৮:৪২ এএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার | | ১৬ শা'বান ১৪৪০




বিমানের বিড়ম্বনা আর কতকাল, কতিপয় কর্মকর্তাদের দূর্নীতিতে দূ্র্ভোগের শিকার যাত্রীরা

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:২২ পিএম | জাহিদ


এম.এনাম হোসেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত : বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এর যাত্রী হয়রানির বিষয়টি নতুন নয়।  যাত্রীরা বিমান ভ্রমণে শতভাগ স্বাচ্ছন্দ্যতা গ্রহন করতে পারছেনা।  কারন কতিপয় কর্মকর্তাদের সীমাহীন দূর্নীতি। 

বিশেষ করে সাধারণ প্রবাসীরা, হাজারো অভিযোগের পরেও স্বদেশ প্রেমকে সামনে রেখে ভ্রমণের জন্য দেশিয় এয়ার লাইন্সকে বেছে নিয়ে থাকেন।  তবে সে স্বদেশ প্রেমের কারনে অনেক চাকরিজীবী প্রবাসীকে পারমিট হারাতে হয়েছে, গুনতে হয়েছে বড় অঙ্কের জরিমানা।  তারপরেও স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার কোন ঘাটতি নাই তাদের।  কিন্তু সে প্রবাসীদের প্রতি বাংলাদেশ বিমানের চরম অবিচারের কথা শোনার মত নির্দিষ্ট কতৃপক্ষের হাতে সময় নেই। 

যার কারনে কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের অনিয়ম প্রবাসী সাধারণ যাত্রীদের জন্য বিমান আজ এক অভিশাপে পরিনত হয়েছে।  রাষূর এই গ্রাস থেকে বিমানকে উদ্ধার না করলে অদূর ভবিষ্যতে বিমান ভ্রমণ থেকে যাত্রীরা মূখ ফিরিয়ে নিতে পারে বলে ও মন্তব্য করেছেন সম্প্রতি বিমানের বিড়ম্বনার শিকার দুবাই ফেরত মোহাম্মদ রুবেল নামের এক যাত্রী। 

চট্টগ্রাম থেকে দুবাই অভিমুখে বিমানের বিজি-০১৪৭ নাম্বারের ফ্লাইট টি গত ২ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭:৪৫ টায় উড্ডয়নের কথা থাকলেও তা আধ ঘন্টা বিলম্বে বিমান বন্দর ত্যাগ করেন।  নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে উক্ত ফ্লাইটটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।  দেরিতে হলেও যাত্রীরা দুবাই পৌঁছাতে পেরেছে কিন্তু পৌঁছেনি যাত্রীদের ব্যাগেজ ও প্রয়োজনীয় মালামাল।  লেপ্ট ব্যাল্টের কাছে যাত্রীদের হাতে ছোট একটি টোকেন দিয়ে Danata (Dubai National Air Travel Agency) লেপ্ট ব্যাগেজ সেকশন  থেকে ব্যাগ আসলে ফোন করা হবে কিংবা নির্দিষ্ট ( Danata mishandled baggage services.call center-00971600570006 Email-DanatacustomerservicesMHB@danata.com) নাম্বারে ব্যাগ বাংলাদেশ থেকে আসছে কিনা জেনে নিতে বলা হয়েছে।  আর সেই ব্যাগেজ পেয়েছে দুইদিন পর। 

ফ্লাইটে বিদেশি ও বাংলাদেশি মিলে শত শত যাত্রী থাকে, আর এইসব যাত্রীদের তখনই বিপত্তিতে পড়তে হয়, যখন ব্যাগেজ বেল্টের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে জানতে পারেন তার ব্যাগেজ একই ফ্লাইটে আসেনি। 


