৭:২৬ এএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার | | ৬ সফর ১৪৪০


বর্ষায় কিছু নিয়ম মেনে চলুন, সুস্থ থাকুন

২৫ জুলাই ২০১৮, ০২:৪৪ পিএম | মাসুম


এসএনএন২৪.কম : বর্ষাকালে যতই বৃষ্টির আনন্দ থাকুক না কেন, অসুখ-বিসুখের প্রকোপ থেমে থাকে না।  চার দিকে ভেজা ভেজা পরিবেশ।  দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা।  সর্দি, কাশি, জ্বর, বর্ষার সাধারণ রোগ।  এ ছাড়া রয়েছে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো মারাত্মক রোগ।  ডেঙ্গুর প্রকোপও দেখা দেয় এ সময়।  বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, বর্ষাকালে আবহাওয়া থাকে স্যাঁতসেঁতে, সে কারণে কিছু রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।  একটু সাবধানতা অবলম্বন করে চললেই এসব রোগ থেকে রক্ষা পেয়ে বর্ষা কাটিয়ে দেয়া যায় নিরুদ্বিগ্নভাবে।  তাই বর্ষায় সুস্থ থাকতে হলে মেনে চলতে হবে কিছু নিয়ম। 

- যাদের বৃষ্টির পানিতে ভিজলে ঠাণ্ডায় অসুস্থ হওয়ার সমস্যা থাকে, তাদের বৃষ্টিতে ভেজা থেকে দূরে থাকতে হবে।  যদি বৃষ্টিতে ভিজে যান তাহলে যত দ্রুত সম্ভব ভেজা স্থান শুকিয়ে নিতে হবে।  ভেজা কাপড় তাড়াতাড়ি পাল্টে নিতে হবে।  বৃষ্টির পানি শরীরের যেখানেই লাগুক পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। 

১: বর্ষায় চুলেরও যত্ন নিতে হবে।  চুল ভেজা থাকলে গন্ধ ছড়ায়।  এ ছাড়া ফাঙ্গাল ইনফেকশন ছড়াতে পারে।  সে কারণে বৃষ্টিতে চুল ভিজলে বাসায় এসে চুল মুছে খোলা রেখে ধীরে ধীরে শুকিয়ে নিতে হবে।  এ ছাড়া হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করা যেতে পারে।  বর্ষায় খুশকি সমস্যাও দেখা দেয়, সে কারণে একদিন পরপর শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। 

২- বর্ষাকালে যে রোগ বেশি দেখা দেয় তা হলো সর্দি-কাশি বা জ্বর।  সাধারণত সর্দি-কাশি, ভাইরাস জ্বর দু-এক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়।  বেশি প্রয়োজন হলে প্যারাসিটামল-জাতীয় ট্যাবলেট খেলে কাজ হবে।  জ্বর কয়েক দিন স্থায়ী হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাতে হবে। 

৩- বর্ষায় যেসব রোগ হয় তা সাধারণত পানিবাহিত।  অবশ্যই পানি ফুটিয়ে, ছেঁকে পান করতে হবে।  গোসল, অজু, কুলি করা, হাত-মুখ ধোয়া, থালাবাসন ধোয়া, কাপড় ধোয়া ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত পানি বিশুদ্ধ পরিষ্কার হতে হবে। 

৪- যাদের অ্যাজমা বা সাইনাসের সমস্যা আছে, তাদের একটু বে+শি সতর্ক থাকতে হবে।  শরীর ভেজা রাখা যাবে না।  স্যাঁতসেঁতে ঘরে থাকা যাবে না।  প্রচুর আলো-বাতাস আসে এমন ঘরে বাস করতে হবে। 

৫- বর্ষায় সাধারণত চর্মরোগ বেশি হয়।  চর্মরোগ থেকে বাঁচতে অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।  হাত ও পায়ের নখ পরিষ্কার রাখা জরুরি।  অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 

৬- শিশুদের ক্ষেত্রে বর্ষায় বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে।  কারণ ঠাণ্ডায় শিশুদের টনসিলের ব্যথা এমনকি নিউমোনিয়া হতে পারে।  শিশুদের ডায়রিয়া হলে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।  বর্ষাকালে বাড়িতে খাবার স্যালাইন, প্যারাসিটামল-জাতীয় ট্যাবলেট হাতের কাছে রাখুন। 

৭- সকালে ঘুম থেকে উঠে কুসুম গরম পানির সাথে মধু খেলে সারা দিন শরীর চাঙ্গা থাকবে।  এ ছাড়া গোসলের সময় হালকা গরম পানি ব্যবহার করা যেতে পারে। 

৮- বর্ষায়ও প্রচুর ঘাম হয়ে থাকে।  এ থেকে মুক্তি পেতে ঘাম হলেই মুছে ফেলতে হবে।  ঘামের কারণে অনেকের পায়ের মোজা থেকে গন্ধ বের হয়।  এর জন্য বারবার মোজা বদলে ফেলতে হবে।  সুতি মোজা পরতে হবে।  মোজা পরার আগে পায়ে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে।  এতে গন্ধ কিছুটা কমবে।  এ ছাড়া ভেজা পা যত দ্রুত সম্ভব শুকিয়ে ফেলতে হবে। 

৯- বর্ষায় শহরাঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়।  এ সময় ডেঙ্গু যেন না ছড়ায় সে জন্য বাসার আশপাশে যেসব জলাধার বা পানি জমে এমন পাত্র সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।  ঘরের দেয়ালে যেন পানি পড়ে ফাঙ্গাস না জন্মায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।  ঘর যাতে স্যাঁতসেঁতে হয়ে না থাকে সে ব্যবস্থা করতে হবে।  কারণ এ থেকে রোগবালাই হয় বেশি। 

১০- বর্ষায় গ্রামাঞ্চলে পোকামাকড়, সাপ ও জোঁকের উৎপাত বেশি হয়, সে কারণে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। 


keya