৩:২৭ পিএম, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৬ শাওয়াল ১৪৪০




বিলাইছড়িতে ভিজিডি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ!

২৯ মে ২০১৯, ০৫:৪৪ পিএম | জাহিদ


পুষ্প মোহন চাকমা, বিলাইছড়ি (রাঙামাটি) : বিলাইছড়িতে ভিজিডি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।  বুধবার (২৯ মে) বিলাইড়ি বাজারস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে ভিজিডি সুবিধাভোগীদের মাঝে বিগত ফেব্রুয়ারী ২০১৯ মাসের ভিজিডি চাল বিতরণ করেন ২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ।  এ সময় সুবিধাভোগীরা ভিজিডি চাল বিতরণে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন। 

অভিযোগ ওঠে খোলা চাল ৩০ কেজি পরিমাপে বিতরণ করলে চালের পরিমাপ কমে যায়।  প্রতি ৩০ কেজিতে গড়ে ২৬ থেকে ২৮ কেজিতে দাঁড়ায়।  ক্ষেত্রমতে ২৪-২৫ কেজিও হয়।  এ কারণে চালের পরিমাপ অনিয়ম কমানোর জন্য সরকার সরাসরি ৩০ কেজির ইনটেক বস্তা প্যাকের মাধ্যমে ভিজিডি চাল বিতরণ ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন।  কিন্তু এবার এ নিয়ম ভেঙে কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ খোলা চাল বালতির মাধ্যমে মেপে ফেব্রুয়ারী মাসের ভিজিডি চাল বিতরণ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাপছড়ি, বেগেনাছড়ি ও হিজাছড়ি গ্রামের কয়েকজন সুবিধাভোগী।  

তারা আরও অভিযোগ করেন, যে চাল দেওয়া হয়েছে সেগুলো ঘুনেধরা পুরানো চাল।  কেহ কেহ বলছেন এসব চাল খাওয়ার অযোগ্য।  

অনেকে বলছেন তারা দর্গম অ লের সুবিধাভোগী তাই তাদের চাল বহন করে নেয়া অসম্ভব।  ফলে বাধ্য হয়ে তাদের চাল বিক্রি করে দিতে হয়।  তারা ৩০ কেজি ইনটেক চালের বস্তা প্যাক প্রতি ৭শ’ টাকা হতে ৮শ’ টাকায় পাবলিকের কাছে বিক্রয় করতেন।  কিন্তু এবারের খোলা ও পুরানো চাল মাত্র ৫শ’ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।  যা তাদের দূর থেকে আসা-যাওয়ার খরচও মেটেনি। 

সুবিধাভোগীরা মনে করেন জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসের ৩০ কেজি চালের প্যাক কোথাও পাচার করা হয়েছে।  তাই ৩০ কেজি প্যাক বস্তার শর্ট পড়ায় বড় বস্তা ভেঙে চাল বিতরণ করতে বাধ্য হচ্ছেন।  নতুবা অনিয়ম করে ৩০ কেজি বস্তা খাদ্যগুদামে রেখে দেওয়া হয়েছে।  এসব কি কারণে হচ্ছে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের প্রয়োজন বলে মনে করেন সুবিধাভোগীরা। 

কেংড়াছড়ি ইউনিয়নে চলতি মে মাসে সুবিধাভোগীরা সব মিলিয়ে মোট ৪ বার ভিজিডি চাল পেয়েছেন।  ২মে তারিখে এপ্রিল মাসের, ২৬ মে জানুয়ারী ও মে মাসের চাল পেয়েছেন এবং ২৯ মে ফেব্রুয়ারী মাসের ভিজিডি চাল পেয়েছেন বলে জানাগেছে।  

তবে মে মাসের ভিজিডি চাল ২৪ ও ২৬ মে দু’দিন বিতরণ করা হয়েছে।  

এ বিষয়ে ২নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়রম্যান অমরজীব চাকমাকে সেল ফোনে বার বার চেষ্টা করেও তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। 

খোলা চাল বিতরণ বিষয়ে ইগনর করে উপজেলা শিশু ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি যতটুকু জানি ভিজিডি চাল ৩০ কেজি বস্তায় দেওয়ার কথা।  খাদ্য অফিসকে অবশ্যই একশত পার্সেন্ট ৩০ কেজি প্যাকেটজাত বস্তা দেওয়ার কথা।  অপ্রতুলতার কারণে হয়তো খাদ্য গুদাম থেকে ৩০ কেজি প্যাক বস্তা দিতে পারেন নাই বলে জানান তিনি। 

এদিকে জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে নিয়মিত ভিজিডি চাল বিতরণ না হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে তিনি যথা সময়ে ডি.ও লেটার না পাওয়ায় নিয়মিত ভিজিডি চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান। 


keya