৩:০৬ এএম, ৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার | | ১১ শা'বান ১৪৪১




বাঙালি "মানুষ" হবে কবে?

২৩ মার্চ ২০২০, ১০:৫৭ এএম | নকিব


এম.শাহীদুল আলম: শিরোনামটা এমন করে দেওয়ার পক্ষে ছিলামনা, বাধ্য হলাম দিতে, তাই সেজন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।  চলমান ঘটনার বাইরেও আমরা আদৌ নিজেকে বদলাতে পারিনি। 

জানিনা স্বভাব এমন হয়ে যায় কেন! রাস্তায়  চলার মধ্যে গাফিলতি। 

বিশেষ  করে হাইওয়ে,,কতো ধরনের করে সাইনবোর্ড -বিলবোর্ড-জেব্রা ক্রসিং-এমনকি দিকনির্দেশনা মূলক চিহ্ন দেওয়ার পরও আমরা "ফুটপাত"-এ চলছিনা। 

রাস্তায় গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে সরকার যেখানে জনবহুল পয়েন্ট রয়েছে সেখানে  জায়গায় জায়গায় " ওভারব্রিজ" দিয়ে চলার পথে নানান দূর্ঘটনা থেকে বাঁচতে সহায়তা করেছে কিন্তু তাতেও আমাদের সময় নেই, আগে কি করে যাবো এই চিন্তা প্রতিনিয়ত।  ফলে জীবনকে ঝুঁকির মুখে নিয়ে পথচলা এটাই কখনো কাম্য হতে পারেনা।  আবর্জনা ফেলার জন্য উপযুক্ত স্থানে  "ডাস্টবিন"-দেওয়া আছে হয় হাত টেনে ফেলে দেওয়া যায়, নাহয় একটু হেঁটেই রাখতে পারি। 

না-আমার যেখানে সুযোগ পাই সেখানে ফেলে সরে পড়ি অথচ চিন্তা করিনা সেগুলো আমাকে আবার আসার পথে দেখতে হবে, দুর্গন্ধ নাকে আসবে তখন কিন্তু নাক চেপেই আসি।  নিজের করা ভুলটি স্বীকার করিনা।  চার-পাঁচ তলা বাসা থেকে নামতে পারিনা সুযোগ পেলে উপর থেকে নিচে ফেলি কিন্তু সেগুলো কোথায় গিয়ে পড়ছে একবারও চিন্তা করছিনা।  যত্রতত্র পান খেয়ে পানের রস যেটাকে " পিস্কি" বলি সেটা হয় দেওয়ালে নাহয় আশপাশের কোথাও, যেখানেই ফেলুক এককথায় নোংরা বানিয়ে ফেলে। 

কলা খেয়েছে কিন্তু খোসা কোথায় ফেলবে জানা নেই দিলো ছুড়ে ফেলে ওখানে চলার পথ হলে নিশ্চিত বিপদ ডেকে আনবে।  সকল যাত্রীবাহী বাসে লিখা থাকে চলন্ত অবস্থায় চালকের সাথে কথা বলা নিষেধ, তারপরও গাড়িতে বিভিন্ন আলাপকালে চালকের সাথে গল্প শুরু হয়ে যায় ফলে বিপদ ঘটে। 

দেখা যায়, এইখানে পার্কিং নিষেধ আর সেখানেই গাড়ি পার্কিং দিয়ে বসে থাকে আর নিষেধ করলে বলে, এই দুই মিনিট এখন নিয়ে যাচ্ছি।  কেন এমন হবে? আমরা কি বুঝে করছিনা সে ভুল গুলো? পেট্রোল পাম্পের মতো জায়গায় "এইখানে ধূমপান সম্পূর্ন নিষেধ" লেখা থাকার পরও গাড়ির চালক অকটেন-পেট্রোল নিচ্ছে আর ঐ দিকে যাত্রী একটু সরে গিয়েই ধূমপান শুরু করে দিচ্ছে অথচ সেগুলো অত্যন্ত বিপদজনক এরিয়া।  নিজেদের অহরহ ভুলে পাড় করিয়ে দিচ্ছি দিন, কিছু জায়গায় হাঁটার সময়ও হিসাব করে চলতে হয়। যেমন-সেন্ডেলের শব্দ করে হাঁটা অফিসের সামনে কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কক্ষে অভ্যাসের পরিবর্তন করতে হবে। 

