৫:৫২ এএম, ২২ জুন ২০১৮, শুক্রবার | | ৮ শাওয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বিদেশী গণমাধ্যমে কোটা সংস্কারের আন্দোলন

১০ এপ্রিল ২০১৮, ০৩:০৫ পিএম | সাদি


এসএনএন২৪.কম : বাংলাদেশের কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে দেশী গণমাধ্যমের পাশাপাশি সরব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও।  এ নিয়ে এ পর্যন্ত প্রতিবেদন করেছে দেশের বাইরের একাধিক বার্তাসংস্থা, দৈনিক পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেল। 

বার্তাসংস্থা এএফপি তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে শতাধিক আহত হওয়ার পর সোমবার সারাদেশে হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি করেছে। 
 
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করছে।  পুলিশ তাদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে। 

এএফপির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত এক দশকে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাকে। 
 
রবিবার রাতের সহিংসতার কথা উল্লেখ করে বার্তাসংস্থাটি আরো লিখেছে, সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে।  কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে ‘সংস্কার চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকে।  এ সময় ছাত্রীরাও আন্দোলনে যোগ দিতে রাস্তায় নেমে আসে। 
 
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও জাহাঙ্গীরনগর ‍বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের কথাও উল্লেখ করেছে তারা।  এএফপির মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা নিয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।  এতে বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকেই চাকরির মাত্র ৪৪ শতাংশের জন্য লড়তে হয়। 

এএফপির প্রতিবেদনটি থেকে নিয়ে প্রতিবেদন করেছে অনেকেই।  ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল, ভারতের মুম্বাই মিরর, পাকিস্তানের ডন, দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল, তুরস্কের সাবাহসহ আরো অনেক গণমাধ্যম এএফপির বরাত দিয়ে সংবাদ প্রচার করেছে। 
 
সিঙ্গাপুরের গণমাধ্যম স্ট্রেইট টাইমস লিখেছে, ঢাকার রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।  আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বৈষম্যমূলক কোটা সংস্কারের দাবিতে তাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। 
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলার কথাও উল্লেখ করেছে গণমাধ্যমটি। 
 
মার্কিন গণমাধ্যম ফক্স নিউজ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।  অতীতে পশ্চিমা দেশগুলোর শিক্ষাঙ্গনগুলোতে যে ধরনের আন্দোলন হতো, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও একইভাবে অবস্থান কর্মসূচি ও ক্লাস বর্জন চালিয়ে যাচ্ছে। 
 
ফক্স নিউজও লিখেছে, গত ১০ বছরে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  শিক্ষার্থীদের রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপের জন্য পুলিশ ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা। 
 
গণমাধ্যমটির মতে, কোটা ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ও নতুন গ্র্যাজুয়েটদের নিজের দেশে চাকরি পেতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।  ইউনেসকোর এক জরিপ মতে, কাজের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন ৯০ জন বাংলাদেশী দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমায়। 
 
রুশ গণমাধ্যম স্পুটনিক লিখেছে, সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে রবিবার রাতভর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।  শাহবাগ মোড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।