৭:২৮ পিএম, ১৭ জুলাই ২০১৮, মঙ্গলবার | | ৪ জ্বিলকদ ১৪৩৯


বোরো ধান আক্রান্ত হচ্ছে ব্লাষ্ট ভাইরাসে শঙ্কিত কৃষকরা

০৯ এপ্রিল ২০১৮, ১০:৪৩ এএম | জাহিদ


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জে প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের চলতি মৌসুমে গোলায় তোলার পুর্বেই তাহিরপুর সহ তিন উপজেলার হাওরের ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান বøাষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।  ক্রমশই এ রোগ ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে শঙ্কিত হয়ে ওঠেছেন হাওর পাড়ের কৃষকরা।  জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তর ইতিমধ্যে তিন উপজেলায় বøাষ্টরোগে আক্রান্ত ১২০ হেক্টর  জমি চিহ্নিত করেছে। 

সরজমিনে গেলে স্থানীয় কৃষকরা রোববার শঙ্কা প্রকাশ করে জানান, এ বছর বোরোর ‘ফলন ভাল হলেও ব্লাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়ে ধানের গোছা ( গোটা আসা ধানের গোছা) সাদা হতে থাকায় তাদের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হয়েছে। 

রোববার জেলার তাহিরপুরের শনির হাওর ও মাটিয়ান হাওর ঘুরে দেখা গেছে, ‘কেবল ব্রি-২৮ জাতের ধানই বøাষ্ট ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।  জমিতে চাষ করা ব্রি-২৮ ধানের শীষ (ধানের গোটা) বের হওয়ার পরই শীষ হলুদ রং ধারণ করে সাদা হয়ে যায়।  আর শীষের নীচের অংশের গিঁটের ভেতর কালো রং ধারণ করে।  বøাষ্ট ভাইরাসে আক্রান্ত শীষে ধান হয় না।  সব ধানই সাদা রং ধারণ করে চিটা হয়ে যায়। 

কৃষকরা জানিয়েছেন, উপজেলার শনির হাওরের একাংশ, আঙ্গারুলি, মাটিয়ান ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও গ্রামের পাশের হাওরে ২৮ জাতের ধানে বøাষ্ট ভাইরাস দেখা দিয়েছে। 

উপজেলার শনির হাওরপাড়ের গোবিন্দশ্রী গ্রামের কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন,‘শনির হাওরে আড়াই একর জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষাবাদ করেছি করেছি।  ২-৩ দিন আগে থেকে ধানের শীষ সাদা হতে দেখি।  কৃষি কর্মকর্তাকে বলার পর তারা এক ধরনের স্প্রে এনে জমিতে দেবার জন্য বলেন।  প্রতি একর জমিতে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ করে স্প্রে ব্যবহার করছি, কিন্তু কাজ হচ্ছে বলে মনে হয়নি আমার।  এই অবস্থা দেখে ভীষণ চিন্তিত আমি।  প্রতিদিনই আক্তান্ত জমির পরিমাণ বাড়ছে। 

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আঙ্গারুলি হাওরের ব্রি-২৮ জাতের ধানে বøাস্ট ভাইরাসের আক্রমণ শুরু হয়েছে।  দ্রুত পুরো হাওরে ছড়িয়ে পড়ছে এই রোগ। 

তাহিরপুরের বালিজুড়ী ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আতাইর রহমান রোববার বলেন,‘আঙ্গারুলি হাওরের কমপক্ষে ৫০ হেক্টর জমিতে ব্লাষ্ট ভাইরাস আক্রমণ করেছে।  এই হাওরে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর এ দু’উপজেলার কৃষকরা  প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে এ মৌসুমে বোরো আবাদ করেছেন এখন  দ্রুত ভাইরাস ছড়ানোয় কৃষকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। 

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন,‘ তাহিরপুরে এই পর্যন্ত ৩০ হেক্টর জমিতে এ রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।  তবে প্রকৃতি বিরূপ থাকলে দ্রুত এ রোগ আরো বিস্তার লাভ করবে। 

জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের দায়িত্বশীলরা বলেছেন,‘বøাষ্ট ভাইরাস থেকে ধান রক্ষা করতে প্রচারপত্র বিলিসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা হাওরে গিয়ে ওষুধ স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন। ’ কৃষি কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন,‘ধান গাছ একটি পর্যায়ে আসার পর (ধানের গোটা আসার পর) ওষুধ স্প্রে করলে এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যায় না, কিন্তু ২-৩ দিন বৃষ্টি হলেই এই ভাইরাস থাকবে না। ’ কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি পুরো জেলায় এই পর্যন্ত ১২০ হেক্টর জমির ধান বøাষ্ট ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।  কৃষকদের দাবি আক্রান্ত জমির পরিমাণ আরো অনেক বেশি। 

ধর্মপাশা উপজেলার কয়েকটি হাওরে গত দুইদিনে ২৫ হেক্টর জমির বোরো ফসল বøাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।  ক্রমশ এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে ব্রি- ২৮ জাতের সতেজ ধান গাছগুলোতে। 

উপজেলার মধ্যনগর থানার শালদিঘা, বোয়ালা, কাইল্যানি, বাইনছাপড়াসহ বিভিন্ন হাওরের বোরো ফসলে বøাষ্ট রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।  গত শুক্রবার সকাল থেকে এসব হাওরের কৃষকেরা তাদের জমিতে ছত্রাক জাতীয় ব্লাষ্ট রোগের লক্ষণ দেখতে পান।  ধানের শীষ বের হওয়ার পর তা বিবর্ণ হয়ে বিনষ্ট হচ্ছে।  স্থানীয় কৃষক ও জন প্রতিনিধিরা শনিবার বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে জানান। 

মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রবীর বিজয় তালুকদার জানান, মোহনগঞ্জ থেকে ২০টি স্প্রে মেশিন মধ্যনগরে সরবরাহ করা হয়েছে।  ওইসব হাওরে অর্ধশতাধিক স্প্রে মেশিন সরবরাহ করা হলে বালাইনাশক ব্যবহার দ্রত শেষ করা যাবে। 

ধর্মপাশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শোয়েব আহমেদ রোববার জানান, মধ্যনগরের কয়েকটি হাওরে ২৫ হেক্টর জমির ফসল বøাষ্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে।  তবে স্প্রে মেশিনের স্বল্পতার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন। 

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি স¤প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক স্বপন কুমার সাহা রোববার  বলেন, জেলায় এ মৌসুমে‘২ লক্ষ ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে।  ফসলের সার্বিক অবস্থাও ভালোই।  কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে কোথাও কোথাও বøাষ্ট রোগের আক্রমণ হয়েছে।  জেলার ৩ টি উপজেলার ১২০ হেক্টর জমিতে বøাষ্টের আক্রমণ হয়েছে।  বিশেষ করে ২৮ ধানে এ রোগের প্রকোপ বেশী। 

এ ব্যাপরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সহ সবাই কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন, লিফলেট বিতরণ করছেন, বিভিন্ন বিষয়ে প্রেসক্রিপশন করছেন।  মূলত. জমিতে প্রয়োজনীয় পানি না থাকায় এ রোগ দেখা দিয়েছে।  অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে বøাষ্টের প্রকোপ কমে আসবে।