৬:০৬ এএম, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার | | ২৩ সফর ১৪৪১




বিদ্যুৎ দেবে ৮ কোম্পানি শিল্পে শতভাগ

২২ জুলাই ২০১৯, ১০:২৬ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম :  পরীক্ষামূলকভাবে আটটি এলাকার শিল্পে শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। 

ময়মনসিংহ, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার একাংশের পল্লী বিদ্যুতের আট সমিতিকে এ জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।  পাওয়ার সেল-সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। 

বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, ওই এলাকার পল্লী বিদ্যুতের আট সমিতিতে দেখা গেছে, ৮১ ভাগ পর্যন্ত শিল্প বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে।  কিন্তু উদ্যোক্তারা গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ না নিয়ে নিজস্ব ক্যাপটিভ জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।  কেবল নিজেদের জেনারেটরে যদি কোনও সমস্যা হয়, তখন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া হচ্ছে। 

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন শিল্প উদ্যোক্তারা এখন নিজস্ব জেনারেটরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন।  আর গ্রিডকে রেখেছেন বিকল্প হিসেবে।  কিন্তু গ্রিডকে রাখা উচিত ছিল প্রধান সোর্স আর তাদের জেনারেটর রাখা উচিত ছিল বিকল্প হিসেবে। 

তবে, এককভাবে শিল্প উদ্যোক্তাদের দায় দিতে রাজি নন এই কর্মকর্তা।  তিনি জানান, শিল্প মালিকরা আমাদের বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা নিয়ে আস্থাহীনতায় রয়েছেন।  এমন অনেক শিল্প রয়েছে, তাদের জন্য এক মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেই অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।  ফলে  বিদ্যুৎ বিভাগ কোনও ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না বলেও এই কর্মকর্তা জানান। 

কী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে পাওয়ার সেলের পরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘‘আমরা বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ‘এন মাইনাস ওয়ান’ প্রযুক্তি গ্রহণ করছি।  এর অর্থ হচ্ছে, বিদ্যুৎ সরবরাহে দুটি লাইন থাকবে।  কোনও কারণে একটি লাইনে সমস্যা হলে আরেকটি লাইন চালু হয়ে যাবে।  শিল্প উদোক্তা এটি বুঝতেও পারবে না।  এই পরিকল্পনা চাইলেই দেশের সবস্থানে এক সঙ্গে করা যাবে না।  এটি ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া।  প্রাথমিকভাবে যেসব এলালায় শিল্প ঘনত্ব বেশি, ওইসব এলাকায় আমরা কাজ শুরু করবো।  পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও গাজীপুরের আটটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে ঘিরে। ’’

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. শফিক উল্লাহকে প্রধান করে এ বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়।  ওই কমিটি শিল্প মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে।  শিল্প মালিকরা গ্রিড থেকে বিদ্যুৎও নিতে চান।  তবে, তাদের দাবি, এই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হতে হবে।  অন্যদিকে সরকার শিল্প মালিকদের জন্য আলাদা দরও নির্ধারণের কথা ভাবছে। 

ওই কমিটির একজন সদস্য জানান, এখন ফ্ল্যাট রেট শিল্পে প্রতি ইউনিট রয়েছে ৮ টাকা ৪৪ পয়সা।  আমরা একটু কমিয়ে আট টাকা ৪০ পয়সা করলেও অনেক গ্রাহক এতে আগ্রহী হবেন।  বিশেষ করে যারা ফার্নেস তেল দিয়ে শিল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে তারা লাভবান হবে।  সাধারণত ফার্নেস তেলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১১/১২টাকা ইউনিট প্রতি খরচ পড়ে।  তবে, সম্প্রতি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় ক্যাপটিভে উৎপাদন খরচও বাড়ছে।  এরসঙ্গে জেনারেটর কেনা ও রক্ষাণাবেক্ষণ খরচ যোগ করলে শিল্প মালিকদের আলাদা ব্যয়ও বাড়বে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।  গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিলে যা আর থাকবে না। 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বলছে, উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট।  কিন্তু গ্রাহকদের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে ১২ হাজার মেগাওয়াট।  এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে থাকলেও আরও সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট কেন্দ্রকে বসেই থাকতে হচ্ছে।  এই বাড়তি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে সরকার বিপাকে রয়েছে। 

শিল্প মালিকরা এই বিদ্যুৎ নিতে সম্মত হলে কয়েক শ’মেগাওয়াট অলস বসে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে পারবে পিডিবি।