১:৪০ পিএম, ২০ জুন ২০১৮, বুধবার | | ৬ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো কৈফিয়তের মুখে

১১ জানুয়ারী ২০১৮, ১২:২৬ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেন সংযোগ নয়, বিতরণ কোম্পানির কাছে তার কৈফিয়ত চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। 

সংযোগ বাণিজ্য বন্ধে সব ধরনের গ্রাহকরা আবেদনের কত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।  কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিতরণ কোম্পানি সরকারের নির্দেশনা মানছে না।  এমনকি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংযোগ দিতে না পারলে ব্যর্থতার কারণ গ্রাহককে জানানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।  বিতরণ কোম্পানি সেই বাধ্যবাধকতার কথাও মানছে না। 

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত সংযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।  বিতরণ কোম্পানিগুলো সরকারের এই নির্দেশনা মানতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে কিনা তা প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। 

বিতরণ কোম্পানিগুলো জানায়, আবেদনের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত না করা, লাইন সম্প্রসারণ, লোড, নতুন সাবস্টেশনের জায়গায় না পাওয়া. মামলাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না তারা। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০২১ সালের মধ্যে দেশের সব ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।  বিদ্যুৎ বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।  পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড অবশ্য আরও একধাপ এগিয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে সারাদেশে তাদের সব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।  এজন্য উপজেলাভিত্তিক শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।  সরকার বলছে, এখন দেশের ৭৮ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।  তবে এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌর প্যানেল ব্যবহার করে কিছু মানুষ বিদ্যুৎ সরবরাহ নিচ্ছে।  যাদের হার মোট ব্যবহারকারীর ৫ ভাগ বলে মনে করে বিদ্যুৎ বিভাগ। 

সরকার বলছে, যাদের গ্রিডের বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হবে না তাদের সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।  সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে দ্রুত সংযোগ দেওয়ার কোনও বিকল্প নেই বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। 

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আবেদন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোনও কোম্পানিই সংযোগ দিতে সরকার বেঁধে দেওয়া সময়ের বাধ্যবাধকতা মানছে না।  বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, গত নভেম্বর মাস পর্যন্ত ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৬টি নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন জমা পড়েছে।  এরমধ্যে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৫০টি সংযোগ দেওয়ার কথা সাতদিনের মধ্যে, ৯০ হাজার ৯৪৪টি সংযোগ দেওয়ার কথা ১৫ দিনের মধ্যে এবং ৯৩ হাজার ৯৬টি ২১ দিনের মধ্যে সংযোগ দেওয়ার কথা।  কিন্তু এরমধ্যে ৪৮ হাজার ৯১০টি সংযোগ এখনও দিতে পারেনি বিদ্যুৎ বিতরণকারী ৫টি সংস্থা।  বিতরণকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ২৪৪টি, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ৪৭ হাজার ৫০৯টি, ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ  কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৩০৮টি, ঢাকা বিদ্যুৎ সরবরাহ কোম্পানি (ডেসকো) ২০৭টি এবং পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৬৪২টি সংযোগ দিতে পারেনি। 

চলতি সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় বিতরণ কোম্পানিগুলোর কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংযোগ না দিতে পারার কারণ জানতে চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।  সভায় বিতরণ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ডিপিডিসি নির্ধারিত সময়ে সংযোগ না দিতে পারার জানালেও অন্য বিতরণকারী কোম্পানিগুলো অবশ্য বৈঠকে কোনও কারণ জানায়নি। 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নতুন সংযোগের জন্য আবেদন করা একাধিক গ্রাহক জানান, আবেদনপত্রের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র দরকার তা ঠিকমতো জমা দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে তারা সংযোগ পাননি।  আবার ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেওয়ার পরও তাদের সংযোগের জন্য দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে।  অনেক সময় কী কারণে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না তাও জানানো হয় না। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহিদ সারওয়ার বলেন, গ্রাহকদের যেমন কিছু সমস্যা হয় তেমনই বিতরণ কোম্পানিগুলোরও কিছু সমস্যা আছে।  গ্রাহকরা অনেক সময় নতুন সংযোগের আবেদন করলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন না।  পরে যাচাই বাছাই করে আবার তথ্য চাইতে হয়।  অন্যদিকে, ডিমান্ট নোট ইস্যুর পর অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে অনেকে টাকা জমা দেন না।  এই কারণেও সংযোগ পেতে দেরি হয়।  এর বাইরে বিতরণ কোম্পানিগুলোরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।  তিনি জানান, অনেক সময় নতুন সংযোগ দিতে হলে ওই এলাকায় নতুন সাবস্টেশন বসানোর প্রয়োজন হয়।  কিন্তু জমি না পাওয়ার কারণে সাবস্টেশন বসানো যায় না।  তিনি উদাহরণ হিসেবে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার কথা বলেন।  তিনি জানান, ওই এলাকায় নতুন সংযোগ আপাতত দেওয়া যাচ্ছে না।  কারণ, নতুন সাবস্টেশন বসানোর জমি পাওয়া যাচ্ছে না। 

তিনি আরও জানান, সাবস্টেশন ছাড়াও অনেক সময় লোড কম থাকার কারণেও সংযোগ দিতে দেরি হয়।  যেমন টঙ্গী এলাকায় লোড সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যাচ্ছে না। 

ডিপিডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ দেওয়ান বলেন, ছোট ছোট সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হয় না।  সমস্যা হয় বড় সংযোগের ক্ষেত্রে।  এক্ষেত্রে কাগজপত্রও বেশি প্রয়োজন হয়।  অনেকসময় প্রয়োজনীয় কাগজ নতুন সংযোগের জন্য আগ্রহীরা জমা দেন না।  আবার অনেক সময় কাগজ জমা দিলেও দেখা যায় তার অন্য আরেকটি সংযোগের বিদ্যুতের বিল বকেয়া আছে।  সেক্ষেত্রেও সংযোগ দেওয়া যায় না।  তিনি জানান, এই সমস্যাগুলো আরও ভালোভাবে যাচাই বাছাইয়ের জন্য আগামী সপ্তাহে গ্রাহকদের নিয়ে শুনানি করতে যাচ্ছে ডিপিডিসি।  এতে শুনানিতে যেসব অভিযোগ আসবে তা তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করা হবে। 

পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন বলেন, বিতরণ কোম্পানিগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  এক্ষেত্রে যেসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে তা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে কোম্পানিগুলোকে।  প্রয়োজনে আবেদনকারী গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান করতে হবে।  তিনি বলেন, কোম্পানিগুলোর কাছে কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।  তারা সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নিদের্শনা দেওয়া হবে।