৩:৪০ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭, সোমবার | | ৪ মুহররম ১৪৩৯

South Asian College

বছরের আয় ব্যয়ের হিসেব নিয়ে ব্যস্ত নিম্ম ও মধ্যবিত্তরা

৩১ আগস্ট ২০১৭, ০৮:০৪ পিএম | রাহুল


মিজানুর রহমান সোহেল নবীগঞ্জ  : মুসলমানদের জন্য রয়েছে বছরে দুটি ঈদ ।  যেমন, ঈদুর ফিতর,ও ঈদুল আযহা।  এবছর হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আযহার ঈদে অন্যান্য বছরের ন্যায় তেমন ঈদের আমেজ পরিলক্ষিত হয়নি।   অন্যান্য বছর ধনী লোকের পাশা-পাশি নিম্ম ও মধ্যবিত্ত লোকদের ঈদের আমেজ পরিলক্ষিত ছিল চোখে পড়ার মতো।  কিন্তু এ বছর তাদের মনে আনন্দ নেই। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন গ্রামের প্রবাসে থাকা লোকজন অন্যান্য বছর তাদের প্রতিবেশী ও পাড়া মহল্লার লোকজনদের ঈদ বোনাস ও সাহায্যে সহযোগিতা করে আসছিলেন।  এ বছর তারা দেশের প্রতি বিমূখ ।  বিশেষ করে অন্যান্য বছর বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা তাদের ফলানো ফসল ধান ও অন্যান্য জিনিস বিক্রি করে সাধ্য মতো অন্যদের সাথে শরিক হয়ে অন্তত পক্ষে একটি নাম দিয়ে শরিক থাকতেন কোরবানীতে।  কিন্তু এ বছর  কয়েক দফায় বন্যায় তাদের ফলনকৃত ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় তারা মন ভাঙ্গা অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। 

ওই উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের বহরমপুর গ্রামের মধ্য বিত্ত পরিবারের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, এ বছর তার পক্ষে কোরবানী দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা, কারণ দুফসলই বন্যার পানিতে তলিয়ে গিয়ে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  ওই উপজেলার বড়ভাকৈর গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান জানান , তাহার পক্ষে অন্যর সাথে শরিক হয়েও কোরবানী দেয়া সম্ভব হচ্ছে না । 

এ বছর পরিবার -পরিজ্বন নিয়ে তিনি দৃশ্চিন্তায় আছেন।  তাদের মতো আরো অনেকে এ বছর বন্যায় ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোরবানী দিতে পারছেন না।  তাদের একটাই চিন্তা আগামী বা বছরের অবশিষ্ট দিন কিভাবে পরিবার -পরিজ্বন নিয়ে দিনাতিপাত করবেন।  প্রতি বছরই নবীগঞ্জ উপজেলার প্রায় পৌনে চারশ গ্রামে প্রচুর পরিমানে কোরবানী দেয়া হতো।  এবছর তাহা অর্ধেকের নেমে আসার সম্ভাবনা বেশী। 

বৃহস্পতিবার নবীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ঘুরে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানা গেছে, অন্যান্য বছর লোকজন ঈদের এক দুই সপ্তাহ পুর্বে বিভিন্ন জাতের মসলা ক্রয় করতেন।  কিন্তু এবছর তাদের সমাগম কম।  এবং গত বছর মসলার বাজার ছিল সবচেয়ে গরম।  এবছর তাহা ব্যতিক্রম দেখা দিয়েছে। 

সুত্রে আরো জানা গেছে,অন্যান্য বছর প্রবাস দেশ থেকে বিত্তশালীরা এসে তারা পাড়া,মহল্লার লোকজনদেন নগদ টাকা দেয়ার পাশাপাশি তাদের পরিবারের জন্য মরিচ, হলুদ, তেল,গুড়, চিনি, ধনিয়া, কিছমিছ, লাচ্ছা, ময়দা,আটা চাউল,ও অন্ন বস্ত্র দিয়ে তাদের পাশে দাড়াতেন।  কিন্তু এ বছর এ ধরণের কোন এবং দেখা  যায়নি ও সাহায্যের সংবাদ পাওয়া যায়নি।  আরো দেখা গেছে, বিভিন্ন বাজারের অসাধূ ব্যবসায়ীরা মসলার বাজার সিন্টিকেটের মাধ্যমে  নিয়ন্ত্রন করে রেখেছেন। 

তারা প্রতি জিনিসই দাম নিচ্ছেন মনগড়া ।  অন্যান্য বছর ঈদের সপ্তাহ দিন পুর্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও অভিযান চালালে ও  এবছর এমন ধরনে কোন উদ্দ্যোগ বা অভিযান হয়নি।  সব দিক মিলিয়ে এ বছর নবীগঞ্জ উপজেলায় কোরবানী দাতারা  অন্যান্য বছরের মতো  পশু কোরবানী দিতে না পাড়ায় এ বছর গত বছরের চেয়ে অর্ধেকের নিচে কোরবানী হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।