৫:৩৬ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার | | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪০




‘বার্ধক্য’ নিয়ে ভাবনা কবি আল মাহমুদের

০৩ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৩৬ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : এটাই জীবন।  বলা চলে চক্রে বাধা।  শৈশব থেকে যৌবন, সেখান থেকে বার্ধক্য।  তারপর নিঃশেষ।  বিশ্বাসীদের কাছে, নিঃশেষ থেকেই শুরু অনন্ত জীবন, পরকাল। 

কবিরা সব সময় আলাদা।  ছন্দে বেধে ফেলতে পারেন হাজারো কাল।  শব্দের সঙ্গে শব্দজুড়ে নিয়ে যেতে পারেন অজস্র বছর পূর্বে।  আবার ভাষার যাদুতে ঘুরিয়ে আনতে পারেন ভবিষ্যতে।  তাদের ধী শক্তিটা সব সময় ব্যতিক্রম। 

তাইতো বার্ধক্যে আসার আগেই বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ লিখেছেন তার বার্ধক্য ভাবনা।  কিন্তু, কালের চক্রে কবি নিজেও এখন বার্ধক্যে।  বাক শক্তি হারিয়েছেন বছরখানেক।  এখনতো শয্যাশায়ী।  অন্যের সাহায্যে জীবনকে টেনে নিচ্ছেন। 

‘সাহসের সমাচার’ নামক নিবন্ধসমগ্রের ‘পার হয়ে যাচ্ছি’- তে কবি আল মাহমুদ নিজের উপলব্ধি বর্ণনা করেছেন— বার্ধক্য কোনো উপভোগের বিষয় নয়।  তবে অনেক দুঃখ, বিপদ, ঝড়ঝঞ্ঝা পেরুনোর অভিজ্ঞতার নামই বার্ধক্য।  এ অবস্থাটি পেরিয়ে যাচ্ছি।  আমিতো বলতে চাই।  কিন্তু আমার ঠোঁট কাঁপতে থাকে।  যে কথাটা বলব, সেটা বদলে গিয়ে অন্য কথা প্রকাশ হয়ে পড়ে। 

আমি যে ভাষার অর্থ বুঝি না, সেটাই শব্দ হয়ে ছন্দ হয়ে গন্ধ প্রকাশ করে।  আমি চলে যাই নিরুদ্দেশের দিকে।  আমার কেবলই আছে বুকের মধ্যে হাত রেখে নিশ্বাসের শব্দ শুনে যাওয়া।  আমি গণনা করে কোনো শেষ করতে পারি না।  অথচ গুণতে গুণতেই আমাকে পার হয়ে যেতে হচ্ছে। 

কি পার হচ্ছি, সেটাও তো ঠিকমতো ধরতে পারছি না।  তবুও পার হচ্ছি।  শব্দ, গন্ধ এবং বন্ধ দুয়ার ক্রমেই খুলে যাচ্ছে।  আমি খিল খোলার শব্দের মধ্যে সমস্ত জগত অতিক্রম করে যাচ্ছি।  বুঝতে পারছি, আমার কোনো গন্তব্য নেই।  তবে বিশ্রাম নেয়ার একটা প্রবল বাসনা আছে। 

একই নিবন্ধসমগ্রের ‘মহাকাল’- এ বার্ধক্যের বাস্তব উপলব্ধি কবি বর্ণনা করেছেন এভাবে— আমার মতো বয়স্ক মানুষেরও দিন কেটে যায়।  সন্ধ্যা বেলায় রাত্রি নেমে আসে, দু’টি চোখ এক করতে পারি না, কী যেন এক চিন্তায় চোখের পাপড়ি সিক্ত, অবসন্ন হয়ে থাকে। 

আবার ‘কোথায় যাও পথিক’- এ আশি বছর ধরে নিজেকে হাঁটিয়ে নিয়ে এসেছেন বহুদূরে এক অজ্ঞাত অসাধারণ বাঁশির সুরে।  নিজের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, কোথায় যাও পথিক!

কবি আল মাহমুদের শৈল্পিক কবিতার মতোই এসব গদ্যে তার বার্ধক্য, জীবন মন্থন করা অভিজ্ঞতা, জীবন-মূল্যবোধ, উপলব্ধি ও দার্শনিক ভাবনা, জীবন-জরা-মৃত্যু ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে। 



keya