১১:২৬ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০১৭, শনিবার | | ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৯

South Asian College

বন্যায় ভেসে তাঁরা বাংলাদেশে

১৫ আগস্ট ২০১৭, ১০:২৫ এএম | এন এ খোকন


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি : ‘আমরা জারি ধরলা চর থেকে জীবন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি।  অনেক মানুষ সেখান থেকে ভারতে ঢুকতে পেরেছে।  কিন্তু আমরা ৭-৮শ’ লোক সেখানে আটকা ছিলাম।  পরে শ পাঁচেক মানুষ বাংলাদেশের দিকে চলে আসি।  বিজিবির লোকজন যদি আমাদের ঢুকতে না দিতো তাহলে ধরলার বন্যার পানিতে ডুবে আমরা কয়েকশ’ মানুষ নিশ্চিত মারা যেতাম। ’কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশের লালমনিরহাটে আশ্রয় নেওয়া ভারতীয় নাগরিক বছির উদ্দিন (৭৫)। 

এসময় তিনি স্থানীয় লোকজন ও বিজিবি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ধরলার ভয়াবহ বন্যা থেকে জীবন বাঁচাতে ভারতীয় দুই গ্রামের প্রায় আট শতাধিক ভারতীয় নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশের লালমনিরহাট জেলার মোগলহাট ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন। 

শনিবার সন্ধ্যায় এসব ভারতীয় লোকজন লালমনিরহাটের সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়ন ও আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামে স্থানীয় লোকজনের বাড়ি, ফাঁকা জায়গা ও পাকা রাস্তার ওপর আশ্রয় নিয়েছেন।  ভারতীয়দের মধ্যে অনেকের সঙ্গে বাংলাদেশিদের পূর্ব পরিচয় থাকার সুবাধে বাড়িতেও আশ্রয় পেয়েছেন এমনটাই দাবি করেন ভারতীয় দরিবাস এলাকার বাসিন্দা ছামিদুল হক। 

সোমবার দুপুরে (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে মোগলহাট ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভারতীয় এসব দুর্গতরা বাংলাদেশি স্থানীয় লোকজনের বাড়িতে উঠেছেন।  কেউ কেউ পাকা রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন।  তাদের মধ্যে আর্জিনা খাতুন (৩৫) সাড়ে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।  তিনি ভারতীয় জারি ধরলা চরে বসবাস করেন।  তিনি ৩ মেয়ে ও ১ ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে স্বামী ইকুল হকসহ (৪৪) দুর্গাপুরের কুমারপাড়ায় অবস্থান নিয়েছেন।  তার প্রতিবেশী এক সন্তানের জননী মেহের বানীও (২৩) এসেছেন।  মেহের বানীর স্বামী দিল্লিতে একটি সেলাই কারখানার শ্রমিক।  বাংলাদেশে তাদের কোনও অসুবিধা হয়নি বলে জানান। 

চার শিশু সন্তানকে নিয়ে বাংলাদেশি ফজলুল হকের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া ছামিদুল হক বলেন, ‘বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না।  যদি বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া না হতো তাহলে এসব দুর্গত লোকজন ধরলার ভয়ঙ্কর বন্যার পানিতে ভেসে মারা যেত। ’

একই ইউনিয়নের কর্ণপুর এলাকার অপর আশ্রয়দাতা ফজলুল হক ও তার স্ত্রী গোলে খাতুন বলেন, ‘ভারতের জারি ধরলা চরের বাসিন্দা বছির উদ্দিন (৭২) ও তার স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন (৬৩) নিরুপায় হয়ে একটু আশ্রয়ের জন্য বাংলাদেশে ঢুকেছেন।  এ জন্যই তাদের থাকার জায়গা করে দিয়েছি।  যদিও আমাদের বাড়িতেও এক হাঁটু পানি উঠেছে। ’

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চওড়াটারী এলাকার বাসিন্দা রিয়াজুল হক (৪৪) বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য।  প্রাকৃতিক মহা বিপর্যয়ের সময় কারও দেশ থাকতে নেই।  ভারতীয় লোকজন জীবন নিয়ে এসেছে একটু আশ্রয়ের জন্য।  এ কারণেই আমার ধান শুকানোর চাতালের ফাঁকা জায়গায় কিছু লোকজনকে আশ্রয় দিয়েছি।  তাদের সঙ্গে গরু-ছাগলও আছে। ’

লালমনিরহাট উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি মোগলহাট বিজিবি কোম্পানির সদস্যরা আশ্রয়ের সন্ধানে আসা ভারতীয়দের প্রবেশে বাধা দেয়। 

পরে আমি লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক গোলাম মোর্শেদকে অনুরোধ করার পর মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে প্রবেশের অনুমতি দেন তিনি।  তাদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।  বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেই ভারতীয়রা নিজ দেশে ফিরে যাবেন। ’

লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পরিচালক লে. কর্নেল গোলাম মোর্শেদ বলেন, ‘প্রায় পাঁচ শতাধিকের মতো ভারতীয় নারী-শিশু ও পুরুষ লোকজন বাংলাদেশে এসেছে।  মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদেরকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।  তাদের খোঁজখবর রাখছে বিজিবির সদস্যরা। ’


Abu-Dhabi


21-February

keya