১:৫৯ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার | | ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




বেরোবিতে কারণ ছাড়াই হলের কর্মচারীকে মারধর

২৭ এপ্রিল ২০১৯, ০৯:৫০ পিএম | জাহিদ


শিপন তালুকদার, বেরোবি : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহীদ মুখতার ইলাহী হলে বিনা কারণে হলের কর্মচারীকে মারধর করেছে ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল ইসলাম জয়।  এ ঘটনায় শুক্রবার থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ডাইনিং বন্ধ রেখেছে কর্মচারীরা।  এতে বিপাকে পরেছে হলে অবস্থানকারি পাঁচশত শিক্ষার্থী। 

প্রত্যক্ষ দর্শী সূত্রে জানা যায়, প্রতি দিনের মতো বৃহস্পতিবার রাতেও হলে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের আগেই জয়ের কক্ষে খাবার পৌঁছে দেয় ডাইনিং কর্তৃপক্ষ।  কিন্তু হঠাৎ করে রাত ১০টায় জয় ডাইনিং ক্যাশিয়ার কমল কে খুজতে থাকে।  তাকে না পাওয়ায় ডাইনিং কর্মচারী জাকিরকে বেধড়ক মার ধর করেন।  এ সময় কেন মারধর করা হচ্ছে জানতে চাইলে আবারও মারধর করেন জয়।  ঘটনার পর জয় নিজেই ডাইনিং কক্ষের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন।  

হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা জানান, হল প্রশাসন জয়ের ব্যাপারে সবই জানেন কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেন না।  তবে জয়ের এমন আচরণে বিরক্ত সংগঠনটির নেতা-কর্মীরাও। 

অপরদিকে জয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে ডাইনিং কর্মচারীদের চাকরি থাকবেনা এমন আশংকায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করার সাহস পাননি ভুক্তভোগী  ডাইনিং কর্মচারী জাকির। 

জাকির হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ নেতা জয় ডাইনিং ক্যাশিয়ারকে খুঁজছিলেন।  তাকে না পেয়ে আমাকে কোনো কারণ ছাড়াই এলোপাথাড়ি মারধর করেন। 

কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিষয়টা অস্বীকার করে মাহমুদুল ইসলাম জয় বলেন, এটা ভুল বোঝাবুঝি।  বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া বলেন, কাউকে মারধর করা এটি অত্যন্ত খারাপ কাজ।  আমি বিষয়টা নিয়ে বসবো।  

শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট ফেরদৌস রহমানের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। 

এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি দৈনিকসংবাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আল-আমীন হোসেন ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সৌম্য সরকার হলের বৈধ আসনে উঠতে গেলে জয়ের নেতৃত্বে হামলাচালিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয় তাদের।  ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী  সাংবাদিক আল-আমিন হোসেন তাজহাট থানায় মামলাও করেন।  যার তদন্ত চলমান রয়েছে।  ঐ ঘটনায় গত ৩১ জানুয়ারি শহীদ মুখতার ইলাহী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ফেরদৌস রহমানকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর ছদরুল ইসলাম সরকারকে সদস্য সচিব এবং ওই হলের সহকারী প্রভোস্ট ড. রশিদুল ইসলামকে সদস্য করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।  দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা করার কথা থাকলেও আজও তদন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি বলে কমিটি সূত্র জানায়।