১০:২২ এএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০


বাম দলগুলোর চেয়ে বেশি কদর ইসলামী দলগুলোর : নির্বাচন

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১০:০২ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বামধারার দলগুলোরে চেয়ে ইসলামী দলগুলোর গুরুত্ব যে অনেক গুণে বেশি, তা আগামী নির্বাচনেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘নিরাপদ সমঝোতার’ মাধ্যমে যদি হেফাজতের পাঁচ শতাংশও ভোট টানতে পারেন, তাহলে তা সংখ্যার দিক থেকে দেশের সব বাম দলগুলোর নিজস্ব ভোটের চেয়েও অনেক বেশি হবে। 

তারা বলছেন, সংগত কারণেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোকে কাছে টানার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি।  আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে হেফাজতে ইসলামের কিছু দাবি মেনে নিয়ে তাদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।  বিএনপিও নানা কৌশলে হেফাজতকে কাছে টানার চেষ্টায় আছে।  শুধু হেফাজত নয়, অন্য ইসলামী দলগুলোকেও জোটভুক্ত করার চেষ্টা করছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো।  ফলে নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত সব ইসলামী দলের কদর বাড়ছে।  তবে যুদ্ধাপরাধের কারণে জামায়াতের প্রতি বিএনপি ছাড়া অন্য দলগুলোর আগ্রহ নেই।  তাই বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছে জামায়াত। 

জানা গেছে, পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন দলে নতুন পরিচয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে।  নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্রমতে, আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির নেতৃত্বে পৃথক দুটি জোটসহ মোট ৪টি জোট আত্মপ্রকাশ করতে পারে।  জাতীয় পার্টি ৫৬টি দল নিয়ে আলাদা জোট গঠন করেছে, জোট ভেঙেও গেছে। 

গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্রও জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী দলগুলোর কদর বাড়ছে।  হেফাজতে ইসলাম (অরাজনৈতিক), খেলাফত মজলিশ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন, ইসলামী ঐক্যজোটের একটি অংশকে কাছে টানার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট।  লক্ষ্য আসন্ন নির্বাচনে জোটের শক্তি, সমর্থন ও ভোট বাড়ানো। 

সরকারি দল আওয়ামী লীগ সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের কিছু দাবিদাওয়া মেনে নিয়েছে।  কওমি মাদ্রাসার সনদের স্বীকৃতি, দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়া, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের মামলা শিথিলকরণের প্রতিশ্রুতি এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে ভাস্কর্য অপসারণের দাবিতে ঐকমত্য পোষণের মধ্য দিয়ে (এখনও) অরাজনৈতিক এই সংগঠনটিকে আশাতীত সুবিধা ও মর্যাদা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। 

এদিকে বিএনপি জোট হেফাজতে ইসলামসহ অন্যান্য ইসলামী দলগুলোর সমর্থন পেতেও তৎপরতা চালাচ্ছে।  ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলে হেফাজতের অবস্থান কর্মসূচিতে বিএনপির পূর্ণ সমর্থন ও অংশগ্রহণের প্রস্তুতির কারণে এতদিন বিএনপির প্রতি দেশের ধর্মীয় এই বড় সংগঠনটি মৌন সমর্থন ছিল।  তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা (আমির) আল্লাম আহমত শফীর সাক্ষাৎ পরিস্থিতি পালটে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  তবে থেমে নেই বিএনপি। 

এদিকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী দলগুলোর কদর বাড়লেও জামায়াত-শিবির আপাতত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।  যুদ্ধাপরাধ, আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাস, বোমাবাজি, হত্যাসহ নানা অভিযোগের কারণে জামায়াত জনমনে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আপাতত কেউ তাদের কাছে টানছে না।  তবে গোয়েন্দা সংস্থার মতে, জামায়াতকে যতই দূরে রাখা হোক নির্বাচনের সময় তারা তাদের পছন্দের জোটকে ভোট দেবে।  দলটির নেতাকর্মীরা নতুন করে নানা পরিচয়ে জেলায় জেলায় গণযোগাযোগ করছেন।  চলছে বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। 

অপর এক সূত্র মতে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপি ছাড়াও আরও ২টি জোট হতে পারে।  এর মধ্যে বাম সংগঠন, গণফোরাম, কিশোর শ্রমিক জনতা লীগ, বিকল্পধারা মিলে একটি জোট ও এরশাদের নেতৃত্বে আলাদা জোট।  এ নিয়ে এখন হিসাব নিকাশ চলছে।  দলগুলো বিভিন্নভাবে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে।