৭:৩৪ এএম, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বৃহস্পতিবার | | ২৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৮

South Asian College

‘বাঙালি বলেই তাদের তাড়িয়ে দেবে এটা কেমন কথা?’

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১১:৫৯ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  তবে মিয়ানমারের নাগরিকদের রাখাইন রাজ্যেই ফিরিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

সোমবার রাতে জাতীয় সংসদে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের বিষয়ে এক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ বিধিতে সংসদে আনা ওই প্রস্তাবে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে নিরাপদে বসবাসের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।  এ ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের ওপর জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ প্রয়োজন। 

পাশাপাশি দিপু মনি মিয়ানমারের ভূমিকার কড়া সমালোচনার পাশাপাশি, সমালোচনা করেন নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির।  একইভাবে তাঁর ভূমিকার সমালোচনা করেন অন্য সংসদ সদস্যরাও। 

তবে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান, সু চির ক্ষমতা আসলে কতটুকু? তিনি বলেন, ‘এখানে অনেকেই অং সান সু চির ব্যাপারে তুলেছেন কথা।  কিন্তু এখানে একটা কথা বলি।  আপনারা জানেন যে ওখানে দীর্ঘদিন ধরে মিলিটারি ডিকটেটরশিপই চলছে।  কেবল গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু।  কিন্তু সেখানেও আইন করে অং সান সু চিকে কিন্তু ওই মিয়ারমারের রাষ্ট্রপতি হতে দেয়নি বা সরকারপ্রধান হতে দেয়নি।  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তাঁকে দেওয়া হয়েছে।  কাজেই তাঁর ক্ষমতাই বা কতটুকু আছে? মিয়ানমারের এক জেনারেল সাহেব ঘোষণা দিয়েছেন এরা সব বাঙালি।  তা বাঙালি তো শুধু বাংলাদেশে নাই, বাঙালি তো পশ্চিমবঙ্গে আছে, বাঙালি তো পৃথিবীর বহু দেশেই আছে।  এখন বাঙালি বলেই তাদেরকে তাড়িয়ে দেবে এটা কেমন কথা? তাদের ভাষা সবকিছু তো আলাদা।  আমাদের সাথে অত মেলে না।  তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ আলাদা।  সবই তো বার্মিজ। ’

মুসলিম দেশগুলোর ঐকমত্যে না পৌঁছানোকে দুর্ভাগ্য বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।  তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্ত মুসলিম দেশগুলো বা মুসলিম উম্মাহ যদি এটা অনুভব করতে পারত আর সবাই যদি ঐকমত্যে থাকতে পারত তো মুসলমানদের ওপর এই অত্যাচারটা কেউ করতে পারত না। ’

এ মাসেই তিনি জাতিসংঘের ভাষণে এ বিষয়টি উত্থাপন করবেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।  সেই সঙ্গে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিও জানান তিনি। 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা এই ধরনের ১০টা পুলিশ মারল কি পাঁচটা মিলিটারি মারলে বা ১০০টা আর্মির লোক মারল।  এইটা মেরে তারা কী অর্জন করছে? এবং মিয়ানমার সরকারকেও আমরা বলছি, এটাও বলছি যে আসুন আমরা যৌথভাবে এই করি যে এদেরকে আমরা কোনোমতেই প্রশ্রয় দেব না।  এবং আমাদের যে সিদ্ধান্ত এটা আমরা সব সময় রক্ষা করি যে আমরা কখনোই প্রশ্রয় দেব না।  কিন্তু মিয়ানমারকেও সে রকম ব্যবহার করতে হবে যে এই কয়েকটা লোক তাঁরা ঠিক আছে যারা অপরাধী তাঁদের খুঁজে বের করুক।  কিন্তু ওই যে ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়। 

এদের কথা বলে তারা সাধারণ মানুষকে হত্যা করবে।  শিশুদের হত্যা করবে।  ওই ছোট্ট শিশুরা কী অপরাধ করেছে? নারীরা কী অপরাধ করেছে? তাদের ওপরে অত্যাচার করবে এটা আমরা কখনো মানতে পারি না।  এটা মানা যায় না।  কাজেই তাদেরকে এটা বুঝতে হবে এবং তাদের এই নাগরিক যারা আজকে বাংলাদেশের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের সকলকে তাদের ফেরত নিতে হবে এবং সেখানে তাদের প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ’

এখন এ বিষয়টি নিয়ে দেশে যেন কেউ রাজনৈতিক ফায়দা আর ব্যবসা করতে না পারে সে ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 

প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য রোহিঙ্গাদের জন্য মিয়ানমারে জাতিসংঘের অধীনে সেফজোন করার দাবি জানান।  আলোচনা শেষে সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয় প্রস্তাবটি।