১২:৩৩ এএম, ২৫ আগস্ট ২০১৯, রোববার | | ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি বাঘাইছড়িতে সড়ক পথ ভাংগন মৎস্য ও কৃষিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

১৮ জুলাই ২০১৯, ১১:১১ এএম | নকিব


জগৎ দাশ,বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি : রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় টানা বর্ষনে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে উপজেলার নিম্নঞ্চলের আট ইউনিয়ন সহ পৌর এলাকার বাসিন্দারা। টানা ১০দিনের ভারি বর্ষনের ফলে  পানিবন্ধি  হয়ে সকল ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও কর্মহীন হয়ে পড়ে উপজেলাবাসী। স্কুল কলেজ মাদ্রাসা সহ সরকারি সকল দপ্তরের কার্যক্রমে নেমে আসে স্থবিরতা। 

শনিবার থেকে পানি কমতে শুরু করলে জনমনে স্বস্তি প্রকাশ করে সাধারন জনগন। শনি ও বরিবার থেকে আশ্রয় কেন্দ্র ছেরে ঘর মুখি হয়েছে বানবাসিরা। 

ঘরে গিয়ে ও ভোগান্তির কমতি নেই বানবাসিদের।  উপজেলার বেশির ভাগ ঘরবাড়ি বাশেঁর বেড়া টিনের ছাউনি ও কাচাঁ মাটির ঘর হওয়াতে পানির স্রোতে অধিকাংশ ঘরবাড়িতে থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বন্যায় ঘর ছাড়া বানবাসিরা নতুন করে ঘর মেরামত করে উপযুগী করে সময় ও অর্থের ঘাটতি টানতে হচ্ছে তাদের। এদিকে বন্যা পরবর্তীতে ডুবে যাওয়া নিম্নঞ্চল পানি সড়ে গিয়ে  সড়ক পথ ঘর বাড়ি ভেসে উঠলে দেখা যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার অভ্যান্তরিন সড়ক পথের। 

ভোগান্তির যেন কোন কমতি নেই উপজেলাবাসীদের। সরেজমিনে দেখা যায়, পানির তিব্র স্রোতে উপজেলার হাজি পাড়া হতে বাবু পাড়া মাইনিমুখ সড়কের দুই স্থানে দেখা যায় সড়কের ব্যাপক ভাংগন।  বন্যার পানির তিব্র স্রোতে   হাজি পাড়া ও বাবু বৌদ্ধ মন্দির এলাকায় কার্পেটিং তুলে নিয়ে বিশাল আকারের  বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এদিকে বারিবিন্দু ঘাট হয়ে বঙ্গলতলী ও সাজেক মুখি ভায়া সড়কে করেঙ্গাতলী বাজারের সিবিট বাগান এলাকায় সড়কের মাটি ধসে পড়ে উপজেলার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ওই এলাকার মানুষ।  অপরদিকে পৌর এলাকার মডেল টাউন হয়ে রুপকারী বঙ্গলতলী সড়কে মডেল টাউন এলাকায় উচু পাহাড়েরর মাটি ধসে সড়কের উপর পড়লে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। 

মডেল টাউন থেকে খাদ্য ঘুদামের আরসিসি  সড়কের মাটি সড়ে গিয়ে সড়কটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এছাড়া ও উপজেলার বিভিন্ন সড়ক পথ বন্যা কবলিত হয়ে  আংশিক  ক্ষতিসাধিত হয়। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পথ দ্রুত মেরামত করে সড়ক যোগাযোগ পুনরক্ষা সহ জনগনে ভোগান্তি দুর করতে যথাযথ কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে এলাকাবাসী। অপরদিকে বানবাসিদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামতে সরকার সুদৃষ্টি কামনা করেন ভুক্তভোগীরা।  আপরদিকে মৎস্য খাত কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানা গেছে। 

বাঘাইছড়ি মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত)নব আলো চাকমা বলেন,১৮ লক্ষ মাছের পোনা ৪২ টি পুকুর আংশিক ডুবে গিয়ে আনুমানিক ১ কোটি পচিশ লক্ষ টাকা মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। অপরধিকে কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, উপজেলার পৌর এলাকা সহ ৮ ইউনিয়নে আনুপাতিক হারে হিসাব মতে, বীচতলা বন্যায় নিমজ্জিত হয় ৩৫ হেক্টর,আউস ধান ৫০ হেক্টর,সবজি ১২০ হেক্টর জমির চাষাবাদে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আংশিক  ক্ষয়ক্ষতির আনুমানি টাকার পরিমান ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা হতে পারে বলে সম্ভাব্য ধারনা দেন বাঘাইছড়ি উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহম্মদ। তিনি আরো বলেন,সবজি আউস,বীচতলায় ক্ষতি কম হওয়াতে ৬ -৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে ক্ষতির পরিমান। যদি অধিক হারে বন্যায় নিমজ্জিত হতো তবে ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল।  কৃষি জমি থেকে এখনো পরিপূর্ণ ভাবে পানি সরে না যাওয়াতে আনুমানি ধারনা প্রকাশ করেন উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা। 

বন্যা ও বন্যা পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু বলেন,বাঘাইছড়িতে এবারের বন্যায় পৌরসভা ও ৮ ইউনিয়নের ১৭ গ্রামের ২৬৩৩ পরিবার বন্যা কবলিত হয়। ১৫ টি আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যা কবলিত ক্ষতিগ্রস্ত লোক সংখ্যা ১১ হাজার নব্বই জনকে উপজেলা প্রশাসন ২০ মেঃটন খাদ্যশষ্য চাউল শুকনা খাবার পানি বিশুদ্ধকরণ টেবলেট তাৎক্ষনিক ভাবে বানবাসিদের প্রদান করা হয়। 

এদিকে বন্যা পরবর্তী সড়ক পথ সহ কৃষি ও মৎস্যর ক্ষয়ক্ষতি নিরপন করা হয়েছে যথাযথ কতৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে বলে নিশ্চত করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান হাবিব জিতু। 


keya