৭:০৭ এএম, ২০ আগস্ট ২০১৮, সোমবার | | ৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৩৯


বরিশালে বিএনপিকে শেষ দিনের প্রচারণায় মাঠেই নামতে দেই প্রশাসন

২৮ জুলাই ২০১৮, ০৯:৪৮ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : শেষ দিনের নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপিকে মাঠেই নামতে দিল না স্থানীয়।  শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরীর সদর রোডে দলীয় কার্যালয় থেকে নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে প্রচারণার উদ্দেশে বের হতে চেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের বাধার মুখে পড়েন বিএনপির মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার।  পরে বাধ্য হয়ে দলীয় কার্যালয়ের নিচে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সভা করেন তারা। 

এসময় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চান, উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেড আলী হায়দার বাবুল সহ বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

সভায় মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, কতটা নির্লজ্জ হলে একটা সরকার আমাদের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে? তারা পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে আমাদের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করেছে।  অন্যদিকে নিজেরা রাস্তাঘাট বন্ধ করে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে পথসভা করেছে।  বিশাল শোডাউন করেছে।  এই সরকার চরম অন্যায় করেছে। 

এবায়েদুল হক চান বলেন, এই সরকার ভয়ঙ্কর ও নির্লজ্জ।  তারা আমাদেরকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেয়নি।  সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসন দিয়ে বাধা দেয়া হয়েছে।  আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। 

বিএনপি নিন্দা:

এদিকে বরিশালসহ দেশের বাকি দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণায় বাধা দেয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি।  দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শনিবার পৃথকভাবে এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। 

এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বরিশাল সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল বরিশাল দক্ষিণ জেলাধীন বাবুগঞ্জ উপজেলা যুবদল সভাপতি আওলাদ হোসেন, গৌরনদী উপজেলা যুবদল সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান খান, উজিরপুর থানা ছাত্রদল যুগ্ম আহবায়ক তাওহিদ বিন লাবিদ, যুবদল নেতা সরোয়ার মোল্লা ও মোঃ বুলবুলসহ অনেক নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। 

তিনি বলেন, আসলে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কিত করতেই আসন্ন তিনটি সিটিতে গ্রেফতারী অভিযান বেপরোয়া গতিতে চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।  বরিশালে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।  ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করতেই সরকার এধরণের ঘৃণ্য পন্থা অবলম্বন করছে।  আমি উল্লিখিত নেতাকর্মীদেরকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি। 

রুহুল কবির রিজভী সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বরিশালে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণায় ম্যাজিস্ট্রেট নিজে উপস্থিত হয়ে প্রচারণা বন্ধ করে দিয়েছে; কিন্তু প্রশাসনের ছত্রছায়ায় পুলিশী পাহারায় আওয়ামী লীগের প্রচারণা চলছে দেদারসে।  বিএনপির প্রচার মিছিলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে।  নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাসায় বাসায় তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে পুলিশ।  ধানের শীষের এজেন্টদেরকে পুলিশ হুমকি দিচ্ছে, গ্রেফতার করছে।  পুলিশ রক্ষী বাহিনীর দায়িত্ব পালন করছে।  যতদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকবে ততদিনই গণতন্ত্রের জন্য বিপদ।  আমি গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও তাদের নি:শর্ত মুক্তির জোর দাবি করছি।