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার পরই বিষয়টি সর্বসাধারনকে জানানো হয়।  পার্কে নতুন শাবককে মাঝে মধ্যেই থলি থেকে বাইরে আসতে দেখা গেছে, মায়ের সঙ্গে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে।  আবার বাচ্চাটিকে থলিতেও অবস্থান করতে দেখা গেছে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোতালেব হোসেন জানান, ক্যাঙ্গারু বিদেশি পরিবেশের প্রাণী।  আমরা এখানে প্রাণীগুলোকে বিশেষ পরিবেশে বড় করেছি।  প্রাকৃতিক পরিবেশের মতোই এই পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিয়েছে বলেই গত বছর ও এই বছর বাচ্চা প্রসব করেছে।  কিছুদিন পর বাচ্চাটিকে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে পার্কে পর্যটনের এ মৌসুমে ক্যাঙ্গারু শাবক দর্শনার্থীদের অন্যরকম আনন্দ দেবে।  আর বংশ বৃদ্ধির জন্য খুব দ্রæতই পুরুষ ক্যাঙ্গারু ব্যবস্থা করা হবে।