২:৩৪ এএম, ২১ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




বাজারের সাথে তিন গ্রামের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র ভরসা বাশেঁর সাকোঁ

০৩ জুলাই ২০১৯, ০৫:৫৭ পিএম | নকিব


তোফায়েল পাপ্পু, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিক্কা, দোকানগাঁও গ্রামের মানুষের সিন্দুখাঁন বাজার, সাতগাঁও বাজার, সিন্দুরখান ইউনিয়ন পোষ্ট অফিস, হাসপাতালসহ শ্রীমঙ্গল শহরের সাথে যোগাযোগের জন্য উদনা ছড়া নামক ছড়াটি  পারাপারে একমাত্র ভরসা ঝুঁকিপ‚র্ণ বাঁশের সাঁকো। 

জানা গেছে, উপজেলার সিন্দুরখান ইউনিয়নে সাতগাঁও  বাজার সংলগ্ন ছড়ার উপড় দিয়ে প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনটি গ্রামে প্রায় ৫ হাজার মানুষ চলাচল করে আসছে।  এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাশ দিয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করে।  একটি ব্রিজের অভাবে গ্রামবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন।  

এলাকার বিশিষ্টজনেরা জানান, এই সাকোঁ দিয়ে তিন গ্রামের মানুষ শ্রীমঙ্গল শহর, সিন্দুরখাঁন, সিক্কা বাজার ও সাতঁগাও বাজারে যাতায়াত করে।  এছাড়াও গ্রামের স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা বাঁশের ঝুঁকিপ‚র্ণ সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করছে।  

প্রতিদিন শত শত নারী, শিশু, পুরুষ এ সাকোঁ দিয়ে যাতায়াত করে।  ব্রিজ না থাকায় ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স এ গ্রামগুলোতে প্রবেশ করতে পারে না। 

সেতু না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।  শুধু বাঁশের একটি সাঁকো অত্রাঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা।  যা বর্ষার সময় মানুষের দুর্ভোগ এর শেষ থাকে না।  

এখানে একটি সেতু নির্মিত হলে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। 

গ্রামবাসী মো: আব্দুল আওয়াল বলেন, আমরা এই পার থেকে ওই পারে যেতে হলে আমাদের একমাত্র যোগাযোগের ভরসা হচ্ছে এই বাশেঁর সাকোঁ।  গ্রামের ছেলে মেয়েরা পাশের গ্রামে অবস্থিত বিদ্যালয়ে যেতে হলে এই সাকোঁ দিয়ে চলাচল করতে হয়।  এক গ্রামের কৃষক অন্য গ্রামে কৃষি কাজ করে থাকে।  কৃষি পন্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের বড় কষ্ট হয়। 

মো: খালেদ হোসেন জানান, প্রতি বছরই দেখা যায় এই সাকোঁটির বাশঁ ভেঙ্গে যায়, নড়বড়ে, কোন কোন জায়গায় বাশঁ ভেঙ্গে পরে যায়।  তাতে জীবনে ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।   এই ছড়ার উপর পাকা ব্রিজ নির্মাণ করা প্রয়োজন। 

এলাকাবাসীরা জানান, গর্ভবতী মহিলাদেরকে জীবনের ঝুকিঁ নিয়ে এই সাকোঁর উপড় দিয়ে হাসপাতালে আসা যাওয়া করতে হয়।  এলাকায় কোথাও আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার কোন পথ নেই।  তাছাড়া একজন মানুষ মারা গেলে এই সাকোঁ দিয়ে ঝুকিঁ নিয়ে লাশ নিয়ে সাকোঁ পারাপার করতে হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দা ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক, রুপজান বিবি, আতিকুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন জানান, এ উপজেলার সব এলাকায় রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ হলেও এই গ্রামের চিত্র ভিন্ন।  রাস্তা পাকাকরণ ও সেতু না থাকার কারণে এ এলাকার লোকজনকে এখনও পায়ে হেঁটে যাতায়াত ও মাথায় করে তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন পণ্য হাট-বাজারে আনা নেওয়া করতে হয়।  

এছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিভিন্ন অফিসের লোকজন ও রোগীদের চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  

এব্যাপারে সিন্দুরখান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হেলাল জানান, এখানে ব্রিজ নির্মান করার জন্য উপজেলা পিআইও অফিসে আবেদন দেয়া আছে।  মৌলভীবাজার -৪ আসনের (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) এমপি এখানে এসে বলেছেন শীঘ্রই ব্রিজ নির্মানের ব্যবস্থা করা হবে।  আমরা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছি সরকারি খাতে বরাদ্দ আসলেই এখানে ব্রিজ নির্মান করা হবে।