৫:৫২ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | | ৬ সফর ১৪৪০


বাজেট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

০৮ জুন ২০১৮, ১০:১৫ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছেন।  বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদে তিনি এই বাজেট পেশ করেন। 

প্রতিবারের মতোই অর্থমন্ত্রীর নিজের এলাকায় এই বাজেট নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।  সিলেটের রাজনীতিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের একাংশ বাজেটকে স্বাগত জানিয়েছেন। 

তারা এটিকে উন্নয়নমুখী, বাস্তবসম্মত ও ব্যবসাবান্ধব বললেও সুশীল সমাজ এবং বিএনপি নেতারা এটিকে নির্বাচন সামনে রেখে লুটপাটের বাজেট হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। 

তারা বলছেন, নির্বাচন সামনে রেখে বিশাল ঘাটতির বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে, যা মূলত ঋণনির্ভর।  এ ছাড়া চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক ধার্য করে গবীরকে মারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি খন্দকার সিপার আহমদ বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে এটি অর্থমন্ত্রীর ১২তম বাজেট, যা সিলেটবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের। ’

তিনি বলেন, ‘এ বছর বাজেটে মোট ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮.৩ শতাংশ।  বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের ধারায় এটি অত্যন্ত বাস্তসম্মত ও যৌক্তিক।  আগামী অর্থবছরে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে জিডিপির ১৪.৬ শতাংশ, পরিবহন ও যোগযোগ খাতে ১২.২ শতাংশ, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৭.০ শতাংশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে ৫.৮ শতাংশ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, যার ফলে দেশের মানবসম্পদ ও অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। ’

তিনি আরও বলেন, ‘বাজেটে আয়ের উৎস বিবরণীতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত আয় ৬৩.৭ শতাংশ ধরা হয়েছে।  অভ্যন্তরীণ উৎস্য থেকে আয় বৃদ্ধি হলে বিদেশি ঋণের ওপর চাপ কমবে। ’

খন্দকার সিপার আহমদ পর্যটন নগরী হিসেবে সিলেটের বিকাশে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাবও করেন। 

প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটকে প্রবৃদ্ধি, ব্যবসাবান্ধব ও সুসংহত বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএমসিসিআিই) নেতারা। 

এক বিবৃতিতে সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসএমসিসিআই) সভাপতি হাছিন আহমদ, প্রথম সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার জলিল, সহ-সভাপতি হুরায়রা ইফতার হোসেন অত্যন্ত সাবধানী, সুসংহত, বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব এই বাজেট উপস্থাপন করায় অর্থমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।  পাশাপাশি এই বাজেটের সফল বাস্তবায়ন কামনা করেন। 

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘বিশাল আকারের এ বাজেট অন্তঃসারশূন্য নির্বাচনী বাজেট।  আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘাটতি নির্ভর, ঋণ নির্ভর বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।  এ বাজেটের ৪ ভাগের এক ভাগ ব্যাংক ঋণ, সঞ্চয়পত্র থেকে আহরণ করা হবে।  এ ছাড়া চাল আমদানিতে ২৮ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে।  এ কারণে দাম বাড়বে।  গত বছরের বিশাল বাজেট কাটছাট করে অনেক কমে গিয়ে ঠেকেছে।  রাজস্ব খাতে ধোকাবাজির জন্য অবাস্তবায়নযোগ্য বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ’

সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন, সিলেট চ্যাপ্টারের সভাপতি ফারুক মাহমুদ সুজন বলেন, ‘এবারের বাজেট নির্বাচনমুখী বাজেট।  বাজেটে অর্থ সংস্থানের যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে, তা ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা বেশি।  গত বছরের বাজেটও কাটছাট করা হয়েছিল। ’

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ বাজেটকে গণবান্ধব দাবি করে বলেন, ‘দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে।  মহাকাশেও বাংলাদেশ ঠাঁই করে নিয়েছে।  এ বাজেট দেশকে এগিয়ে নেয়ার বাজেট। ’


keya