বিভিন্ন অসংগতি আমাদেরকে "মানুষ"-হিসেবে পরিচয় দিতে বিবেকে বাধা দেয়।  কারণ ভুলগুলো ইচ্ছাকৃত।  কথায় কথায় মিথ্যার আশ্রয় নেয়া,মোবাইলে কথা বলছেন অপরদিক থেকে আপনি কোথায় এখন? বেশিরভাগই সঠিক অবস্থান বলেনা সেটা হয়তো পাওনাদারদের কাছ থেকে ক্ষণিকের জন্য বাঁচা,নাহয় কোনো কাজে ফাঁকি দেওয়ার জন্য।  মসজিদে যান,,,দেওয়ালের  বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় করে " লেমেনেটিং"-পেপারে লিখা " মোবাইল বন্ধ কিংবা মোবাইলের রিংটোন বন্ধ রাখুন তারপরও সেটা করতে অনিহা অথচ প্রথম দেখায় করা যেতো কিন্তু করবো বলে অজান্তে নামাজে দাড়িয়ে যায় আর মাঝখানে রিংটোন বেজে উঠে তখন কেমন লাগে? আমারা হুজুগে আমাদের বিচার-বিশ্লেষণে কিছু করার চিন্তা করিনা যার ফলে দৌড় দিতে বললে বিরামহীন দৌড়ায় আর থামতে বললে থেমে যায়। 

অথচ দৌড়ালামও কেন থামলামও বা কেন? হঠাৎ বন্ধুকে কেউ মারছে শুনার সাথে সাথে দৌড়ে গিয়ে বিপক্ষের লোককে মারতে মারতে শোচনীয় পর্যায়ে নিয়ে যায় অথচ বন্ধুটির অপরাধ কি সেটা জানার প্রয়োজন মনে করেছি? হয়তো চুরের দায়,কিংবা জঘন্য অপরাধের কারনেও হতে পারে।  আমাদের স্বভাবকে পাল্টাতে হলে আগে নিজেদেরকে পাল্টাতে হবে। 

এই স্বভাব অন্যজন এসে পাল্টাতে গেলেই রীতিমতো ঝগড়া হয়ে যাবে।  ফেবুর স্ট্যাটাসের আলোকে বলছি, যে বাঙালিকে বাথরুম করার পর "সাবান"-ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধির জন্য " মীনা"-কার্টুন দীর্ঘ ১২বছর লেগে যায় সেখানে বর্তমান পরিস্থিতিতে "করোনা"-আতংকে যারা বিদেশ ফেরত তাদেরকে ১৪দিন সঙ্গনিরোধ থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তাহলে এরা কেনো নিজেদের পরিবারের কথা না ভেবে, দেশের কথা না ভেবে " দিকবিদিক" ঘুরে বেড়াবে?তাঁরা কি দেশের বাইরে পরিবার ছাড়া বছরের পর বছর পার করেনি? আরো খারাপ লাগে যখন শুনা যায় রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পরও আত্নীয় অসুস্থ বলে তাকে দেখে আসার জন্য অনুমতি চাই।  কোনো মঞ্চে বক্তৃতা প্রদানকালে সময় সংক্ষেপ করার জন্য বলা হলেও তখন তা আরো দীর্ঘ করে বসে। জানা নেই সেটা কি ইচ্ছা করে। 

কোনো কারণে হঠাৎ কোনো দোকানে যান, খুব প্রয়োজনীয় পণ্য দেখবেন থাকা সত্ত্বেও নাই বলে ঘুরিয়ে দে,হয়তো নিশ্চয়ই পাশের কোনো দোকানে দেখতে গিয়েছেন তা ভেবে এইরকম হয়ে থাকে।  এইভাবে তুলে ধরলে শতো শতো অসংগতি প্রকাশ পাবে তারপরও আশাবাদী আমার দেশের মানুষগুলো আরো যেন সচেতন হয়, নিজের জন্য -দশের জন্য-দেশের জন্য। 

লেখক: কলামিস্টঃ চিত্রশিল্পী, মুহাম্মদ শাহীদুল আলম। 
                       সিনিয়র শিক্ষক
নানুপুর মাজহারুল উলুম গাউছিয়া ফাযিল ডিগ্রী মাদরাসা ।