যাত্রীদের অভিযোগ বিমানের কতিপয় কর্মকর্তা কর্মচারী বিমান নিয়ে সিন্ডিকেট বানিজ্য চালাচ্ছে।  এই সিন্ডিকেটের পিছনে কোন অপশক্তি জড়িত না থাকলে যাত্রীদের সাথে হয়রানির মত প্রতারণা করতে পারেনা।  মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ রাসেল মিয়া, মোহাম্মদ রুবেল নামের এই ফ্লাইটের কয়েকজন ক্ষোব্ধ যাত্রী যাদের সিট নাম্বার যথাক্রমে 10B, 28B ও 24D সহ আরো বেশ কয়েকজন যাত্রী উক্ত প্রতিবেদককে ক্ষোভের সাথে তাদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন বিমানের অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীরা যাত্রীদের মালামাল না এনে নিশ্চয়ই কার্গো বহন করছেন। 

এইটা যাত্রীদের সাথে প্রতারণার শামিল।  আমরা বিমান ভ্রমণে আগ্রহ হারাচ্ছি কতিপয় ঐ দূষ্কৃতদের কারনে।  আমরা এর প্রতিকার চাই।  উন্নত দেশ সমুহ যেখানে আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার দৌড়ে আছে এবং এয়ার লাইন্স সার্ভিসে অত্যাধুনিকের স্বপ্ন দেখছেন আর বিপরীতে বাংলাদেশ বিমানের ভুড়ি ভূড়ি এই অভিযোগ গুলো নিশ্চয়ই ভাবিয়ে তুলবে।  সরকার দেশ পরিবর্তনের জন্য কাজ করছেন, কিন্তু কতিপয় ও অসৎ ব্যক্তিদের কারনে সরকারি সেক্টর প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে‌।  বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের প্রতি আস্থা অব্যাহত রাখতে যাত্রীদের অভিযোগ গুলো নির্দিষ্ট কতৃপক্ষ তথা  সরকারের মাননীয় বিমান চলাচল মন্ত্রী মহোদয়ের খতিয়ে দেখা দরকার। 

যাত্রী সেবার মান, দীর্ঘদিনের অভিযোগ ব্যাগেজ বিড়ম্বনার অবসান সহ সময় সূচির বিষয় গুলোকে কতৃপক্ষের নজরদারিতে রাখা খূব প্রয়োজন বলে মনে করছেন দুবাই প্রবাসী কয়েকজন কমিউনিটি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।  যেখানে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের লাগেজ পাওয়ার জন্যে দেড় থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বিমান বন্দরে৷ যেভাবে লাগেজ ছুড়ে ফেলে ক্ষতি করা হয়, তাও পৃথিবীর অন্য কোনো বিমানবন্দরে দেখা যায় না৷ আসলে ছয়-সাত হাজার কর্মকর্তার কাজ যে কী, তা জানা এবং ব্যবস্থা নেয়া জরুরি মনে করছেন এসব  প্রবাসী নেতৃবৃন্দ। 

এমনিতেই জন্মের পর থেকে বিমান সোজা হয়ে কখনো দাঁড়াতে পারেনি৷ অনিয়ম-দুর্নীতি-চুরির খনি হিসেবে পরিচিত পেয়েছে বাংলাদেশ বিমান৷ সুনামের সঙ্গে কখনো যাত্রী বহন করতে পারেনি, বহন করেছে দুর্নাম৷ ভ্রমন কারী সাধারণ যাত্রীদের জন্য  কাষ্টমার ডেস্কের ব্যবহার সহজ হওয়া দরকার।  

কিন্তু দূঃখ জনক হলে ও সত্য যে, বিমানের সেবা ডেস্কের সেবা দান সম্পর্কে যাত্রীদের অবহিত করন কোন সেমিনার করেনা।  যার দরুন সাধারণ যাত্রীরা বিমান ভ্রমনে সংশ্লিষ্ট খুঁটিনাটি বিষয়ে তড়িৎ কোন সমাধা পাইনা।  যাত্রী সেবার মান উন্নয়ন ও সিডিউল কন্ট্রোল যাত্রীদের অন্যতম চাহিদা।  যাত্রী সেবার মান বাড়িয়ে দিলে লোকসান থেকে সহজেই বের হয়ে আসা সম্ভব হবে বিমানের। 

এমনিতেই প্রতিবছর কয়েক'শ কোটি টাকা লোকসান দিয়ে, চুরি-চোরাচালানিদের স্বর্গ হিসেবে চলছে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স৷ সে ক্ষেত্রে কতৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিকল্প কিছু নেই।