২:৩০ এএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | | ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বেঁচে থাকো, বাঁচিয়ে রাখো স্বপ্ন!

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭:৫২ এএম | এন এ খোকন


এসএনএন২৪.কম : প্রতিটি মানুষের জীবনের কোন একটা সময় আসে যখন বাচাঁর ইচ্ছেটুকু আর ইচ্ছের মধ্যে থাকে না।  হয়ে যায় অনিচ্ছা।  তখন কেউ নেশায় বুঁদ হয়।  আবার কেউ বেছে নেয় আত্মহত্যার মত জঘন্য ইচ্ছা।  ঐ সময়টুকু হিতাহিত জ্ঞানটুকু পর্যন্ত হারিয়ে ফেলে তারা। 

মানুষ কেন ডিপ্রেশনে ভুগে : ডিপ্রেশন, ফ্রাশট্রেকশন বা হতাশা যাই বলুন না কেন বিষয় কিন্তু একই।  আসুন প্রথমে জেনে নেই হতাশা কি? মানুষ স্বভাবতই বিভিন্ন লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যে বিভিন্ন কর্ম সাধন করে।  এসব কর্ম করতে গিয়ে যখন বাধার সম্মুখীন হয় তখন হতাশায় পরে।  আরেকটু খুলে বললে, বিভিন্ন চেষ্টার পরেও মানুষ যখন তার লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয় তাকেই হতাশা বলে।  একজন মনোবিজ্ঞানের গবেষক ডয়েলি হতাশার ব্যাখ্যা দিয়েছেন এভাবে, “হতাশা প্রাণীর এমন একটি অবস্থা যা বিশেষ পরিবেশে বাধাগ্রস্ত প্রেষণার মাধ্যমে, সমস্যা সমাধানের আচরণকে বেপরোয়া করে তোলে। ”

আপনি লেখাপড়া শেষ করেছেন অথচ চাকুরী পাচ্ছেন না।  যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও অফিসে মুল্যায়ন পাচ্ছেন না।  প্রেমিকার অন্যত্র বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তাকে আটকাতে পারছেন না।  প্রেমিক বা প্রেমিকা ভুল বুঝে চলে গেছে তাকে ফেরাতে পারেন নি।  খুব অভাবের মধ্যে আছেন।  বাবা-মা আপনাকে বুঝতে পারছে না।  এরকম অনেক ধরনের সমস্যা আছে যার সমাধান আপনার হাতে নেই।  এমতাবস্থায় আপনি হতাশায় পরে যান।  মনে হয় পৃথিবী আপনার জন্য নয়।  নিতে চান কঠিন কোন সিন্ধান্ত।  অবুঝের মত ঘটিয়ে ফেলেন একটি দুর্ঘটনা। 

হতাশার প্রতিক্রিয়া যা হতে পারে : আপনি যে হতাশায় ভুগছেন তা কিন্তু আপনার আচরণই বলে দিবে।  যেমন আপনি টেনশন করবেন বেশি বেশি।  আপনি জানেন কি টেনশন চলাকালীন সময় আপনার শারীরিক ভারসম্যে ক্ষতি হয়? এর ফলে ক্ষুধামন্দা বা পেটে নানা রকম অসুখ দেখা দেয়। 

হতাশায় আপনি শিশু-শুলভ আচরণ করেন অনেক সময়ই।  মাঝে মধ্যে উদাসীন হয়ে পড়েন।  কোন কাজেই আপনার মন বসে না।  হতে চান একা।  লোকালয় ছেড়ে চলে যেতে চান দূরে।  নানা রকম কল্পনা করতে থাকেন। 

এমন অবস্থায় কি করবেন : আত্মহত্যা করবেন বা নেশায় ডুব দিবেন? দিতেই পারেন।  কেন দিবেন না বলেন? খুব কষ্ট আপনার।  আপনাকে কেউ বুঝে না।  ভুল! আপনার ধারনা পুরোটাই ভুল।  আপনি যা দেখছেন তা দেখা নয়।  ধরুন আপনি খুব কষ্টে আছেন।  নিজেকে খুব দুঃখী দুঃখী মনে হচ্ছে।  ভাবছেন আপনার পাশে সবাই আছে।  অথচ এ ধারনাটাই ভুল।  আপনার পাশে কেউ নেই।  যদিও থাকে সাময়িক সময়ের জন্য।  যেমনটা আপনি মারা গেলেও হবে।  দু্ই/একদিন কান্নাকাটি করবে এর পর আপনাকে সবাই ভুলে যাবে।  মরে গেলেই কি আপনি বেঁচে যাবেন?

হতাশায় ভুগলে নিচের কাজগুলো করুন:

১।  ব্যস্ত থাকুন। নিজেকে নিয়ে নয় অন্য কোন কাজ নিয়ে। 
২।  চলে যান দুরে কোথাও ঘুরতে। 
৩।  একটি বিষয় মাথায় রাখবেন যেটা খুবই জরুরি।  একা থাকবেন না।  পরিবারের সাথে বা বন্ধুদের সাথে থাকুন। 
৪।  শরীরকে ক্লান্ত করুন কাজ দিয়ে। 
৫।  টিভি দেখুন অথবা গান শুনুন।  নাটক কিংবা সিনেমার চরিত্রের সাথে নিজেকে মিলাবেন না। 
৬।  সব সময় ইতিবাচক ভাবনা ভাবুন। 

জীবনটা ক্ষনিকের জন্য।  এই ক্ষনিকের জীবনে হাসি-কান্না, দুঃখ, বেদনা আসবেই।  এগুলো আগলে না রেখে এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে।  আপনি যতই অতীত আকড়ে পরে থাকবেন হতাশা ততই আপনাকে গ্রাস করবে।  অতীত বা ভবিষত নিয়ে ভাবনাটা বন্ধ করুন।  বর্তমান নিয়ে ভাবুন।  উঠে দাড়ান।  চেষ্টা করুন।  শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করুন।  বাচুঁন নিজের জন্য। 

লেখক: আমিরুল ইসলাম
বিএসসি (মনোবিজ্ঞান), এমএসসি (চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান),
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।