৭:৩১ এএম, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ২০ মুহররম ১৪৪১




বরগুনায় সরকারী পরিপত্র অমান্য করে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য

২৬ মে ২০১৯, ০৩:৫৩ পিএম | জাহিদ


মো.মেহেদী হাসান, বরগুনা : বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের গর্জনবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন অতিরিক্ত ক্লাশের নামে চলছে রমরমা কোচিং বানিজ্য।  ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার সরকারী পরিপত্রকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বিভিন্ন ক্লাশের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৪ টি ব্যাচে প্রতিদিন কোচিং চালাচ্ছেন বলে এলাকার একাধীক ব্যক্তির কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যায়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, গর্জনবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ক্লাশ রুমে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার প্রায় ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করছেন। 

শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ৭ টা থেকে শুরু করে ১১ টা পর্যন্ত ১ ঘন্টা করে ৪ টি ব্যাচে প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠদান করেন এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই পাঠদানের বিনিময়ে তিনি অর্থ নিয়ে থাকেন। 

৯ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জানা যায়, শুধুমাত্র গনিত বিষয়ে পাঠদান করে তাদের কাছ থেকে ৫’শ টাকা করে সম্মানী নিয়ে থাকেন প্রধান শিক্ষক।  ১০ম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থী বলেন, হেড স্যার কোচিংএ আমাদের কাছ থেকে ৩’শ টাকা করে আদায় করেন। 

এলাকার মোঃ ফোরকান বলেন, এই স্কুলে হেড মাষ্টারের নেতৃত্বে ব্যবসা বানিজ্যের মত রাতে ও সকালে প্রতিদিন বিভিন্ন ক্লাশের কোচিং চলে এবং কোচিং এর বিনিময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ৫’শ টাকা করে নেয়া হয়। 

স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা যায়, কিছু দিন আগে এক হিন্দু মেয়ে শিক্ষার্থী কোচিং এর নাম করে বাড়ী থেকে বের হয়ে এক মুসলমান ছেলের সাথে পালিয়ে যায়।  দু’দিন পর ওই ছেলে মেয়েকে নিয়ে এসে প্রধান শিক্ষক ছেলের পক্ষ থেকে মোটা অংকের টাকা খেয়ে শালিস ব্যবস্থার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করে পারেননি, পরে এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে। 

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার কোচিং এর সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, এলাকার শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মতামত নিয়ে বিশেষ করে তাদের দরখাস্তের ভিত্তিতে পাঠদান করছি। 

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নলটোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, এই স্কুলে কোচিং চালানো সপূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।  এর পরেও যদি কোচিং চলে তাহলে এ বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। 

এ ব্যাপারে বরগুনার জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ বলেন, কোচিং বানিজ্য বন্ধ্যের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।  কোচিং বানিজ্য শতভাগ বন্ধ করতে পেরেছি এ দাবী আমি করছিনা তবে, গর্জনবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যাপারে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নেবো।  তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক বা যে কেউ এ ব্যাপারে দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।